Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পাকিস্তানের থেকে বড় শত্রু চিন! বলেছিলেন দেশের সমাজতান্ত্রিক নেতারা, গ্রাহ্য করেনি বিজেপি-কংগ্রেস

ভারতে চিরকালই বিদেশনীতির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়ে এসেছে পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ। তবে লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাটি ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে চিন পাকিস্তানের থেকে বড় হুমকির সম্মুখীন করতে পারে দেশকে।

চিন নিয়ে সতর্ক করেছিলেন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদরা

চিন নিয়ে সতর্ক করেছিলেন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদরা

চিন যে ভারতের জন্য পাকিস্তানের থেকে বড় হুমকি, সেই কথা বহুকাল আগেই বলে গিয়েছিলেন দেশের সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদরা। জর্জ ফার্নান্ডেজ থেকে মুলায়ম সিং যাদব, এমনকি রাম মনোহর লোহিয়াও এই বিষয়ে কেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন সরকারকে অবগত করতে চেয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেস বা বিজেপি সরকার কোনওদিনই এই হুমকিকে গ্রাহ্য করেনি।

চিন নিয়ে সতর্ক করা হয় নেহরুকে

চিন নিয়ে সতর্ক করা হয় নেহরুকে

১৯৫০ সালে যখন চিন তিব্বত দখল করে তখন দেশে 'হিন্দি-চিনি ভাই ভাই' রব। সেই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে এই বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন। তবে তা গ্রাহ্য করেননি নেহরু। ফল, ১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধ। এরপরও বেশ কয়েকবার ভারত-চিন সীামন্ত পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।

কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষন করতে ব্যর্থ হয় সমাজতান্ত্রিকরা

কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষন করতে ব্যর্থ হয় সমাজতান্ত্রিকরা

ভারতের দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ ও মুলায়ম সিং যাদবও চিনের হুমকির প্রসঙ্গে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চেয়েছিলেন। তবে বৃথা ছিল সেই চেষ্টা। ভারতের দৃষ্টি চিরকালই পশ্চিমে পাকিস্তানের দিকেই ছিল। মুলায়মের ভাষণে অনেকবারই উঠে আসে যে চিন কিরকম বিশ্বাসঘাতক। তবে কেউই শোনেনি সেই কথা।

ভারতের ভূখণ্ড দখল করে চিন

ভারতের ভূখণ্ড দখল করে চিন

এর জেরেই চিন একটু একটু করে ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছে। তবে সেটা ছিল ১৯৬২ সালে। আকসাই চিনের ৩৭,২৪৪ বর্গ কিলোমিটার দখল করে চিন। এরপর ইউপিএ জমানায় ২০০৮ সালে ছবি ও প্যাংনাক উপত্যকায় ২৫০ কিলোমিার ঢুকে যায় চিন। ২০১২ সালে কংগ্রেস জমানায় জোরাওয়ার ফোর্ট ধ্বংস করে সেখানে অবজার্ভিং পয়েন্ট বানায় চিন। ২০০৮ সালে ভারত ডুম চেলির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ভারত।

ভারতে চিনের ব্যবসার পরিমাণ

ভারতে চিনের ব্যবসার পরিমাণ

বর্তমান পরিস্থিতিতে লাদাখ সীমান্তে চিন-ভারত সংঘর্ষের রেশ এবার এসে পড়েছে দেশীয় বাজারে। সূত্রের খবর, একাধিক ই-কমার্স সংস্থার হাত ধরে বার্ষিক ৭৪০০ কোটি ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করে চিন। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বার্ষিক প্রায় ১৭০০ কোটি ডলারের চিনা পণ্য লেনদেন করে থাকেন। চিন থেকে আমদানি করা এই পণ্যের গুলির মধ্যে প্রধানত থাকে,খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রী, মোবাইল, বৈদ্যুতিন পণ্য, এবং কিছু প্রসাধন সামগ্রী।

চিনা পণ্য বয়কটের ডাক

চিনা পণ্য বয়কটের ডাক

তবে দেশে এখন চিন বিদ্বেষ চরমে। চিনা পণ্য বর্জন করার ডাক উঠেছে। চিনা সংস্থার বরাত বাতিল করা হচ্ছে। তবে এতকাল ধরে দেশের অর্থনীতির খাতিরে এই চিনকে তুষ্ট করার কাজ করে এসেছে কেন্দ্রে থাকা কংগ্রেস বা পরবর্তীতে বিজেপি সরকার। সমাজতন্ত্রের ডাকে কান না দিয়ে কেন্দ্র ঝুঁকেছিল ক্যাপিটালিস্ট পথে। এখন সেই পথই কাঁটা বিছিয়েছে ভারতের জন্য।

মোদীর 'ভোকাল ফর লোকাল' ডাকটা দেরিতে এল

মোদীর 'ভোকাল ফর লোকাল' ডাকটা দেরিতে এল

মেক ইন ইন্ডিয়ার ডাক দিলেও চিনা পণ্য বর্জন যে প্রায় অসম্ভব, তা বুঝতে বাকি নেই অর্থনীতিবিদদের। এই আধুনিক যুগে যুদ্ধ যেখানে বাণিজ্য ক্ষেত্রে সেখানে চিনকে টেক্কা দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'ভোকাল ফর লোকাল' ডাকটা তাই মনে হয় অনেক দেরিতে এল।

ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে লালফৌজের হামলা

ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে লালফৌজের হামলা

সোমবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে সংঘর্ষ শুরু করে চিনের পিএলএ। এই সংঘর্ষে ভারতের তরফে ২০ জন সৈনিক শহিদ হন। অপর দিকে চিনের তরফেও অন্তত ৪৩ জনের হতাহতের খবর মিলছে। এই পরিস্থিতির জন্য মূলত চিনের অনুপ্রবেশই দায়ি। তবে এই প্রথমবার নয়। এর আগে বারংবার এই কাজ করেছে চিন।

গালওয়ান নিয়ে বিতর্ক

গালওয়ান নিয়ে বিতর্ক

প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে এই গালওয়ান সংলগ্ন এলাকাতেই দু'দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। চিন ও ভারতের মধ্যে যে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কনট্রোল আছে, অর্থাৎ, এলএসি, ঠিক সেখানে। সীমান্তের অন্য দিকে কাশ্মীরের সেই অংশটি যাকে আকসাই চিন বলা হয়। খুব দুর্গম জায়গা, সারা বছর প্রচণ্ড শীত, এখনকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই কঠিন। কাজেই দীর্ঘ দিন ধরে যুদ্ধ কারও পক্ষেই অসম্ভব। কাজেই গুরুত্বটা স্ট্র্যাটেজিক।

যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটা?

যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটা?

তবে মনে হয় না এখনই পরিস্থিতি পুরোপুরি যুদ্ধের দিকে বাঁক নেবে। ইতিমধ্যেই দু'দেশে সামরিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে কী ভাবে এই সংঘাত বন্ধ করা যায়। চিনও প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা চায় না যে সীমান্তে সংঘর্ষ চলতে থাকুক। চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর ফোনে আলোচনা হয়েছে। এগুলো ইঙ্গিত যে আরও বড় মাপের সংঘাতের দিকে গড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে এটাও ঠিক যে চিন-ভারত সমস্যা সহজে মিটবে না। আপাতত ঝামেলা চলতেই থাকবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+