পহেলগাঁওয়ের হামলার জের, সীমান্ত বন্ধের বেড়াজালে পাকিস্তানেই আটকে কনে!
ভালোবাসার কোনো সীমা নেই, কোনো কাঁটাতার মানে না। আর তা প্রমাণ করতেই ভারতীয় এক বর তাঁর পাকিস্তানি কনেকে ঘরে আনতে রওনা হয়েছিলেন। আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সকলেই শামিল হয়েছিলেন সেই শুভক্ষণে। কিন্তু, ভাগ্যের পরিহাস! খুশির এই রেশ বিষাদে পরিণত হল পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। নিমেষেই তাঁদের আনন্দ মাটিতে মিশে যায়। বরযাত্রীদের রঙিন শোভাযাত্রা থমকে গেল এক গভীর শোকের ছায়ায়।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যুর পর, ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল, দেশে বসবাসকারী পাকিস্তানি নাগরিকদের বহিষ্কার এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত চেকপোস্টের আকস্মিক বন্ধ। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সীমান্তের উভয় পাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনে, যা এক দুঃখজনক মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজস্থানের বিকানেরের বাসিন্দা বর শয়তান সিং। তাঁর বিয়ে, কিন্তু সীমান্ত বন্ধের কারণে তাঁর হবু স্ত্রী পাকিস্তানে আটকা পড়েছেন। পহেলগাঁওয়ের হামলার পরেই, ভারত সরকার ঘোষণা করে যে আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ইস্যু করা সমস্ত ভিসা বাতিল করা হবে। একই সাথে, পাকিস্তানে বসবাসকারী ভারতীয়দের অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
গত ২৩ এপ্রিল, শয়তান সিং তাঁর বিবাহ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সাথে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু আটারি সীমান্তে পৌঁছানোর পর তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে অপেক্ষারত কনে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি তাঁর বরের জন্য ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছিলেন। উভয় পরিবারই বিবাহের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল, কিন্তু আকস্মিক এই সীমান্ত বন্ধ তাদের স্বপ্ন এবং আনন্দ নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
নিজেদের অসহায়তার কথা জানিয়ে শয়তান সিং বলেন, "জঙ্গি কার্যকলাপ ঘৃণ্য এবং নিন্দনীয়। এর ফলস্বরূপ আমার বিবাহের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত।" তাঁর ভাই সুরেন্দ্র সিং জানান, তাঁদের পরিবারের বহু মানুষ সেখানে আছেন। মূলত, দেশভাগের পর থেকে তাদের বহু আত্মীয়স্বজন এখনও সেখানে বসবাস করছেন।
এই ঘটনা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাদের আত্মীয় পরিজন সীমান্তের ওপারে বসবাস করেন। বৈধ কাগজপত্র নিয়ে যারা ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন, তাদের একই পথে ভারতে ফিরে আসার জন্য আগামী ১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, সীমান্তের বাধা পেরোনো ভালোবাসার পরিণতি কি এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি? সেই ভারতীয় বর এবং তাঁর পাকিস্তানি কনের স্বপ্ন কি পহেলগাঁওয়ের সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনার কাছে হার মানবে? দেখার বিষয়, পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হয় এবং কখন এই প্রেমের গল্প পূর্ণতা পায়।












Click it and Unblock the Notifications