এসআইআর-এর কাজ করতে করতে বিএলও-র আত্মহত্যা, 'মারাত্মক কাজের চাপ'-এর অভিযোগ পরিবারের
কেরলের কান্নুরে স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসাবে কর্মরত অনীশ জর্জ (৪৪) নামে এক স্কুল কর্মচারীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর কাজে অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রবিবার কান্নুরে নিজের বাড়িতে অনীশের দেহ পাওয়া গিয়েছে। নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের চলমান কাজ এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে জর্জ মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, টার্গেট পূরণের জন্য জর্জকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। তাঁর এক পারিবারিক বন্ধু শ্যাম সাংবাদিকদের বলেছেন, "পরিবারের দাবি, তিনি রবিবার রাত ২টো পর্যন্ত কাজ করেছেন। এসআইআর সংক্রান্ত ফর্ম পূরণ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় সেগুলি বিতরণের জন্য তাঁর উপর ব্যাপক চাপ ছিল।" পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে।
এই ঘটনা রাজ্য জুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তিনটি প্রধান সংগঠন — অ্যাকশন কাউন্সিল অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যান্ড টিচার্স, জয়েন্ট কমিটি অফ টিচার সার্ভিস অর্গানাইজেশনস এবং কেরালা এনজিও অ্যাসোসিয়েশন — আগামী কাল সোমবার রাজ্যব্যাপী বিএলও দায়িত্ব বর্জনের ঘোষণা করেছে। তিরুবনন্তপুরমে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় এবং সমস্ত জেলার কালেক্টরেটগুলিতে যৌথ প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হবে।
সংগঠনগুলি তাদের বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার বারবার অনুরোধ উপেক্ষা করার জন্য দায়ী করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, বিএলওদের "দিনরাত" কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এবং "খুব কম সময়ের মধ্যে অবাস্তব লক্ষ্য" নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনগুলি প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে বন্ধ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে।
এই মৃত্যু রাজনৈতিক বিতর্কেও ইন্ধন জুগিয়েছে। সিপিআই(এম) নেতা এম ভি জয়রাজন বলেছেন, তাঁদের দল দীর্ঘদিন ধরে এসআইআর চলাকালীন বিএলওদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। কংগ্রেস নেতা রিজিল মাকুট্টি অভিযোগ করেছেন, জর্জ কমিশনের বিজেপি-পন্থী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনের আগে এসআইআর কার্যকরের শিকার হয়েছেন। উভয় নেতাই এই আত্মহত্যার ঘটনাকে "গভীর দুর্ভাগ্যজনক" আখ্যা দিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসআইআর স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রতন ইউ কেলকর জানিয়েছেন, পুলিশ তদন্ত চলছে এবং কান্নুর জেলা কালেক্টরের কাছ থেকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে বিএলওরা "সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন" এবং কাজের চাপ সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications