মাওবাদী অধ্যুষিত জেলার সংখ্যা ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে দেশে, বড় বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের

কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবার দেশে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার সংখ্যা নামতে শুরু করে দিয়েছে। দের বহু মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় হিদমার মতো মাওবাদী নেতাদের প্রবল দাপট থাকলেও, দেখা যাচ্ছে ভারতের বুক থেকে ধীরে ধীরে নামছে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার সংখ্যা। এমনই দাবি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট।

উত্তরপ্রদেশ মাওবাদী মুক্ত এলাকা

উত্তরপ্রদেশ মাওবাদী মুক্ত এলাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে উত্তরপ্রদেশ মাওবাদী মুক্ত এলাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পর্যালোচনার যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে এই তথ্য। উত্তরপ্রদেশের বুকে প্রায় বহু জেলায় একটা সময় মাওবাদের দাপাদাপি ছিল। তবে বর্তমানে তার হাত থেকে মুক্ত উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। উত্তরপ্রদেশের চন্ডোলি, মিরজাপুর, সোনভদ্রতে ছিল মাওবাদের দাপট। তবে তা এখন মাওবাদী মুক্ত এলাকা। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২৫ জেলার মধ্যে দেশে ৮ টি জেলায় মাওবাদীদের দাপট রয়েছে। দু মাস আগে পর্যন্তও ১১ টি রাজ্যের ৯০ জেলায় মাওবাদীদের দাপট ছিল এক চেটিয়া। সেই জায়গা থেকে বর্তমানে হু হু করে নেমে এসেছে মাওবাদীদের দাপট।

 সবচেয়ে বেশি মাও অধ্যুষিত এলাকা কয়টি ?

সবচেয়ে বেশি মাও অধ্যুষিত এলাকা কয়টি ?

দেশের ১১ টি রাজ্যের প্রায় ৯০ টি জেলায় মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা থাকার পর এদিনের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ৭ রাজ্যের ৩০ টি জেলাকে সবচেয়ে বেশি মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য বলছে, দেশে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় হিংসার ঘটনায় ৭০ শতাংশ কমতি এসেছে। যা এই কয়েক দশকে সবচেয়ে বড় কমতি হিসাবে দেখা যাচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ২,২৫৮ টি মাওবাদী হিংসার ঘটনা ঘটে যায় দেশে। সেই জায়গা থেকে বর্তমানে অনেকটাই নেমেছে মাওবাদী হামলার ঘটনা। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে মাওবাদীদের হাতে খুনের ঘটনাও দেশে অনেকটাই কমেছে। যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। ২০১০ সালে যা ছিল ১০০৫ টি ঘটনার সংখ্যা তা ২০২০ সালে ১৮৩ টি ঘটনায় দাঁড়িয়েছে।

যুব সমাজ মাওবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে

যুব সমাজ মাওবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে

আপাতত দেশের ১০ টি রাজ্যের ৭০ টি জেলায় প্রবল মাওবাদী সমস্যা রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট জানান দিয়েছে। সেখানেই বলা হচ্ছে যে এই সমস্ত রাজ্যে প্রবল হারে নিরাপত্তা খাতে আর্থিক খরচ বাড়িয়েছে কেন্দ্র। এই ৭০ টি জেলাকে দেশে এশআরই স্কিমের আওতায় রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখানে নিরাপাত্তার জন্য যানবাহনের ক্ষেত্রে যেমন খরচ হয়, তেমনই আত্মসম্পর্ণ করা মাওবাদীদের স্টাইপেনের টাকা দিতেও খরচ হচ্ছে সরকারের তরফে। এছাড়াও এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ বেড়েছে এই সমস্ত মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে যে সমস্ত নেতৃত্বরা রয়েছে , তারা বর্ষীয়ান। মাওবাদী ভাবনায় বর্তমানে কম বয়সী মানুষরা প্রবেশ করছে না। তাঁরা কম বয়সে মাওবাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পছন্দ করছেন না। ফলে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় যুব সমাজ মাওবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাওবাদীদের সংগঠন দুর্বল হচ্ছে। যারা মাওবাদীদের মধ্যে যুবক যুবতী রয়েছে, তারাও বর্ষীয়ান নেতৃত্বকে সেভাবে মান্যতার জায়গায় রাখছে না বহু প্রান্তরে। সেই জায়গা থেকে মাওবাদীদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা নেমে আসছে , বলে বহু বিশেষজ্ঞের দাবি।

কীভাবে চলছে মাওবাদী দমন?

কীভাবে চলছে মাওবাদী দমন?

উল্লেখ্য, মাওবাদী দমনে ভারত নির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের যে সমস্ত জঙ্গলে মাওবাদীরা গোপনে ঘাঁটি গেঁড়ে রয়েছে, সেখানে ধীরে ধীরে ক্যাম্প তৈরি করছে ভারতীয় সেনা। সেখানে গিয়ে ভারতীয় সেনা এলাকা থেকে মাওবাদী দমনের প্রচেষ্টায় ছিল। এর ফলে সেই গোপন ডেরা থেকে বেরিয়ে মাওবাদীরা আক্রমণের নিশানা করতে পারেনি কাউকে। বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় রাস্তা ও মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ হয়ে যাওয়াতে মাওবাদী গেরিয়া যুদ্ধাস্ত্রও কার্যত ব্যর্থ হয়। যা ব্যাকফুটে পাঠায় মাওবাদীদের। দেশের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় মোট ২৩০০ টি মোবাইল টাওয়ার ও ৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। মাওবাদী দমনে ভারতীয় সেনা একাধিক স্ট্র্যাটেজি যেমন নিয়েছে, তাতে সংযুক্ত হয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের বেশ কয়েকটি দিক। গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, মাওবাদীদের কাছে অস্ত্র , টাকা, খাবারের আমদানি কমেছে। এছাড়াও টাকার কমতি থাকায় মাওবাদী ফান্ডিং কমতির দিকে গিয়েছে। ফলে নতুন করে মাওবাদী ক্যাডার নিযুক্তিও কমেছে। এদিকে, সংগঠন চালাতেও বেগ পেতে হয়েছে অনেককে। একমাত্র ছত্তিশগড় থেকেই মাওবাদীদের হাতে অস্ত্র চালান হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই রাস্তা ধীরে ধীরে ভারতীয় গোয়েন্দারা বন্ধ করার পথে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাওবাদী ফান্ডিং।

পশ্চিমবঙ্গ ও মাওবাদ

পশ্চিমবঙ্গ ও মাওবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা এখনও একটি রয়েছে। সেখান থেকে পরিস্থিতি বদলের দিকে যায়নি। বাম শাসিত কেরলে বহুদিন ধরেই মাওবাদের নানান ঘটনা ওয়েনাদ সহ একাধিক জায়গায় শোনা গিয়েছে। এদিকে বাংলার জঙ্গলমহলও এককালে ত্রস্ত ছিল মাওবাদী হামলার ভয়ে। পরিস্থিতি সেখান থেকে ভালো হলেও, বাংলা সহ মধ্যপ্রেশ, মহারাষ্ট্রের মতো কিছু জেলায় মাওবাদী ভ্রুকূটি রয়েছে।তবে ওড়িশা আপাতত মাওবাদ দমনে আলাকা ফোর্স গঠন করে হামলার ঘটনা প্রবল হারে কমিয়ে ফেলেছে। যা নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য।


খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+