রাজা বা দেবতার নামে নয়, রামাপ্পা মন্দিরের নামকরণ কার নামে হয়েছে জানেন? 'হেরিটেজ' ঘিরে কিছু অজানা ঘটনা একনজরে
রাজা বা দেবতার নামে নয়, রামাপ্পা মন্দিরের নামকরণ কার নামে হয়েছে জানেন? 'হেরিটেজ' ঘিরে কিছু অজানা ঘটনা একনজরে
ভারতের মতো এই বিশাল বিচিত্র দেশের আনাচে কানাচে জুড়ে রয়েছে বহু রহস্য। রয়েছে বহু অজানা ঘটনা, যা দেশের ইতিহাসকে যেমন সমৃদ্ধ করে এসেছে, তেমনই সমৃদ্ধ করেছে দেশের সংস্কৃতিকে। এদিকে, এমন একটি এই বিশালতার মধ্যেই বহু পুরনো যুগের নানান স্থাপত্য আজও ফিসফিস করে বলে যায় ইতিহাসের নানান অধ্যায়ের কথা। এমনই একটি স্থাপত্য হল তেলাঙ্গানার রামাপ্পা মন্দির। কাকতেয় সাম্রাজ্যের নিদর্শন এই রামাপ্পা মন্দির জুড়ে কোন অজানা কঠথা জুড়ে রয়েছে দেখে নেওয়া যাক।

রামাপ্পা মন্দিরের ইতিহাস
এই রামাপ্পা মন্দির সদ্য পেয়েছে ইউনেসকোর 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ট্যাগ'। এই মন্দিরের নামে আদ্য অক্ষর হিসাবে 'রাম' এর নাম থাকলেও , এই মন্দির মূলত শিবালয়। অর্খাৎ এই মন্দিরে বিষ্ণু নন, বরং পুজিত হন শিব। এই মন্দিরের ভিতর রামালিঙ্গস্বামীকে পুজো করা হয়। অনেকেই এইমন্দিরকে রুদ্রেশ্বরা মন্দির বলেও আখ্যা দেন। মন্দিরের পরতে পরতে যেমন ইতিহাসের বিভিন্ন কাহিনি বর্ণিত রয়েছে কারুশিল্পে, তেমনই এই কারুশিল্পও নজর কেড়েছে বহু পর্যটকের। এককালে দক্ষিণভারতে কাকতীয় বংশ রাজত্ব করেছে। সেই বংশের সন্তান ছিলেন রুদ্রমাদেবী। এই মন্দিরের নাম যদিও তাঁর নাম থেকে রুদ্রেশ্বরা হয়নি বলেই জানান স্থানীয়রা।

মার্কো পোলো উল্লেখ করেছিলেন এই মন্দিরের!
শোনা যায়, ভারতে যখন মার্কো পোলো আসেন , শোনা যায়, তাঁর ভ্রমণ বর্ণনায় লেখা ছিল এই মন্দিরের কথা। রামাপ্পা মন্দির দেখে তিনি লিখেছিলেন , দেশের মন্দিরের মহাকাশে এই রামাপ্পা মন্দির একটি নক্ষত্র। শোনা যায়, কাকতীয় বংশের গণপতি দেবার রাজত্ব কালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। কাকতীয় বংশের রাজত্বের সেনপতি রেচলারা রুদ্র এই মন্দিরের স্থাপনা করেন। তবে এই মন্দিরের নাম তাঁর নাম থেকেও আসেনি।

বহু ভূমিকম্পও টলাতে পারেনি এই রুদ্রেশ্বর মন্দির!
উল্লেখ্য, এই মন্দিরের বাস্তুকাজ অত্যন্ত আলাদা রকমের। বলা হয়, 'স্যান্ড বক্স' ঘরানায় এই এই মন্দরের নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। ফলে কোনও ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই ইমারত বছরের পর বছর নষ্ট হবে না। শুধু তাই নয়, ব্যাসাল্ট জাতীয় শিলায় তৈরি এই বিশাল মন্দিরের ভিতে এমন একটি পরিকাঠামো তৈরি করা রয়েছে, যা অন্যান্য ইমারত থেকে এটিকে আলাদা করেছে।

কীভাবে যাওয়া যায় এই মন্দিরে?
তেলাঙ্গানার মুলুগুর এক ছোট্ট গ্রাম পালামপেটে অবস্থিত এই রামাপ্পা মন্দির। মন্দিরের করুশৈলি রীতিমতো ঈর্ষণীয়। বালি পাথর দিয়ে তৈরি এই মন্দিরকে কাকতীয় বংশের মাস্টারপিস শিল্প শৈলির মধ্যে ধরা হয়। হায়দরাবাদ যথেকে ২০৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির ওয়ারাঙ্গালের কাছে। ওয়ারাঙ্গাল থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব ৬৬ কিলোমিটার। ১৩ ও ১৪ শতাব্দীর প্রবল গরিমা ধরে নিয়ে আজও মাথা উঁচু করে রয়েছে এই অভূতপূর্ব মন্দির। এই মন্দিরে বালু পাথর ও কালো পাথরের কাজ দেখা যায়।

কার নামে এই মন্দিরের নাম রামাপ্পা মন্দির, রয়েছে কোন ইতিহাস?
মূলত, কোনও দেবতা বা রাজার নামে নয়। এই রামাপ্পা মন্দিরের বৈশিষ্ট হল , মন্দিরের কারুশিল্প যে শিল্পী করেছেন তাঁর নামেই নাম করণ হয়েছে রামাপ্পা মন্দিরের। মূলত, প্রাচীন ইতিহাসে দেখা যায়, কোনও অপূর্ব শৈলীর মন্দির বা স্থাপত্য তৈরি হলে, তা র নাম হয় সেখানের রাজার নামে। তবে রামাপ্পা মন্দিরের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে দেবতার নামে পরিচিত হন মন্দিরের নাম। তার থেকেও আলাদা রামাপ্পা মন্দির। ৪০ বছর ধরে পালামপেট গ্রামের রামাপ্পা নামের এক শিল্পী এই মন্দিরের কারুকাজ করেছেন। আর তাঁর নামেই এই মন্দির। যাকে হেরিটেজ তকমা দিয়েছে ইউনেসকো। কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ছবি সৌ: টুইটার
খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia












Click it and Unblock the Notifications