দেশে সংক্রমণ কমতেই দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য ১৪টি রাজ্যের স্কুল পুনরায় খুলতে চলেছে
১৪টি রাজ্যের স্কুল পুনরায় খুলতে চলেছে
চলতি মাস থেকেই কমপক্ষে ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের স্কুলগুলি আংশিকভাবে পুনরায় খুলবে বা পুনরায় খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ক্রমাগত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হ্রাস এবং শিক্ষক–শিক্ষিকাদের মধ্যে উচ্চহারে টিকাকরণ এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও প্রায় সব রাজ্যগুলির স্কুল শুধুমাত্র তাদের পুরনো পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনার জন্য জোর দিচ্ছে, তবে আইসিএমআরের সুপারিশে বলা হয়েছে প্রাথমিক স্কুলের পড়ু্যাদেরও এবার ফিরিয়ে আনা হোক স্কুলে। প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সব স্কুলগুলি বন্ধ করে রাখা ছিল।

৫০ শতাংশ শিক্ষকের টিকাকরণ সম্পন্ন
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাংবাদিক সম্মেলনে, নীতি আয়োগের সদস্য ভিকে পাল জানিয়েছেন যে গোটা দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষকের টিকাকরণ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তবে তিনি জোর দিয়ে জানান যে আরও প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে শিক্ষকরা ফ্রন্টলাইন কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নন যে তাঁদের টিকাকরণে প্রথম প্রাধান্য দেওয়া হবে, তবে কিছু কিছু রাজ্য স্কুল পুনরায় খোলার ভাবনা চিন্তা করে নির্দেশিকা জারি করে শিক্ষকদের টিকাকরণ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

শিক্ষা থেকে দূরে হয়ে গিয়েছে অনেক শিশু
গত সপ্তাহে, সংসদীয় কমিটি লক্ষ্য করেন যে স্কুল বন্ধ থাকার জন্য পরিবারের সামাজিক গঠন কিছুটা হলেও নষ্ট হয়েছে, বাল্য বিবাহ বেড়েছে এবং বাড়ি থেকে শিশুদের কাজে পাঠানোর ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যাশিত শিক্ষার ক্ষতি পড়ুয়াদের জ্ঞানের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। শুধু তাই নয়, শিশুদের পুষ্টি এবং মানসিক স্বাস্থ্যও প্রভাবিত হয়েছে এর ফলে।

অনলাইন শিক্ষা
২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশের প্রায় ১৫ লক্ষ স্কুল বন্ধ হয়ে যায় এবং হাতে গোনা কয়েকটি স্কুল দ্বিতীয় ওয়েভ মহামারির আগে খোলা হয়। বর্তমানে ২৫ কোটির বেশি স্কুল পড়ুয়ারা অনলাইন শিক্ষা বা দূরশিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে গত একবছরে বহু দরিদ্র বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা কার্যকরভাবে স্কুলের পড়াশোনা হারিয়েছে।

আটটি রাজ্যের তালিকা
প্রসঙ্গত, লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আটটি রাজ্যের তালিকা দেন, যারা স্কুল খুলে ফেলেছে বা পুনরায় খোলার পরিকল্পনা করছে অগাস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে। শিক্ষক-পড়ুয়া মুখোমুখি ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রথম হরিয়ানায় স্কুল খুলে যায়, এখানে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুল খোলে ১৬ জুলাই, এরপর নাগাল্যান্ডে স্কুল খুলে যায় ২৬ জুলাই, এ রাজ্যে শুধুমাত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের স্কুলে আসার ওপর অনুমতি রয়েছে। এছাড়াও অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, পুদুচেরি এবং লাক্ষ্মাদ্বীপে স্কুলের সব ক্লাস শুরু হয়ে যায়, এর মধ্যে ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্কুলে সব ক্লাসের জন্য স্কুল খুলে যায় অন্যদিকে বাকি তিনটে রাজ্যের স্কুলগুলিতে শুধুমাত্র উচ্চ শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারে। ১৬ অগাস্ট থেকে অন্ধ্রপ্রদেশও স্কুল পুনরায় খোলার জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

অন্যান্য যে রাজ্যগুলিতে খুলেছে বা খুলবে স্কুল
ধর্মেন্দ্র প্রধানের উল্লেখিত এই ৮টি স্কুল ছাড়াও কর্নাটকও ২৩ অগাস্ট থেকে স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফলাইন ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তামিলনাড়ুতেও ৯-১২ ক্লাসের পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারবে। এছাড়াও ১৬ অগাস্ট থেকে উত্তরপ্রদেশও স্কুল পুনরায় খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং ওড়িশায় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্কুল পুনরায় খোলার পর্যায় চলবে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য মহারাষ্ট্র এবার স্কুল পুনরায় খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে, ১৭ অগাস্ট থেকে রাজ্যের স্কুল পুনরায় খোলা হবে। এ রাজ্যে গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চম শ্রেণী থেকে ক্লাস শুরু হবে এবং শহরাঞ্চলে অষ্টম শ্রেণী থেকে স্কুলের ক্লাস শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই পরিকল্পনাগুলি সংক্রমণ কম রয়েছে এমন এলাকাগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

দিল্লিতে স্কুল খোলা নিয়ে চলছে আলোচনা
দিল্লিতে, দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এই সপ্তাহ থেকে তাদের বোর্ড পরীক্ষার জন্য ভর্তি-সংক্রান্ত কাজ এবং প্র্যাকটিক্যাল কার্যকলাপের জন্য তাদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ দিল্লি সরকার পুনরায় স্কুল খোলার তারিখ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত মাসে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে, আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব সুপারিশ করেছিলেন যে প্রাথমিক স্কুলের বিভাগগুলি আবার চালু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, একবার কর্মীদের টিকা দিলে ছোট পড়ুয়াদের সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখনও টিকা দেওয়ার মতো বয়স হয়নি। তবে তিনি এও জানিয়েছিলেন যে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে শুধুমাত্র শিক্ষকরাই নন, স্কুলের সহায়ক কর্মীরাও যাতে টিকা গ্রহণ করেন সেদিকে নজর দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications