মধ্যবিত্ত ও শিল্পপতিদের কথা মাথায় রেখে বাজেট পেশে মরিয়া বিজেপি
মধ্যবিত্ত, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মাধ্যমেই দেশের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে সরকারের তরফে। আর তাই সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ এবারের বাজেটে সেই লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেবেন। এর আগে পেশ করা এনডিএ-র প্রতিটি বাজেটই গরিব ও কৃষকমুখী বলে দাবি করা হয়েছিল বিজেপি-র তরফে। তাতে শিল্পপতিদের জন্যেও ছিল বেশ কিছু জিনিস। তবে মধ্যবিত্তরা প্রায় ব্রাত্যই থেকেছেন এর আগের বাজেটগুলিতে। এবার সেই ধাঁচ থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া বিজেপি।

অতীতে কৃষককেন্দ্রিক বাজেট পেশ করেছে বিজেপি
বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, 'মোদী সরকার অতীতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৃষককেন্দ্রিক বাজেট পেশ করেছে। সত্যিকার অর্থে এই বাজেটটি প্রথম দক্ষিণপন্থী বাজেট হবে। সরকারের গুঞ্জন হল এই বাজেট দেশের জন্য অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি সুযোগ।'

এবারের বাজেট মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্যে!
সূত্রের তরফে আরও বলা হয়, 'এই বাজেটে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্যে বেশ কয়েকটি বিষয় রাখা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী তিনটি বাজেটেও মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখেই এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে। করের হার কমানোর পাশাপাশি আয়কর সমন্বয় ও প্রথমবারের গৃহঋণ গ্রহণকারীদের জন্য সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে।'

সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ
বাজেট পেশের আগে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল ভারতীয় অর্থনীতিকে মন্দা থেকে উদ্ধার করা। পরিসংখ্যান মন্ত্রক পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে যে চলতি অর্থবছরে অর্থনীতির ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে, যা ২০১২-১৩ সালের পর থেকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে ধীর গতি। অর্থনীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে আরও জটিল করে তুলেছে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি। ডিসেম্বরে সাড়ে পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ ৭.৩৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে খুচরা মুদ্রাস্ফীতির হার।

আয়করের ক্ষেত্রে কিছুটা কাটছাঁট দেখা যেতে পারে
এদিকে মানুষের মধ্যে চাহিদা সঞ্চার না করতে পারায় মন্দা রয়েছে বাজারে। দেশের জিডিপি বাড়াতে কর্পোরেট কমানোর পথে আগেই হেঁটেছে সরকার। সেই পথ খুব একটা সাফল্য এনে না দিতে পারায় এবার হয়ত সাধারণ মানুষের হাতে কী করে বেশি টাকা থাকে তার দিকে নজর দেবে সরকার। চাহিদা বাড়াতে ও অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হয়ত আয়করের ক্ষেত্রে কিছুটা কাটছাঁট দেখা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভের ক্ষেত্রেও স্বস্তি
সরকার দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভের ক্ষেত্রেও করে স্বস্তি দিতে পারে বলে খবর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি শিল্পে মন্দা, বুনিয়াদি শিল্পে উৎপাদন সংকোচন, নির্মাণ ও পরিকাঠামো শিল্প বিনিয়োগ কমে আসা সহ বিভিন্ন কারণে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, বিশ্ব ব্যাঙ্ক, আইএমএফ, রাষ্ট্রসংঘ সকলেই চলতি অর্থবছরে ভারতের বৃদ্ধির অনুমান কমিয়ে ৫ শতাংশ বা তার আশেপাশে নামিয়ে এনেছে। কেন্দ্র নিজেও নিজেদের পূর্ভাভাসে জানিয়েছে চলতি অর্থবর্ষে দেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications