চাঁদে রয়েছে জলের অস্তিত্ব? মিশন ব্যর্থ হলেও এখনও আশা জোগাচ্ছে চন্দ্রযানের অরবিটার
চন্দ্রপৃষ্ঠে জলের খোঁজ? নতুন সন্ধান চন্দ্রযানের অরবিটারের
ব্যর্থ হয়েছে ২০১৯ সালের মিশন। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের সময় গতির সমস্যায় চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডার বিক্রম ভেঙে পড়েলেও এখনও সক্রিয় রয়েছে অরবিটার। এখনও চক্কর কাটছে চাঁদের কক্ষপথে। আর তাতেই এখনও সুফল পাচ্ছে ইসরো। এবার এই অরবিটারই চাঁদের মাটিতে খুঁজে পেয়েছে হাইড্রক্সিল ও জলের অণু। চাঁদের ২৯ থেকে ৬২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে ওই নমুনা পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন দিশা
সম্প্রতি জার্নাল 'কারেন্ট সায়েন্স'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে ইসরোর তরফে এই কথা জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, অরবিটারে থাকা ইনফ্রারেড স্পেকট্রোমিটার চাঁদের তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণচ্ছটা বিশ্লেষণ করেই এই তথ্যের খোঁজ পেয়েছে। এদিকে এই নয়া আবিস্কারে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এমনকী গোটা বিশ্বের মহাকাশ গবেষণার পথে এই অবিষ্কার সূদূরপ্রসারী ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উচ্ছ্বসিত ইসরোর বিজ্ঞানীরা
ইসরোর গবেষরা জানাচ্ছেন চাঁদে কোন ধাতু কি পরিমাণে রয়েছে সেই বিষয়েই দীর্ঘদিন থেকে গবেষণা চালাচ্ছিলেন তারা। আর সেই গবেষণা চালাতে গিয়েই বর্তমানে চন্দ্রযান-২ থেকে প্রাপ্ত একাধিক তথ্য বিশ্লেষন করা শুরু করেন তারা। আর তাতেই চোখ কপালে ওঠে তাদের। দেখা যায় চাঁদের উত্তর অক্ষাংশের বড় এলাকা জুড়ে উপস্থিত রয়েছে হাইড্রক্সিল ও জলের অণু। এদিকে চাঁদ নিয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। এমনকী সেখানে বসবাস করা যায় কিনা তাও নিয়েও চলছে দীর্ঘ গবেষণা।

কি বলছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা
কিন্তু প্রাণ ধারণের জন্য অন্যতম প্রধান উপদান জলের উপস্থিতি সেখানে রয়েছে কিনা তা নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত মহাকাশ বিজ্ঞানী। এমনকী মঙ্গল পৃষ্ঠেও জলের খোঁজ চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। এদিকে মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযানের পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও আজও চাঁদ নিয়ে মেলেনি সকল প্রশ্নের উত্তর। এমতাবস্থায় ইসরোর এই খোঁজ গোটা বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছেই যে বড় খবর তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আগামী বছরেই নতুন মিশনে ইসরো
এদিকে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি সৌর বাতাসের সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠের বিক্রিয়ার কারণেই হাইড্রক্সিল ও জলের অনুগুলির উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই বিষয়ে যে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে তা অবশ্য বারেবারেই তা জানাচ্ছন। অন্যদিকে সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই চাঁদে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান-৩। আগের অভিযান থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের অভিযানে বেশ কিছু বদল আনছে ইসরো। নেওয়া হয়েছে একাধিক নতুন কৌশল। চন্দ্রযান-৩-এ কেবল ল্যান্ডার, রোভার থাকবে কিন্তু চন্দ্রযান ২-এর পুরনো অরবিটারই নতুন যানের অরবিটার হিসাবে কাজ করবে বলে খবর।












Click it and Unblock the Notifications