অশান্তি দিল্লিতেই অন্য ছবি, গোকুলপুরীতে বিয়ে সারলেন যুগল
চারদিকে জ্বলছে হিংসার আগুন তার মধ্যেই ফুটল প্রেমের ফুল। উত্তর–পূর্ব দিল্লির আক্রান্ত জায়গাগুলির মধ্যে গোকুলপুরী একটা, যেখানে সম্প্রতি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই গোকুলপুরীতেই হিংসার মধ্যেও ভালোবাসার মিলন ঘটল।

মহেন্দ্র কুমার ও সবিতা কাশ্যপ, দু’জনেরই বয়স ২০ বছর। শুক্রবার তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। এর চারদিন আগে তাঁদের আংটি বদলের অনুষ্ঠান হয়েছিল। বউয়ের বাবা রাজ বীর সিং বলেন, 'আমাদের এলাকাতেও যে সাম্প্রদায়িক হিংসা হবে তা আমরা কোনওদিন ভাবিনি। আমরা ব্যান্ড, ব্যানকোয়েট হল, ডেকরেটার্স, ক্যাটারার ও ডিজে বুক করেছিলাম ও তাঁদের অগ্রিম টাকাও দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রচুর টাকার ক্ষতি হল কারণ সকলেই এই অশান্তির মধ্যে আসতে রাজি হয়নি।’ এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা দিল্লিবাসী এর আগে কখনও দেখেনি। নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লির উত্তর–পূর্ব অঞ্চল। ক্রমাগত তিনদিন ধরে এই অশান্তি চলে এবং তাতে মৃত্যু হয় বহু মানুষের। এখনও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।
গোকুলপুরি সহ অন্যান্য এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে একমাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই যুগলের পরিবার এতকিছুর পরও বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দেয়নি। বউয়ের বাবা বলেন, 'আমি স্থির করে নিয়েছিলাম যে আমার মেয়ের বিয়ের দিন যে তারিখে ঠিক হয়েছে ওইদিনই বিয়ে হবে। আমি সন্তুষ্ট যে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান সফলভাবে হয়েছে। পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে।’
যদিও তড়িঘড়িতে এই বিয়ে হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়–পরিজনরাই। বিয়েতে দারুণ ডেকরেশন নেই, নেই কোনও ব্যানকোয়েট হল, না ছিল বিশাল অতিথিদের তালিকা। বরের ভাই হরিশ কুমার বলেন, 'আমার পরিবার প্রথমে এসে এলাকার পরিস্থিতি দেখে, যখন দেখল যে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে তখন আমরা ছোট করে ভাইয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করি।’ সবিতার মা বলেন, ’আমি গত একসপ্তাহ ধরে ঘুমোতে পারিনি। আমি এই ভেবে উদ্বিগ্ন ছিলাম যে আমাদের মেয়ের বিয়ের জন্য আমদের জড়ো করা জিনিসগুলি জনসাধারণ লুট করতে পারে। আমরা বিয়ের জন্য ভজনাপুরাতে হল বুক করেছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য আমাদের আত্মীয়রা ভজনাপুরাতে আসতে ভয় পাচ্ছিল। শুক্রবার পুলিশি পাহারায় আমরা আমাদের বাড়ির সামনেই বিয়ের ছোট করে অনুষ্ঠান করি।’












Click it and Unblock the Notifications