অযোধ্যার রায়! সুপ্রিম কোর্ট আর এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে কোথায় ফারাক হল
জমি নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন সমস্যা। যা মেটানোর চেষ্টা হয়েছে বারেবারে। কোনও সময় আদালতের মাধ্যমে।
জমি নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন সমস্যা। যা মেটানোর চেষ্টা হয়েছে বারেবারে। কোনও সময় আদালতের মাধ্যমে। আবার কোনও সময় আদালতের বাইরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে। তবে যে নির্দেশ ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল সবপক্ষ সেই নির্দেশ ২০১০ সালে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল তিনপক্ষের মধ্যে।

২০১০ সালে এলাবাহাদ হাইকোর্টের রায়
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমিকে তিনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনভাগে ভাগে করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। সেই তিন গোষ্ঠী হল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রাম লালা। একেবারে ভিতরের অংশ, যেখানে একটা সময়ে গম্বুজটা ছিল, তা দেবতার কাছে সমর্পণ করা হয়েছিল। রাম চবুত্র এবং সীতা রসই গিয়েছিলেন নির্মোহী আখড়ার কাছে আর মুসলিমদের দেওয়া হয়েছিল, বিতর্কিত জমির এক তৃতীয়াংশ।
একইসঙ্গে আদালতের তরফ থেকে তিনপক্ষের প্রত্যেককে বলে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে প্রত্যেকেরই ঢোকা বেরনোর অনুমতি দিতে হবে। এরপরেই তিনপক্ষই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।

'এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় ভুল ছিল'
এদিন রায়দান করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, অযোধ্যার জমিকে তিনভাগে ভাগ করে ভুল করেছিল এলাহবাদ হাইকোর্ট।

২০১৯-এ সুপ্রিম কোর্টের রায়
তিনি বলেন, হাদিশের ব্যাখ্যা আদালত করতে পারে না। আদালতকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বলে তিনি নির্মোহী আখড়ার আবেদন খারিজের কথা জানিয়েদেন। তিনি বলেন সবধর্মকে সুরক্ষা দেওয়া আদাবলতের কর্তব্য। পাশাপাশি জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসের ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে বিতর্কিত জমির মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়ে দেন তিনি। তিনি আরও জানান, মসজিদের নিচে থাকা সুবিশাল কাঠামো যেমন মুসলিম স্থাপত্যে তৈরি নয়, ঠিক তেমনিই স্থাপত্যে প্রমাণ হয় না, যে ওই স্থান হিন্দুদেরও। ১৮৫৬-৫৭ সাল পর্যন্ত সেখানে নমাজ পড়া হয়েছে কিনা তারও প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিতর্কিত জমি রামলালার
প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে বলেছেন বিতর্কিত জমি রামলালার। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যাতেই ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে। যার জন্য কেন্দ্রকে তিনমাসের সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিতর্কিত জমিতে মন্দির তৈরির জন্য তিন থেকে চার মাসের মধ্যে কেন্দ্রকে ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications