বোরখা পরা ভোটারদের জন্য আলাদা চেকিং কাউন্টার? বাংলার ভোটে নতুন ভাবনা নির্বাচন কমিশনের, জানুন বিস্তারিত
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে ভোটার যাচাই প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা আনার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। প্রস্তাব অনুসারে, যেসমস্ত ভোটার বোরখা, ঘোমটা, স্কার্ফ অথবা অন্য কাপড়ে মুখ ঢেকে ভোট দিতে আসবেন, বুথে ঢোকার আগেই আলাদা কাউন্টারে তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হতে পারে।

বর্তমানে নিয়ম অনুসারে, মুখ ঢাকা ভোটাররা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে ঢুকে তারপর বুথের ভিতরেই পরিচয় যাচাই করান। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, বুথের বাইরে একটি বিশেষ কাউন্টার থাকবে যেখানে আগে পরিচয়পত্রের অঙ্গে ভোটারের মুখ মিলিয়ে দেখা হবে। তারপরই সেই ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই বিষয়টি এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে ভোটের আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারির সময় থেকে তা কার্যকর হতে পারে। প্রস্তাব অনুসারে, পরিচয় যাচাইয়ের সঙ্গে শুধু মহিলা কর্মীরা কাজ করবেন যেমন, মহিলা ভোটকর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকারা। নিরাপত্তার জন্য সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হতে পারে।
কমিশনের কিছু আধিকারিক এই প্রস্তাবের পেছনে আগের নির্বাচনে ভুয়ো ভোট অথবা অনিয়মের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, বুথের বাইরে যদি আলাদা করে যাচাই কাউন্টার থাকে তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ এবং নথিভুক্ত করা সম্ভব হবে।
তবে বিষয়টি ঘিরে আবার অনেক আইনি প্রশ্নও উঠছে। কারণ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ (Representation of the People Act, 1951) এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১ (Conduct of Elections Rules, 1961)-এই দুই আইনে বুথের বাইরে এমন মুখ যাচাইয়ের কোনও স্পষ্ট বিধান দেওয়া নেই। যদিও ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি যদি এই নিয়ম শুধু পশ্চিমবঙ্গেই চালু করা হয়, তাহলে তা সংবিধানের সমতার নীতি, ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রস্তাব নিয়ে আইন মহলেও অনেক আপত্তি উঠেছে। অনেকের মতে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হলে তা ভোটারদের জন্য নতুন করে আবার বাধা তৈরি করতে পারে এবং ভোটদানে উৎসাহ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে আবার প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও. পি. রাওয়াত (O. P. Rawat) বলেছেন যে, ভোটারদের পরিচয় যাচাই করা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। তবে যদি কোনও নতুন পদ্ধতি চালু করতে হয় তাহলে তা স্পষ্ট নিয়ম মেনে এবং সমস্ত পক্ষের আস্থা বজায় রেখে করা প্রয়োজন।












Click it and Unblock the Notifications