ভগত সিং রাজগুরু শুকদেবের সম্মানে শহীদ দিবস, ভিক্টোরিয়ায় বিশেষ হল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ভগত সিং রাজগুরু শুকদেবের সম্মানে শহীদ দিবস, ভিক্টোরিয়ায় বিশেষ হল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ দিবস উপলক্ষে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ধ্যা ৬টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে বিপ্লবী ভারত গ্যালারির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।

কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ?
অনুষ্ঠানের এক দিন আগে, প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইট করেন, "২৩ মার্চ আমাদের সবার জন্য একটি বিশেষ দিন কারণ আমরা শহীদ দিবস পালন করি। আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় ভিসির মাধ্যমে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে বিপ্লবী ভারত গ্যালারির উদ্বোধন করবেন। এটি আমাদের স্বাধীনতার জন্য যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের অবদানগুলি প্রদর্শন করবে।"

পিএমও কী জনিয়েছে ?
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্যালারিটি স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবীদের অবদান এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ প্রদর্শন করবে। পিএমওর প্রেস রিলিজ অনুসারে, "স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলধারার বর্ণনায় এই দিকটিকে প্রায়শই উপযুক্ত স্থান দেওয়া হয়নি।" এই গ্যালারিটি ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার দিকে পরিচালিত কয়েক দশক-ব্যাপী স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘটনাগুলির একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানের উদ্দেশ্যে কাজ করে, বিপ্লবীদের ভূমিকা তুলে ধরে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও যোগ করা হয়েছে
"বিপ্লবী ভারত গ্যালারি সেই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পটভূমিকে চিত্রিত করে যা বিপ্লবী আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল।" এটি আরও বলেছে যে গ্যালারিটি বিপ্লবী নেতাদের দ্বারা উল্লেখযোগ্য সমিতি গঠন থেকে শুরু করে বিপ্লবী আন্দোলনের জন্ম, আন্দোলনের বিস্তার, ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠন, নৌ বিদ্রোহের অবদান এবং অন্যান্য অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রদর্শন করে।

ভগত সিংয়ের আজ মৃত্যুদিন
ভগৎ সিং ছিলেন অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী বিপ্লবী। তাঁকে 'শহিদ--ই-আজম' ভগৎ সিংহ নামে অভিহিত করা হয়। ভগৎ নামের অর্থ 'ভক্ত'। পাঞ্জাবের লায়ালপুর জেলার বাঙ্গার নিকট 'খাতকর-কালান' গ্রামে ১৯০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভগৎ সিং-এর জন্ম এক সান্ধু জাঠ শিখ পরিবারে। বাবা সর্দার কিসান সিং সান্ধু , মা বিদ্যাবতী ৷ তাঁর পরিবার দেশপ্রেমিক শিখ পরিবার । আগে থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ভগৎ সিং ১৩ বছর বয়সে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন । এই সময় তিনি প্রকাশ্যে ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরোধীতা করেন এবং তাঁর সরকারি স্কুলবই ও বিলিতি স্কুল ইউনিফর্ম পুড়িয়ে ফেলেন । বাল্য বিবাহ থেকে মুক্তি পেতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং ভারত যুব সভার সদস্য হন। যুব বিপ্লবী দলে যোগ দিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের পথে ব্রিটিশ শাসন উৎখাত করার প্রয়াস চালান ৷ ১৯২৬ সালে লাহোর বোমা বিস্ফোরণে জড়িত থাকার কারণে গ্রেফতার হন ৷ ভগৎ সিং দয়ানন্দ অ্যাংলো-বৈদিক স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে লাহোরের ন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হন। কৈশোরেই ভগৎ ইউরোপীয় বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা করেন এবং নৈরাজ্যবাদ ও কমিউনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হন। এরপর তিনি একাধিক বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের (এইচ আর এ) সঙ্গে যুক্ত হয়ে মেধা, জ্ঞান ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতায় তিনি অচিরেই এই সংগঠনে নেতায় পরিণত হন এবং সংগঠনটিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এটিকে হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনে (এইচ এস আর এ) রূপান্তরিত করেন। তাকে এবং তার সংগঠনকে নৈরাজ্যবাদী আখ্যা দেওয়া হলে তিনি ক্ষুরধার যুক্তিতে তা খন্ডন করেন। প্রবীন স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে এক ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করেন ভগৎ সিং। বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়। তাঁর দৃষ্টান্ত শুধুমাত্র ভারতীয় যুব সমাজকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধই করেনি ভারতে সমাজতন্ত্রের উত্থানেও প্রভূত সহায়তা করেছিল। ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ। সন্ধে সাতটা। লাহোর জেলে ভগৎ সিং-সুখদেব-রাজগুরু -- এই তিন মহান বিপ্লবীর ফাঁসি হয়।












Click it and Unblock the Notifications