মুকুলই এখন মাথাব্যথার কারণ মমতা-অভিষেকের, ‘ঘরওয়াপসি’র আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ ভোটের মুখে
মেঘালয়ের ভোটের ফল কী হবে, কোনদিকে ঢলবে মেঘালয়ের মানুষ, তার উপর নির্বাচনোত্তর সমীকরণ নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে তৃণমূলে ভাঙন লাগতে পারে বলে আশঙ্কা।
ত্রিপুরার নির্বাচন শেষ, এবার নজর মেঘালয়ে। এই মেঘালয়ে এবার পা দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস রাতারাতি প্রধান বিরোধী দল বনে গিয়েছে। কংগ্রেস ছেড়ে বিরোধী দলনেতা-সহ ১২ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতেই বদলে গিয়েছে মেঘালয়ের রাজনীতির সমীকরণ। কিন্তু নির্বাচনের মুখে হঠাৎ আশঙ্কার কালো মেঘ তৃণমূলে।

দলবদলু মুকুলকে নিয়ে সংশয়ে তৃণমূল
এখানেও দলবদলু মুকুলকে নিয়ে গভীর সংশয়ে পড়েছে তৃণমূল। দল বদলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মুকুল সাংমা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের মুখে মেঘালয়ের আকাশে হঠাৎ ভাসতে শুরু করেছে তাঁকে নিয়ে মহা জল্পনা। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, মুকুলকে দলে ফেরাতে তৎপর কংগ্রেস।

তৃণমূল ছেড়ে আবার ঘরওয়াপসির শঙ্কা
শিলংজুড়ে চর্চা চলছে, নির্বাচনের পরে কংগ্রেসে ফিরতে পারেন মুকুল সাংমা। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন। ভোটের পর তৃণমূল ছেড়ে আবার তাঁর ঘরওয়াপসি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল পড়বে বিপাকে। তবে সবটাই নির্ভর করছে ভোটের ফলের উপর। এবার মেঘালয়ে এক অদ্ভুত সমীকরণে ভোট হচ্ছে।

তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মন ভেঙে দিতে রটনা!
মেঘালয়ের ভোটের ফল কী হবে, কোনদিকে ঢলবে মেঘালয়ের মানুষ, তার উপর নির্বাচনোত্তর সমীকরণ নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে তৃণমূলে ভাঙন লাগতে পারে বলে এখন থেকেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূল মনে করছে, ভয় পেয়ে শাসক জোট এমন রটনা শুরু করেছে। ভোটের আগে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মন ভেঙে দেওয়ার খেলা চালাচ্ছে তারা।

তৃণমূল সংঘবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী সরকার গড়তে
তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে, কংগ্রেসও আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা তুলতে এই ভাঙনের গুঞ্জন ছড়াতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস সংঘবদ্ধ রয়েছে। তারা আত্মবিশ্বাসী এবার সরকার গড়ার ব্যাপারে। মেঘালয়ে তারা সরকার গড়লে ১০০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে বলে জানিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রতিস্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন।

গোয়া-ত্রিপুরার পর মেঘালয়েই বেঁচে আশা
এর আগো গোয়া ও ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করেছে। গোয়ায় কংগ্রেস ভেঙে ইউনিট গড়ে নির্বাচনে লড়লেও নির্বাচনী ফলে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ত্রিপুরাতেও তেমন আশা নেই। কারণ ত্রিপুরায় মাত্র ২৮ আসনে লড়ছে তৃণমূল। ত্রিপুরায় ম্যাজিক ফিগার ৩১। বাকি থাকছে মেঘালয়।

রাতারাতি প্রধান বিরোধী, সরকার গড়াই চ্যালেঞ্জ
কংগ্রেসের একটা বড় অংশকে দলে শামিল করতে সফল হওয়ায় মেঘালয় নিয়েই সবথেকে বেশি আশা তৃণমূলের। আর এই নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্যোে পাধ্যায়ের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট হয়ে উঠেছে। কেননা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে মেঘালয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বড় শক্তি। রাতারাতি বিরোধী শক্তি বনে গিয়েই যদি আঞ্চলিক দলকে না হারাতে পারে তবে ২০২৪-এর আগে ধাক্কা খাবে তৃণমূলের মিশন।

মুকুল-গুঞ্জনে তৃণমূলের চাপ বাড়ছে ভোটের আগে
মেঘালয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। কংগ্রেস তাঁকে ঘরে ফেরাতে তৎপর হওয়ার গুঞ্জনে তৃণমূলের চাপ বাড়ছে ভোটের আগে। তিনি এবার তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন। দলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীও তিনি। ফলে তাঁকে ঘিরেই যাবতীয় আশা তৃণমূলের। এখন তিনি যদি ফের 'ঘরওয়াপসি' করেন, তবে বিপদে পড়বে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications