টিকাকরণ কর্মসূচীকে প্রশস্ত করতে যুক্ত করা হোক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের, প্রস্তাব নরেন্দ্র মোদীর
টিকাকরণ কর্মসূচীকে প্রশস্ত করতে যুক্ত করা হোক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের
দেশে খুব শীঘ্রই আছড়ে পড়তে পারে করোনার তৃতীয় ওয়েভ। আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ এইমসের অধিকর্তা। এরকম পরিস্থিতিতে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে টিকাকরণের হার নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করলেও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের সহায়তায় এই প্রচার আরও প্রশস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পেশ হওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, 'দেশে টিকাকরণের উন্নতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তথ্য দিয়েছেন কর্মকর্তারা। বয়স–ভিত্তিক টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মী, ফ্রন্টলাইন কর্মী ও সাধারণ জনসংখ্যার টিকাকরণ নিয়েও মোদীকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখা করা হয়।’ বিবৃতিতে এও বলা হয়, 'কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে আসন্ন মাসগুলিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ ও উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন।’

তৃতীয় ওয়েভ ও ডেল্টা প্লাস নিয়ে উদ্বেগ
করোনা দ্বিতীয় ওয়েভ ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ নিয়েছে দেশজুড়ে, আর এরই মধ্যে দেশে তৃতীয় ওয়েভের সম্ভাব্য আছড়ে পড়া ও ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের উদ্বেগ নিয়েও এই বৈঠকে আলোচনা করা হয়। প্রসঙ্গত, ভারতে নতুন ভ্যারিয়ান্ট উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখানে অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা এখনও টিকাকরণের বাইরে রয়েছে। ভারতে ৯৫ কোটি জনসংখ্যার মাত্র ৫.৬ শতাংশ জনসংখ্যা দু'টি ডোজ গ্রহণ করেছে। দেশে ডেল্টা প্লাসের ৫০টি কেস রিপোর্ট হয়েছে এবং এই প্রজাতির ওপর টিকাকরণ কতটা কার্যকর সেটা দেখার জন্য এখনও গবেষণা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট টিকাকরণ নিয়ে
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে যে দেশে গত ৬ মাসে ৩.৭৭ কোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে যা মালেশিয়া, সৌদি আরব ও কানাডার সমগ্র জনসংখ্যার চেয়ে বেশি।' তবে দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী, এই টিকাকরণ খুবই কম। প্রধানমন্ত্রী দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে দেশের ১২৮টি জেলায় ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ টিকাকরণ হয়েছে এবং ১৬টি জেলায় ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের টিকাকরণ হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'প্রধানমন্ত্রী এই সপ্তাহের টিকা দেওয়ার ক্রমবর্ধমান গতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং জোর দিয়েছিলেন যে এই গতিবেগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি।'

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে যুক্ত করতে হবে
বিবৃতিতে এও বলা হয়, 'কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে তারা টিকা দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলি অনুসন্ধান ও বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছে।' তবে প্রধানমন্ত্রী এ জাতীয় প্রচেষ্টায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলিকে জড়িত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা দেশের টিকাকরণ
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের মধ্যেই গোটা দেশকে ভ্যাকসিন দেওয়ার সঙ্কল্প নিয়েছে মোদী সরকার। বর্তমানে ভারতের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিনের ডোজ আছে তাতে সেই সঙ্কল্প পুরণ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মুখে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, টেস্টের পরিমাণ কখনও কমানো যাবে না। কারণ টেস্টই হল করোনা নিয়ন্ত্রণে বড় একটা অস্ত্র। ফলে প্রত্যেক রাজ্যকে এই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications