লাদাখে চিনের বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা, হাড় কাঁপুনি শীতে কাবু হবে ড্রাগন বাহিনী
লাদাখ সীমান্তে চিনের সঙ্গে সমস্যার পাঁচ মাস হতে চলল। এই সময়ের মধ্যে অনেক বৈঠক, আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সমাধানের পথ বেরোয়নি। তাই আসন্ন শীতে যুদ্ধের আশঙ্কা করে লাদাখ সীমান্তে রণসজ্জা প্রস্তুত করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। লাদাখের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেও যে অস্ত্রগুলো কার্যকরী সেগুলোই সীমান্তে মোতায়েন করছে ভারতীয় সেনা। তবে তৎপরতা যে শুধু সেনার তরফে দেখা গিয়েছে, এমনটা নয়। প্রথম থেকেই প্রস্তুতির তুঙ্গে থেকেছে দেশের বায়ুসেনাও।

শীতকালেও কী বায়ুসেনা তৎপরতা দেখাতে পারবে?
কিন্তু প্রশ্ন একটা থাকছে। বায়ুসেনা এখনও পর্যন্ত যেই তৎপরতা দেখাতে পেরেছে, শীতকালেও কী তাদের পক্ষে তা দেখানো সম্ভব হবে? সরকার শত্রুপক্ষের চোখের আড়ালে টানেল এবং রাস্তা তৈরি করেছে ঠিকই। তবে কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে ফরোয়ার্ড বেসে সেনা এবং সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে বায়ুসেনার বিকল্প নেই। সেই ক্ষেত্রে শীতকালে এই উচ্চতায় সেনাকে সাহায্য করতে কতটা তৈরি বায়ুসেনা।

লেহ এবং থইসে শীতে অবতরণ কঠিন
লাদাখের উচ্চতায় অবস্থিত দুটি এয়ারফিল্ড হল লেহ এবং থইস। এই দুটোতেই শীতকালে অবতরণ করা খুব কঠিন একটি কাজ। তবে বিগত বহু দশক ধরে ভারতীয় সেনা কিন্তু সেই কঠিন কাজটা করে এসেছে বরাবর। আর তাই, সন্দেহ প্রকাশ করা হলেও, শীতকালীন লাদাখে যে বায়ুসেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তা একপ্রকার নিশ্চিত।

মাইনাস ৩৫ ডিগ্রিতে নেমে যায় তাপমাত্রা
সমতল থেকে ১৪ হাজার ৫০০ ফিট উঁচুতে চিন সেনার মোকাবিলায় মোতায়েন রয়েছে সেনা জওয়ানরা। শত্রুর পাশাপাশি লাদাখের কনকনে শীত থেকে বাঁচতে জওয়ানদের জন্য নতুন আশ্রয় তৈরির কাজ করছে ভারতীয় সেনা। শীতকালে রাতে পূর্ব লাদাখে র স্বাভাবিক তাপমাত্রা মাইনাস ৩৫ ডিগ্রির আশপাশে থাকে। সঙ্গে দোসর প্রবলবেগে চলা হিমেল হাওয়া।

অ্যাডভানস্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডস তৈরি
এহেন পরিস্থিতিতে ভারত-চিন সীমান্তে আরও কিছু অ্যাডভানস্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডস অর্থাৎ ছোটো ছোটো ঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় বায়ুসেনা। ভারত-চিন সীমান্তের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার ঢালগুলিতে পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাপ্লাই অব্যাহত রাখা যাবে
কূটনৈতিক ও সেনা কমান্ডার স্তরে একাধিক বৈঠকের পরেও ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতির সমাধানের কোনও দিকনির্দেশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে শীতের মরশুমও এগিয়ে আসছে। এই সময়ে বরফ পড়ে ফরওয়ার্ড এলাকাগুলিতে যাওয়ার সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এই পরিস্থিতিতে বায়ুসেনার ছোটো ছোটো ছাউনিগুলি সামরিক দিক থেকে ভারতকে অনেকটা শক্তিশালী করবে। যুদ্ধকালীন কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সাপ্লাই অব্যাহত রাখা যাবে।

এই ঘাঁটিগুলি ব্যবহার হয় এয়ারলিফ্টার ও পণ্যবাহী বিমানের জন্য
এই ধরনের ছোটো ছোটো বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলি থেকে যুদ্ধবিমান ওঠা-নামা করতে পারলেও মূলত এই ঘাঁটিগুলি ব্যবহার হয় এয়ারলিফ্টার ও পণ্যবাহী বিমানের জন্য। সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস, এএন ৩২ বিমানগুলি সহজেই ওঠা-নামা করতে পারে এই বায়ুসেনা ছাউনি থেকে।

এলএসিতে ১৭টি অ্যাডভানস্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড ইতিমধ্যেই রয়েছে
প্রসঙ্গত, ভারত-চিন সীমান্ত বরাবর বায়ুসেনার ১৭টি অ্যাডভানস্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড ইতিমধ্যেই রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি রয়েছে অরুণাচল প্রদেশে, ৬টি লাদাখে ও একটি রয়েছে উত্তরাখণ্ডে। আর এই অ্যাডভানস্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড থেকে সেনা আউটপোস্ট পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যম হল হেলিকপ্টার।












Click it and Unblock the Notifications