ভারতীয়দের জন্য ব্রিটেনের কোয়ারেন্টাইন নীতি নিয়ে চোখে চোখ রেখে বার্তা দিল্লির! কী জানাল বিদেশমন্ত্রক
ভারতের ব্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড যে ভারতীয়রা নিয়েছেন, তাঁরা ভ্যাকসিনেটেড নয় বলে ব্রিটেন গণ্য করবে। একথা জানিয়ে বরিস জনসনের দেশ স্পষ্ট করেছিল যে, যাঁরা ভারত থেকে কোভিশিল্ড নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করবেন তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এই গোটা নীতিকে 'বিভেদমূলক' বলে ব্যাখ্যা করে কার্যত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। সাফ ভাষায় দিল্লি ব্রিটেনকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নিয়ে এত আপত্তি ব্রিটেনের তার মূল ভ্যাকসিন কিন্তু ব্রিটেনই। ভারত কেবল তার ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারার।

এদিকে বরিস জনসনের ইউকে-র এমন সিদ্ধান্তকে যথন জাতিবিদ্বেষেকর নামান্তর বলে বর্ণনা করছে একটা বড় অংশ,তখন আমেরিকা জানিয়েছে, কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নিয়ে যাঁরা আমেরিকার প্রবেশ করবেন তাঁদের ক্ষেত্রে রয়েছে ছাড়পত্র। ভারতের ভ্যাকসিনগুলির মধ্যে কেবল কোভিশিল্ডই এই ছাড় পেয়েছে। এদিকে, ব্রিটেনের স্টান্স নিয়ে সুর খানিকটা চড়িয়ে ভারত, জানিয়েছে, একটা সময় ব্রিটেনের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ৫ মিলিয়ন কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন ব্রিটেনে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, সেই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন গ্রহিতাদের নিয়েই এমন বিভাজনের নীতি তৈরি করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ব্রিটেনের ভ্যাকসিন নীতি অনুযায়ী, কোভিশিল্ড গ্রহিতাকা ব্রিটেনে পৌঁছে ১০ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। যা নিয়ে কার্যত কড়া মোনভাব পোষণ করেছে দিল্লি।
ভারতের তরফে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কোভিশিল্ডকে মান্যতা না দেওয়া একটি বিভেদমূলক ঘটনা। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে বিদেশন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিষয়টিকে ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। ব্রিটেনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে দিল্লি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যেভাবে ব্রিটেনের কাছ থেকে বার্তা আসবে, সেভাবেই দিল্লিও নিজের নীতি তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে ব্রিটেনে ভারতীয়দের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হবে, ভারত সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে। এদিকে, আমেরিকার জানিয়েছে নভেম্বর মাস থেকে সেদেশে প্রবেশ করতে গেলে কোভিশিল্ডের সম্পূর্ণ ডোজ থাকলেই সেখানে প্রবেশ করা যাবে। ফলে সেই জায়গা থেকে সমস্যা হবে না। এদিকে, ব্রিটেনের এই নীতিকে বর্ণবিদ্বেষী ও অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ শশী থারুর ও জয়রাম রমেশ। এদিকে, এই ভ্য়াকসিন নীতি নিয়ে বহু দিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ব্রিটেনের নীতি। প্রশ্ন উঠেছে কোন যুক্তিতে ভারতীয়দের জন্য আলাদা নিয়ম লাগু করা হয়েছে? ২০০ বছর ভারতে সাম্রাজ্য কায়েম করে যাওয়া ব্রিটিশরা এখনও কোন মানসিকতা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। উল্লেখ্য, ব্রিটেনের অ্যাস্ট্রাজেনেকার রূপ ভারতের কোভিশিল্ড। ব্রিটেনের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাস্ট্রাজেনেকার ইউরোপ আর আমেরিকার প্রাপকদের জন্য আলাদা নিয়ম। সেখানে বলা হয়েছে এই ভ্যাকসিন ইউরোপে, আমেরিকায় যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই টিকাকে মান্যতা দেবে ব্রিটেন। এর জেরেই বেড়েছে ক্ষোভ।












Click it and Unblock the Notifications