বিজেপি বিধায়করাই তৃণমূলের শক্তি! ত্রিপুরা সরকারের আয়ু অভিষেকের হাতে, হুঁশিয়ারি কুণালের
ত্রিপুরায় (tripura) ফের তৃণমূলের ওপরে হামলার অভিযোগের মধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি তৃণমূলের (trinamool congress) সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (junal ghosh)। এদিন তৃণমূল ভবনে করা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার বিজেপ
ত্রিপুরায় (tripura) ফের তৃণমূলের ওপরে হামলার অভিযোগের মধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি তৃণমূলের (trinamool congress) সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (junal ghosh)। এদিন তৃণমূল ভবনে করা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার বিজেপির (bjp) নেতৃত্বের একটা অংশ তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরা সরকারের আয়ু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (abhishek banerjee) হাতে।

ত্রিপুরার সাব্রুমে তৃণমূলের ওপরে হামলার অভিযোগ
এদিন ত্রিপুরার সাব্রুতে নতুন দলীয় দফতর উদ্বোধন-সহ একাধিক কর্মসূচি ছিল তৃণমূলের। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, সাংসদ অপরূপা পোদ্দার, আগরতলার নেতা তপন দত্ত এবং সাব্রুমের প্রেমতোষ দেবনাথ। তাঁদের গাড়িতে একাধিকবার হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। রাস্তায় তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোঁড়া হয়। কোনওক্রমে তাঁরা এলাকা ছাড়েন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ। যদিও বিজেপির তরফে এই হামলার ঘটনাকে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাই সাজানো।

ত্রিপুরায় জঙ্গলের রাজত্ব
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের তরফে ফের একবার অভিযোগ করা হয় ত্রিপুরায় জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন হামলার নিয়ে বিপ্লব দেব সরকারকে কটাক্ষ করা হয়েছে। মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, এদিন তৃণমূলের ওপরে তিনদফায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় দোলা সেনের সহায়ক গুরুতর জখম হয়েছেন। পাশাপাশি অপর সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের ব্যাগ ছিনতাই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এছাড়াও এদিন একাধিক ব্যক্তি হামলায় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। যাঁরা তৃণমূলের পাশে এসে দাঁঢ়াতে চাইছেন, তাঁদের ওপরে হামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাঁর আরও অভিযোগ ত্রিপুরায় অলিখিত জরুরি অবস্থা চলছে। সেখানে স্বাধীনতা নেই বলেও অভিযোগ তাঁর। এদিন দুই মহিলা সাংসদের ওপর হামলার অভিযোগ করে কুণাল ঘোষ, বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন।

মানবাধিকার কমিশনকে কটাক্ষ
কুণাল ঘোষ এদিনও দাবি করেন ত্রিপুরায় বিজেপি ভয় পেয়েছে। সেই কারণেই একের পর এক হামলা। ত্রিপুরায় অলিখিত জরুরি অবস্থা চলার অভিযোগ করে তিনি মানবাধিরা কমিশনকেও নিশানা করেন। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন দলদাস, বিজেপির সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় যারাই হামলা করছে, তারাই মামলা করছে। আর যাঁরা মার খাচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে।

বিজেপি বিধায়করা যোগাযোগ রাখছেন
কুণাল ঘোষ এদিন জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ত্রিপুরার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়করা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তৃণমূল এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, যাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করলে টুসকি বাজিয়ে সেখানকার সরকার ফেলে দিতে পারেন বলে দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু তৃণমূল এখন সরকার ফেলতে চায় না। তৃণমূল মানুষের ভোটে জিতে ত্রিপুরায় সরকার গঠন করবে এবং বিজেপির সরকারকে উৎখাত করবে বলেই দাবি করেছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে জয়ের পরেই ত্রিপুরায় জাল বোনা শুরু
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জয়ের পরেই ত্রিপুরা-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের জাল বোনা শুরু করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কেরলের মতো রাজ্যে দলীয় অফিস তৈরি করে সংগঠনের নেতৃত্বে ঠিক করা হয়েছে। আর অন্য রাজ্যের থেকে ত্রিপুরার পরিস্থিতিটা একটা আলাদাই ছিল। ২০১৮-র আগে কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে ত্রিপুরায় সংগঠন তৈরি শুরু করেছিল তৃণমূল। কিন্তু ওইবছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সবাই বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৮-র ফেব্রুয়ারিতে ৬০ টি আসনের মধ্যে ৪৪ টি আসন দখল করে বিজেপি ত্রিপুরার ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান করে। তারপর থেকে মোটের ওপরে চললেও, এবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জয়ের পরেই ত্রিপুরায় নিয়ে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। সেখানে প্রথমে আইপ্যাকের সমীক্ষকদলকে পাঠালে, তাদের হোটেলে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পশ্চিমবভ্হ থেকে সেখানে যান মলয় ঘটক, ব্রাত্য বসু, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তারপর সেখানে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই তৃণমূলের তরফে ত্রিপুরায় পাঠানো হয় দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত এবং সুদীপ রাহাদের। আমবাসার তাঁদের ওপরে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর মহামারী আইনে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় আবারও ত্রিপুরায় যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications