Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভারতের 'হৃদয়' পেল পাকিস্তানি কিশোরী, চেন্নাই থেকে মেয়েকে সুস্থ করে করাচী নিয়ে গেলেন মা

পাকিস্তানের কিশোরীর হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন হল ভারতে। অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেলেন চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা। ১৯ বছরের আয়েশা রশিদ চিকিৎসা করাতে এসেছিল ভারতে। দীর্ঘদিন ধরেই হার্টের চিকিৎসা করাচ্ছিল সে। অবশেষে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হল আয়েশা।

২০১৯ সালে করাচীতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল সে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন ছিল তার। সেই উদ্দেশেই ভারতে আসা। ২০২৩-এর জুন থেকে চেন্নাইতে নতুন করে চিকিৎসা করাতে শুরু করে সে।

একদিকে স্বাস্থ্যের অবনতি আর অন্যদিকে অর্থাভাব, সব মিলিয়ে বিষয়টা আয়েশার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। অবশেষে তাকে আশার আলো দেখান চেন্নাইয়ের চিকিৎসক ড. কে আর বালাকৃষ্ণণ। তিনি এমজিএম হেল্থকেয়ারের হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান।

এছাড়াও সাহায্য করে চেন্নাইয়ের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ট্রাস্ট ঐশ্বর্যম। আয়েশাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন 'ইনস্টিটিউট অব হার্ট অ্যান্ড লাং ট্রান্সপ্লান্ট অ্যান্ড মেকানিক্যাল সার্কুলেটরি সাপোর্ট'-এর চেয়ারম্যান ড. কে আর বালাকৃষ্ণণ। গত ৩১ জানুয়ারি দিল্লি থেকে হৃদযন্ত্র এয়ারলিফট করে নিয়ে যাওয়া হয় চেন্নাইতে। এরপর হয় সফল অস্ত্রোপচার।

ড. বালাকৃষ্ণণ জানিয়েছেন, ২০১৯-এর আয়েশা যখন আসে, তখন তার হৃদযন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। সিপিআর ব্যবহার করে সুস্থ করতে হয় তাকে। এরপর সে পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছিল। আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় ফিরে আসে চেন্নাইতে। পাকিস্তানে তার চিকিৎসা করার মতো যথেষ্ট জিনিস নেই। অভিভাবক বলতে শুধু আয়েশার মা। অর্থের সংস্থানও ছিল না তেমন। সেই কারণেই সাহায্যে এগিয়ে আসে ঐশ্বর্যম ট্রাস্ট।

'ইনস্টিটিউট অব হার্ট অ্যান্ড লাং ট্রান্সপ্লান্ট অ্যান্ড মেকানিক্যাল সার্কুলেটরি সাপোর্ট'-এর কো ডিরেক্টর ড. সুরেশ রাও জানিয়েছেন, এটাই হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের সবথেকে বড় প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর অন্তত ১০০টি অস্ত্রোপচার হয়। এই ক্ষেত্রে কিশোরীকে প্রায় ১০ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, আয়েশার কথা শুনে চিকিৎসক বালাকৃষ্ণনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনিই টাকার ব্যবস্থা করে দেন। শুধু ট্রাস্ট থেকে পাওয়া টাকাই যথেষ্ট ছিল না। কিছু রোগীর পরিবারও তাকে সাহায্য করে। বর্তমানে ওই পাক কিশোরী সুস্থই আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

চিকিৎসার পর ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আয়েশা । চিকিৎসকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমি অন্ত্য খুশি। ভারত সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। চিকিৎসকদেরও আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। ভারতে আমি নিশ্চয় একদিন ফের চিকিৎসা করাতে আসবেন বলেও জানিয়েছেন এই পাক কিশোরী। অন্যদিকে কঠিন অবস্থায় কীভাবে চিকিৎসক তাঁদের পাশে থেকেছেন তা উল্লেখ করেছেন আয়েশার মা।

বলেন, আমার মেয়ের যখন ১২ বছর বয়স তখনই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পরে চিকিৎসকরা জানান, ওকে বাঁচাতে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করতেই হবে। কিন্তু পাকিস্তানে সেই সুযোগ ছিল না। শেষে আমরা ডাক্তার বালাকৃষ্ণণের দ্বারস্থ হই। আমার টাকাও ছিল না তেমন। চিকিৎসকরাই ভারতে সবরকম চেষ্টা করেন।

প্রায় কোনও টাকা ছাড়াই আমি ভারতে এসেছিলাম। মেয়ে সুস্থ হওয়ায় খুব খুশি বলে জানিয়েছেন আয়েশার মা। তাঁর কথায়, এক পাকিস্তানি মেয়ের অন্তরে শোনা যাবে ভারতের হৃদ স্পন্দন। আর এটা যে সফল হবে তা কল্পনাতেও ভাবিনি বলে জানান আয়েশার মা।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+