চিনের জিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা ভারতের, কেন এমন উদ্যোগ
চিনের জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা শুরু করল ভারত। এই প্রথম এমন এক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
চিনের জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা শুরু করল ভারত। এই প্রথম এমন এক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার চিনের ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মন্তব্য করে জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবাধিকারকে সম্মানিত করা উচিত। এই স্বল্প পরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে ভারত।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রাক্তন হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের ফলো আপে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলার নামে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সেই বার্তা উঠে আসে ভারতের কথায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন একথা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি জানান, জিনজিয়াং অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে এক খসড়া প্রস্তাভে ভারত বিরত থাকার একদিন পর মুখ খোলে। জিনজিয়াংয়ের উইঘুর স্বায়ত্বশাসিক অঞ্চলে মানবাধিকার উদ্বেগ সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় দ্বারা মূল্যায়নের বিষয়টি ভারত নোট করেছে।
তিনি বলেন, জিনজিয়াংয়ের উইঘুর স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের মানুষের মানবাধিকারকে সম্মান করা উচিত। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষ বস্তুনিষ্ঠভাবে এবং সঠিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। ২০২০ সালের মে মাসে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাতে সামরিক স্থবিরতার কারণে ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল। তারপর এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ইউএনএইচআরসিতে ভোটে ভারতের অনুপস্থিতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অরিন্দম বাগচি বলেন, ভারত সমস্ত মানবাধিকার বাজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই মোতাবেক জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের জন্য রেজুলেশন থেকে বিরত থেকেছে। ভারত কেন বিরত থাকল সে ব্যাপারে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করে অরিন্দম বাগচি বলেন, ভারতের ভোট তার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ভারত নির্দিষ্ট রেজোলিউশনের পক্ষপাতী নয়। ভারত এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় আলোচনার পক্ষপাতী।
এখানে উল্লেখ, ভোটাভুটির ফল শেষপর্যন্ত চিনের পক্ষে যায়। ইউএনএইচআরসির ১৯ জন সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ভারত, মালয়েশিয়া ও ইউক্রেন-সহ ১১ জন সদস্য বিরত থাকে। প্রস্তাবটি ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান এবং নেদারল্যান্ড সমর্থন করেছিল। জিনজিয়াং সংক্রান্ত রেজোলিউশনে কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠী দ্বারা উপস্থাপিত হয়েছিল। তুরস্কের মতো দেশগুলি সেই প্রস্তাবে সমর্থন করেছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, যৌন এবং লিঙ্গভিত্তিক হিংসার ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মোট কথা মানবাধিকারকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বের কথা জানিয়েছে ভারত।












Click it and Unblock the Notifications