মমতার বাংলাকে নয়া ‘উত্তরপ্রদেশ’ ধরে এগচ্ছেন মোদী! ২০২৪-এর কৌশল তৈরি এখনই
২০১৯-এ বিপুল আসনে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রথম মেয়াদে যেমন উত্তরপ্রদেশের ভোট ছিল মোদীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, তেমনই দ্বিতীয় মেয়াদে মোদীর কাছে চ্যালেঞ্জ বাংলার ভোট।
২০১৯-এ বিপুল আসনে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রথম মেয়াদে যেমন উত্তরপ্রদেশের ভোট ছিল মোদীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, তেমনই দ্বিতীয় মেয়াদে মোদীর কাছে চ্যালেঞ্জ বাংলার নির্বাচন। ২০২১-এর এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হবে। নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হবে এই ভোটই।

দেশব্যাপী জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ
সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ জুটি ক্ষমতা ফিরেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনেছেন। এরপরই দেশব্যাপী জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ নিয়ে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, এই সিএএ-এনআরসির পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে জিততেই বিজেপির একটা প্রচেষ্টা।

এনআরসি সারা দেশে সংঘটিত হবে না!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মোদি পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সংসদীয় ভাষণে বলেছিলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জাতীয় নাগরিকের পঞ্জি তৈরি করা হবে। এই বার্তাই স্পষ্ট করে, এনআরসি সারা দেশে সংঘটিত হবে না। প্রশ্ন ওঠে, কেন শুধু প্রত্যেক বাঙালি মুসলমানের গায়ে বাংলাদেশি লেবেল সেঁটে দিতে পুরো দেশকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

এনআরসি-আতঙ্ক পুরো ভারতজুড়ে
বিজেপির পক্ষে বাংলা অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এনআরসি-আতঙ্ক পুরো ভারতজুড়ে ছড়িয়ে দিতেও দ্বিধা করেনি বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উঠেছে নতুন উত্তরপ্রদেশ। বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারে, তবে বিজেপি তৃতীয় মেয়াদে কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষমতায় ফিরে আসা অনিবার্য হবে।

যে রাজ্যের দিকে সবার আগে দৃষ্টি
২০১৪ সালে মোদী যখন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন তাঁর যে রাজ্যের দিকে সবার আগে দৃষ্টি দেওয়া দরকার ছিল তা হল উত্তরপ্রদেশ। তিনি নিজে বারাণসীর দ্বিতীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং অমিত শাহকে রাজ্যের ইনচার্জ বানিয়েছিলেন।

বাংলায় বিজেপি এতদিন এন্ট্রি পায়নি
এই ধরনের বিশেষ প্রচেষ্টা এখন বাংলার জন্য করা হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং বামদের দুর্গ বলে পরিচিয় বাংলায় বিজেপি এতদিন এন্ট্রি পায়নি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসতেই বিজেপি বাংলায় বাড়তে শুরু করে। ২৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার একটি রাজ্য তথা পূর্ব ভারতের বৃহত্তম মেট্রোপলিটন শহর-সম্বলিত রাজ্যে জিতে বিজেপি আর পাকাপোক্ত জায়গা করতে চাইছে দেশে।

‘সেমিফাইনাল' হিসাবে দেখা হয় যে রাজ্যকে
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে লোকসভা নির্বাচনের আগে সাধারণত ‘সেমিফাইনাল' হিসাবে দেখা হয়। এটি দুটি লোকসভা নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে। উত্তরপ্রদেশে যা ঘটে থাকে তা প্রায়শই পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। সাধারণভাবে এটি প্রচলিত। এবার বাংলাকেও সেভাবে ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি।

বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারে
স্পষ্টতই বলতে গেলে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন উত্তরপ্রদেশ করে তুলতে চাইছে বিজেপি। বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে জিততে পারে, তবে এটি অদৃশ্যভাবেই মোদীর টানা তৃতীয় মেয়াদে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরে আসা নিয়ে অনিবার্য এক অনুভূতি তৈরি করবে। তাই পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications