জাতীয় পশু ঘোষণা করে গরু-কে মৌলিক অধিকারও দেওয়া উচিৎ বলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
না কোনও হিন্দুত্ববাদী নেতা কিংবা বিজেপির কেউ নয়! এবার গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে মৌলিক অধিকার দেওয়ার বিষয়ে অভিমত যাক্ত করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট৷ সম্প্রতি একটি গোহত্যা বিষয়ক মামলায় রায় দিতে গিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি শেখর কুমার যাদব বুধবার গরুকে মৌলিক অধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন৷

কী বলেছেন এলাহাবাদা হাইকোর্টের বিচারপতি?
এদিন শেখর কুমার যাদব বলেন, গরু ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গোরক্ষার দায় শুধু কোনও একটি ধর্মের নয়। দেশের সবার উচিৎ গোরক্ষার দায়িত্ব নেওয়া। সরকারের উচিৎ বিল পাশ করে গরুকে অবিলম্বে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া। এবং তার মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি আরও বলেন, যারা গরুর ক্ষতি চায় তাদের বিরুদ্ধে কড়স আইন আনুক সরকার৷ এই বক্তব্যের সঙ্গেই গোহত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া একজন অপরাধী জাভেদের জামিন না মঞ্জুর করেছেন শেখর।

রায়ে আরও বলা হয়েছে
বৃদ্ধ-অসুস্থ অবস্থায়ও গরু মানুষের উপকারে লাগে। গোবর এবং প্রস্রাব কৃষিকাজে ও ওষুধ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। ভারতের বড় অংশের মানুষ গরুকে মা হিসাবে পূজা করে। তাই গরু বৃদ্ধ বা অসুস্থ হলেও কাউকে গো-হত্যার অধিকার দেওয়া যাবে না। শুধু হিন্দুরাই নয় বড় অংশের মুসলিমরাও গরুকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন৷ বাবর, হুমায়ুন, টিপু সুলতানদের মতো মুসলিম রাজাদের সময়ও গোহত্যা নিষিদ্ধ হয়েছিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল৷

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে বেড়েছে গরু নিয়ে আবেগ!
ভারতবর্ষের বেশিরভাগ হিন্দুবাড়িতে গরুকে পবিত্র পশু হিসেবে দেখা হয়৷ বিশেষ করে বিহার উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা-র একটা এলাকাকে ম্যাপে গো-বলয় বলে চিহ্নিত করে থাকেন অনেকে! কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশেই গরু নিয়ে আবেগ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ অসম, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি শাসিত সরকার সে রাজ্যগুলিতে আংশিক বা সম্পূর্ণ গোহত্যা নিষিদ্ধ করেছে৷ অসমে এরকমও আইন আনা হয়েছে যে হিন্দু মন্দির রয়েছে এরকম এলাকার ৫ কিলোমিটারের মধ্যে গোহত্যা করা যাবে না। যদিও এ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক তৈরি হয়েছ!

মেঘালয়ের বিজেপি নেতা বেশি করে গো-মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন!
একদিকে যেমন বিজেপি আসার পর গরু নিয়ে আবেগ বেড়েছে, ঠিক উল্টোভাবে কিছুদিন আগে মেঘালয়ের পশুমন্ত্রী সানবর শুল্লাই তাঁর রাজ্যের সবাইকে মাছ, মুরগি মাংসর থেকে বেশি করে গো-মাংস খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন৷ এবং দাবি করেছেন বিজেপি কখনও গো মাং ব্যান করবে না।

২০১৪-র পর বেড়েছে গোহত্যা নিয়ে আক্রমণ, বঙ্গে ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে গোমাংস খেয়ে প্রতিবাদ!
মোদী সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতবর্ষে বিভিন্ন জায়গাতে গোহত্যার অভিযোগে কয়েকজন আক্রন্ত হয়েছেন৷ কয়েকজন মারাও গিয়েছেন। ২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশের দাদরিরম বিসরা-তে বাড়িতে গো-মাংস রাখার অপরাধে জনরোশে খুন হন আকলাখ মহম্মদ নামে এক ব্যাক্তি৷ এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে সারা দেশে৷ ওই সময় এই খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মতলায় প্রকাশ্য দিবালোকে দাঁড়িয়ে গোমাংস খেয়েছিলেন কবি সুবোধ সরকার, সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সহ অনেক বুদ্ধিজীবী৷












Click it and Unblock the Notifications