৭ পার করে আটে পা দিয়েও মোদী ম্যাজিকে পড়েছে ছেদ, জনভিত্তি ফেরাতে কী কৌশল পদ্ম শিবিরের?
ফিকে হওয়া মোদী ম্যাজিকের রেশ ধরে রাখতে কী কৌশল গেরুয়া শিবিরের?
বিশ্বজুড়ে করোনা ঝড় ও আর্থিক মন্দার মাঝেই ভারতে সাত বছর পূর্ণ করল বিজেপি সরকার। মোদী জমানায় ইতিমধ্যেই নানা নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে জনগণ। সাম্প্রতিক ফেসবুক ব্যান হোক বা এনআরসি-সিএএ আন্দোলন, হঠকারী সিদ্ধান্তের জেরে বারংবার সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও মহামারী পরিস্থিতিতে যেভাবে কেন্দ্রের উপর থেকে আস্থা হারিয়েছে জনসাধারণ, তা যে নিঃসন্দেহে গেরুয়া রথের জয়যাত্রার সবচেয়ে বড় কাঁটা, তা সমস্বরে স্বীকার করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিকমহল।

বিজেপি-বিরোধী হাওয়ায় অস্বস্তিতে কেন্দ্র
করোনা আবহে সামাজিক অবক্ষয় হোক বা পরিকাঠামোর অভাব, জনস্বাস্থ্যে নজরদারির অভাব থেকে টিকার অপ্রতুলতা, সব ক্ষেত্রেই তুমুল সমালোচনার মুখোমুখি বিজেপি সরকার। শুধুমাত্র বিরোধীদের তরফেই নয়, সাংগঠনিক দিক থেকেও রোষের মুখে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের এক আধিকারিকের সাফ বক্তব্য, "নোটবন্দি, এনআরসি, জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যা, ভারত-চিন যুদ্ধ ও জিডিপির মত সমস্যার জালে নিজেই জড়িয়ে পড়েছে মোদী সরকার! স্বভাবতই ২০১৪-র পর কেন্দ্রের উপর থেকে বিশ্বাস হারাচ্ছে নাগরিকরা।"

মোদীর 'ইমেজ' গঠনই মূল কৌশল?
বিজেপির এক অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মতে, "দলের একেবারে নিচুতলায় ক্রমশ জমছে অসন্তোষ। এহেন অবস্থায় যা ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়।" আগামীতে গেরুয়া শিবিরের কৌশল গঠনের ক্ষেত্রে মোদীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখাই যে প্রধান চ্যালেঞ্জ, তার আভাস স্পষ্ট গেরুয়া ব্রিগেডে। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, "এতদিন মোদীর ক্যারিশমার বলে বিজেপি যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তা সবল রাখতে নতুন পন্থা প্রয়োজন। আমাদের দলের নেতৃত্ব খুব শীঘ্রই নয়া কৌশল অবলম্বন করবেন।"

বিজেপির হাতিয়ার ভ্যাকসিন!
করোনা টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে জড়িত বিজেপির এক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, "বিজেপির ক্ষয়ক্ষতি ঢাকার জন্য এপ্রিল-মে মাসই উপযুক্ত সময়। সময়মত টিকাকরণ করলে মানুষের মনে বিজেপি সরকারের স্থান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আগামী আগস্টের মধ্যে ৩০-৪০ কোটি নাগরিককে ১ম ডোজ দেওয়ার লক্ষ্যে এগোলেও পরিকাঠামোর অভাব আমাদের মূল অন্তরায়।" শক্তিশালী মতাদর্শ, আত্মবিশ্বাসী কর্মী-সমর্থক ও তদপুরি বিজেপির খ্যাতনামা নেতানেত্রীদের 'ফেস ভ্যালু'-র উপর মূলত নির্ভর করে বিজেপির ফলাফল। যদিও মোদী-ম্যাজিক সফল না হলে গেরুয়া-ঝড় মিলিয়ে যেতে যে বেশি সময় লাগে না, তা স্পষ্ট সাম্প্রতিক বাংলার বিধানসভা নির্বাচনেই।

"আমাদের ভোটাররা প্রতারিত বোধ করছেন!"
আগামী বছরে বিজেপির লক্ষ্য উত্তরপ্রদেশ। যদিও নির্বাচনের আগেই উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট গেরুয়া শিবিরের ফাঁকফোকর। "প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় আমাদের ভোটাররা প্রতারিত বোধ করছেন", মত ওই বিজেপি নেতার। "মৃত্যুভয়ে দিশেহারা সকলেই। এহেন সময়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর ফোন নং যুক্ত কি না, সে বিষয়ে মানুষের মাথাব্যথা নেই", জানিয়েছেন এক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ। অন্যদিকে 'নরমসরম' হয়ে হারানো জমি ফিরে পেতে যে বদ্ধপরিকর বিজেপি, তা জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বরা। অতিমারীর আবহে প্রাণ সংশয়ের মাঝে বিজেপির নানাবিধ পদক্ষেপ যে আদতে ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা পরিষ্কার গেরুয়া শিবিরের অভিব্যক্তিতেই।












Click it and Unblock the Notifications