বিহার ভোটে পরিযায়ী ইস্যু, লাভ-লোকসানের সমীকরণ খতিয়ে দেখে হিসাব কষছেন নীতীশ
দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৬.৬ শতাংশ বেকারত্বের হার বিহারে। এরই মাঝে করোনা আবহে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিহারে ফিরেছেন কাজ হারিয়ে। এই অবস্থায় একটা সময়ে পরিযায়ী ইস্যুতে নেতিবাচক মনোভব পোষণ করেছিলেন নীতীশ কুমার। তবে এখন ভোটের আবহে সেই পরিযায়ী ইস্যুকেই হাতিয়ার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নীতিশের সরকার।

বিহারের ক্ষমতায় থাকা জেডিইউর আশা
বিহারের ক্ষমতায় থাকা জেডিইউর আশা, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী যেভাবে পরিযায়ীদের নিজেদের রাজ্যে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতেও পরিযায়ীদের জন্য জণমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, তার উপর ভর করে জেডিউ-র ভোট বৈতরণী পার হয়ে যাবে এই যাত্রায়। যেই পরিযায়ী ইস্যুকে বিরোধীরা হাতিয়ার বানানোর কথা ভাবছে, জেডিইউর আশা সেই ইস্যুই তাদের ঝুলিতে আরও বেশি ভোট এনে দেবে।

ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকেই সুবিধা করে দেবে মানুষ!
এই বিষয়ে নীতীশ কুমারের সরকারের করোনা রোধী কার্যকলাপ বিহারের জনগণ মাথায় রাখবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন বিহারের জস সম্পদ মন্ত্রী তথা জেডিইউ- জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় ঝা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা পরিযায়ী ইস্যুতে যেই গল্প ভোটারদের শোনাচ্ছে, তার উল্টোটা খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছে বিহারের জনগণ। এবং বিরোধীদের বানানো কথা মাথায় ঢুকতে না দিয়ে এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকেই সুবিধা করে দেবে মানুষ।

বিহারে ফেরা পরিযায়ীদের ঢেউ
বিহারের ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল যে ৫৬.৮ শতাংশ ভোটার নির্বাচনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। এর একটা মূল কারণ ছিল বিপুল সংখ্যায় মহিলাদের ভোটদানে অংশগ্রহণ করা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি করোনার আবহে সেই ভোটার সংখ্যা কোন দিকে ঝুঁকবে, তা এক বড় চ্যালেঞ্জ নীতীশের জন্য। পাশাপাশি রয়েছে অন্য় রাজ্য থেকে বিহারে ফেরা পরিযায়ীদের ঢেউ।

নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে পরিযায়ী ইস্যু
এবারের নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা আবহে গত কয়েকমাসে রাজ্যে ফিরেছেন ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। সাধারণত নির্বাচনের জন্যে এই শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতেন না, তবে পরিস্থিতির জন্য বাধ্য হয়ে তারা নির্বাচনের সময়ে রাজ্যে থাকবেন। এর জেরে এক বড় বদল দেখা যেতে পারে ভোটের রেজাল্টে।

পরিযায়ীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নীতীশের
প্রসঙ্গত, এর আগে পরিযায়ীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিরোধীদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল নীতীশ কুমারকে। শুধু তাই নয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যখন কোটা থেকে আটকে পড়া বিহারের ছাত্রদের রাজ্যে ফেরানোর জন্য সাহায্য করার কথা বলেছিলেন, তখন তা গ্রহণ না করে ছাত্রদের রাজ্যে ফেরাতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন নীতীশ।

জঙ্গলরাজ থেকে রাজ্যকে মুক্তি দিয়েছিলেন নীতীশ
যদিও এই নেতিবাচক বিষয়গুলিকে উড়িয়ে দিয়ে বিহারের মন্ত্রী সঞ্জয় ঝা বলেন, ২০০৫ সালের আগে রাজ্যে কোনও সুশান তো দূরের কথা, প্রশাসনই ছিল না। তবে সেই জঙ্গলরাজ থেকে রাজ্যকে মুক্তি দিয়েছিল নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সরকার। শুধুমাত্র নিজেদের পোস্টার থেকে লালুপ্রসাদের ছবি সরালে মানুষের মন থেকে সেই দুর্নীতির ঘটনা মুছতে পারবে না।

পরিযায়ী ইস্যুতে লাভবান হবে এনডিএ জোট
এরপর পরিযায়ী ইস্যুতে সঞ্জয় ঝা বলেন, 'পরিযায়ী ইস্যুতে লাভবান হবে এনডিএ জোট। বিহার সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখভালে কোনও ত্রুটি রাখেনি। রাজ্য সরকার এই শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরার খরচ বহন করেছে। রাজ্যে ফেরার পর তাদের জন্য কোরেন্টাইন সেন্টার তৈরি রেখেছে। করোনা সংক্রমণ গ্রামে ছড়িয়ে পড়া রুখতে সক্ষম হয়েছে আমাদের সরকার। এছাড়া রাজ্যে ফেরা পরিযায়ীদের কর্মক্ষমতা অনুযায়ী তাদের কাজও দেওয়া হয়েছে।'

মহারাষ্ট্রের তুলনা টেনে করোনা পরিস্থিতির খতিয়ান
এরপর মহারাষ্ট্রের তুলনা টেনে এনে মন্ত্রী বলেন, 'বিহার এবং মহারাষ্ট্রের করোনা মৃত্যু সংখ্যার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে যে আমাদের সরকার কত ভালো কাজ করেছে। বিহারে ১০০০ জনেরও কম মানুষ মারা গিয়েছে। সেখানে মহারাষ্ট্রে দেখুন। সেরাজ্যএ ৪০ হাজেরেরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ১৫ থেকে ২০ লক্ষ পরিযায়ীকে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রেখে তাদের পিছনে মাথাপিছু ৫,৩০০ টাকা করে খরচ করেছি।'












Click it and Unblock the Notifications