দিল্লিতে এলাকা ছাড়ছে বহু পরিবার! হিংসা ছড়ানোয় উঠছে বহিরাগত তত্ত্ব
দিল্লির হিংসার জেরে যে শুধু নীরিহ মানুষ মারা গিয়েছেন এমন না। ঘর ছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ। পুড়ে গিয়েছে মহল্লার পর মহল্লা। সেই অবস্থাতেই পুড়ে গিয়েছে মসজিদও। মসজিদ পোড়ানোর এই অভিযোগ আনা হয়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশোকনগরের বাসিন্দাদের তরফে। পাশাপাশি এই এলাকাতেই আরও একটি দরগাতেও দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

দিল্লির অশোকনগরের মসজিদে আগুন লাগানো হয়
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বলেন, 'মসজিদে আগুন লাগানোর ঘটনা আমরা প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়াতে জানতে পারি। পরে পুলিশের কাছ থেকে আমরা বিশদে এই বিষয়ে জানতে পারি। পুলিশ আমাদের বলে যে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। এটি খুব দুঃখজনক ঘটনা। তবে আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি এই ঘটনা স্থানীয় কেউ ঘটায়নি।' ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদটি বহু বছরের পুরোনো ছিল। সম্প্রতী মসজিদটির মেরামতের কাজ চলছিল। এদিকে এই ঘটনার পরই বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন সেই ব্যক্তি।

চাঁদ বাবার দরগায় হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা
এদিকে চাঁদবাগে ভাঙচুর চালানো হয় চাঁদ বাবার দরগায়। প্রসঙ্গত, এই দরগায় চাদর চড়াতে মুসলিমদের পাশাপাশি বিশাল সংখ্যায় হিন্দুরাও ভির করে থাকেন। এই দরগায় ভাঙচুর প্রসঙ্গে আবেগতাড়িত হয়ে সাজ্জাদ ইব্রাহিম নামে এক স্থানীয় যুবক বলেন, 'বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাতে এই চাঁদ বাবার দরগায় হিন্দুদের বেশি দেখা যায়। দরগার এই অবস্থা দেখে খুব দুঃখ হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা এই দরগার ঐতিহ্য বা ইতিহাস কোনওটাই জানে না। চাঁদ বাবা উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকেই আশীর্বাদ করেন, সেটা তারা জানে না বলেই এই কাণ্ড ঘটাতে পেরেছে। জালনে পারত না এই কাজ করতে।'

দিল্লির ভজনপুর ও চাঁদবাগ এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে
এদিকে চাঁদ বাগের বিপরীতেই ভজনপুর। যেখানে চাঁদবাগের ৭০ শতাংশ বাসিন্দা মুসলিম। সেখানে ভজনপুরে ৮০ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দু। সেই ভজনপুরের স্থানীয়দের দাবি, যারা চাঁদবাগে ভআঙচুর চালিয়েছে, তাদেরকেই ভজরপুরেও তাণ্ডব চালাতে দেখা যায়। ভজনপুর ও চাঁদবাগ এখন যেন বিচ্ছিন্ন কোনও যুদ্ধক্ষেত্র। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ওষুধের দোকানও আস্ত নেই কোনও।

বহিরাগত তত্ত্ব সামনে এনেছিলেন কেজরিওয়ালও
এদিকে দিল্লিতে অশান্তি শুরু হতেই কেজরিওয়াল দাবি করেছিলেন যে দিল্লিতে হিংসা ছড়াচ্ছে বহিরাগতরা। সেই কারণে দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছিলেন তিনি। দিল্লির সীমান্ত বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছিলেন আপ নেতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখে কেজরিওয়াল সেনা নামানোর দাবিও তোলেন।












Click it and Unblock the Notifications