রবিবার সকাল থেকে ভাসানো বৃষ্টি, মৎস্যজীবীদের জন্য জারি সতর্কতা! বাংলার বিভিন্ন জেলার সঙ্গে দেশের আবহাওয়া
রবিবার সকাল থেকে ভাসানো বৃষ্টি, মৎস্যজীবীদের জন্য জারি সতর্কতা! বাংলার বিভিন্ন জেলার সঙ্গে দেশের আবহাওয়া
বৃহস্পতিবার সারাটা দিন ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দিয়ে কাটলেও, এদিন বিকেলে আবহাওয়া দফতরের (weather office) তরফে বলা হয়েছে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যাবে। যে কারণে আবহাওয়া দফতরের তরফে রবিবার থেকে ভারী বৃষ্টির আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, মৎস্যজীবীরা যেন সমুদ্রে মাছ ধরতে না যান। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অংশে ঘূর্ণাবর্ত আর মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালের মধ্যে উত্তরবঙ্গের কোনও জেলার কোথাও ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। তবে সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত দিনের তাপমাত্রার সেরকম কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
এদিন বিকেলে দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, এবং পূর্ব বর্ধমানের কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘন্টা অর্থাৎ শনিবার সকালের মধ্যে ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস না থাকলেও, শনিবার দিনের বেলা থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া বদলাবে। প্রায় সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ওইদিন। আর রবিবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুতের সঙ্গে কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঝাড়গ্রামে হতে পারে শুধুমাত্র ভারী বৃষ্টি। আর বাকি জেলাগুলিতে বর্ষার বৃষ্টি চলতে থাকবে। সোমবার নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে আপাতত দিনের তাপমাত্রা কমার কোনও সম্ভাবনা নেই।

কলকাতার আবহাওয়া
বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওয়া কলকাতা ও আশপাশের এলাকার আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অংশত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। দু-এক পশলা বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৪ ও ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে।

মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা
আবহাওয়া দফতরের তরফে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর উত্তর এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা। যার জেরে ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে যে হাওয়া বইবে তার বেগ ঘন্টায় ৪৫ কিমি ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁরা যেন সমুদ্রে মাছ ধরতে না যান। আর যাঁরা ইতিমধ্যে গভীর সমুদ্রে গিয়েছে, তাঁরা যেন ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যে ফেরত আসেন তার জন্যও বলা হয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা( ডিগ্রি সেলসিয়াস)
ব্র্যাকেটে গতদিনের তাপমাত্রা
আসানসোল (৩১.৮)
বালুরঘাট (৩৩.৮)
বাঁকুড়া (৩০.৪)
ব্যারাকপুর (৩৩.২)
বহরমপুর (৩৫.৪)
বর্ধমান (৩৪.৮)
ক্যানিং (৩২)
কোচবিহার (৩৪.৮)
দার্জিলিং (২০.৮)
দিঘা (২৭.৭)
কলকাতা (৩২.১)
মালদহ (৩৪.১)
পানাগড় (৩১.৮)
পুরুলিয়া (২৯)
শিলিগুড়ি (৩৩.৫)
শ্রীনিকেতন (৩২.৫)

দেশের আবহাওয়া
পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং সংলগ্ন পূর্ব রাজস্থানের ওপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। যা আগামী তিনদিন একই এলাকার ওপরে অবস্থানের সম্ভাবনা। অন্যদিকে মৌসুমী অক্ষরেখার পশ্চিমের অংশ এখনও স্বাভাবিকের থেকে দক্ষিণে অবস্থান করছে। আগামী দিন চারেক সেটি এই অবস্থানেই থাকবে। বর্তমানে মৌসুমী অক্ষরেখাটি জয়চসলমের, গুনা, সাতনা, অম্বিকাপুর, পারাদ্বীপ থেকে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একটি অক্ষরেখা উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে দক্ষিণ গুজরাত, দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ, উত্তর ছত্তিশগড় হয়ে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত অবস্থান করছে। ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সেটই আরও সুষ্পষ্ট হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিম্নচাপ তৈরি এবং এর প্রভাবে উপকূলে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বাড়বে। নিম্নচাপটিও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। যার জেরে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নাগাদ ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। কোঙ্কন ও দক্ষিণ গুজরাতেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের ওপরে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ৯-১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে গুজরাত, দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান এবং পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে।
১০-১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরিয়ানা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তর প্রদেশে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরাখণ্ডে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিনদিন জম্মু ডিভিশন এবং হিমাচল প্রদেশে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় যে বৃষ্টি কমের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এইসব এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। ১৩ সেপ্টেম্বর নাগাদ বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে কর্নাটক, কেরল, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে।












Click it and Unblock the Notifications