'রাজনৈতিক ময়দানে রাজ্যপালের প্রবেশ মানা যায় না', কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোট গড়তে রাজনৈতিক ময়দানে রাজ্যপালের প্রবেশ মেনে নেওয়া যায় না। শুনানিতে এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।
রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোট গড়তে রাজনৈতিক ময়দানে রাজ্যপালের প্রবেশ মেনে নেওয়া যায় না। শুনানিতে এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চে সম্প্রতি শিবসেনার মধ্যে চলা বিবাদ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয়। আর সেই মামলাতে এমনই চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ আদালতের।

এই মামলায় মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কীভাবে শিবসেনা নির্বাচনের পর জোট ছেড়ে বেরিয়ে এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করে। এই বিষয়টি সুবিধাবাদী রাজনীতি বলেও ব্যাখ্যা করেন সলিসিটর জেনারেল। আর এরপরেই গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণ করে প্রধান বিচারপতির তৈরি স্পেশাল বেঞ্চ।
শিবসেনা বিধায়ক একনাথ শিন্ডে এবং উদ্ধভ ঠাকরের জোট তৈরির ফলে যে সংবিধানিক সমস্যা তৈরি হয় সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলার সাংবিধানি বেঞ্চে শুনানি চলছে। আর সেখানে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় ছাড়াও বিচারপতি এমআর শাহ, বিচারপতি কৃষ্ণা মুরারি, বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি পিএস নরসিমা রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এবং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের পক্ষের আইনজীবীরা মামলার শুনানিতে একাধিক যুক্তি তুলে ধরেন। আর সেই মামলাতেই যুক্ত করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের গভর্নরকেও। আর তা হয়ে সওয়াল করছেন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
মামলার শুনানিতে রাজ্যপালের হয়ে একাধিক তথ্য তুলে ধরেন। মেহেতা বলেন, ভারতে বহুদলের গণতন্ত্র রয়েছে। দুই দলের কোনও ব্যবস্থা নেই। বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে জোটের যুগ। আর তা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাজ্যপালের তরফে সলিসিটর জেনারেল বলেন, দুই ধরণের জোট হয়ে থাকে। একটি ভোটের আগে এবং আরেকটি নির্বাচনের আগে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচন-পরবর্তী জোটগুলি সুবিধাবাদী হয় বলে ব্যাখ্যা করেন সলিসিটর জেনারেল। কিন্তু প্রাক-নির্বাচন জোট নীতিগত বলে সওয়াল করেন তিনি। এই অবস্থায় নির্বাচনের আগে দুই দলের মধ্যে জোট ছিল। আর তা হল বিজেপি এবং শিবসেনা।
এরপরেই তুষার মেহতা বলেন, আপনি যখন ভোটারদের কাছে যাবে তখন রাজনৈতিক বিচারধারা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মতে, ভোটাররা কখনও ব্যক্তিকে দেখে ভোট দেয় না। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিচারধারা-রাজনৈতিক দর্শনের উপর ভোট ভোটার দেন বলেও সওয়াল করেন মিস্টার মেহতা। তাঁর কথায় আমরা হর্ষ ট্রেডিংয়ের কথা শুনেছিলাম... কিন্তু সেখানে আস্থাবল ( ঊদ্ধব ঠাকরে) তাঁদের সঙ্গেই সরকার গড়ে নিয়েছে। বিশেষ ভাবে যাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয় বলে আদালতে জোর সওয়াল।
আর এরপরেই দেশের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় পর্যবেক্ষণে বলেন, রাজ্যপাল কীভাবে এমন কিছু বলছেন। সরকারের গঠনের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজিআই। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক ময়দানে রাজ্যপালের ঢোকা ঠিক নয় বলেও এদিন পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।












Click it and Unblock the Notifications