বেজিংয়ের বুকে ছুরিকাঘাত! লাদাখ সংঘাতের মাঝেই বাণিজ্যিক যুদ্ধে চিনকে চেকমেট ভারতের
চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে নয়া চাল দেওয়ার পথে হাঁটল দিল্লি। এর আগে লাদাখ সংঘর্ষের পর চিনা অ্যাপ ব্যান করার বিষয়ে সরব হয়ে চিনের বক্তব্য ছিল যে ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইন লঙ্ঘন করছে। সেসব বিতর্কে না গিয়ে এবার ভারত এক সুপ্রসারিত আইন আনতে চলেছে যার আওতায় থাকবে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করা সব দেশ, কিন্তু এই আইনের জেরে সব থেকে বেশি প্রভাবিত হবে চিন।

নয়া আইনে কী রয়েছে?
কেন্দ্রের আনা নয়া আইনে বলা হচ্ছে যে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেয় এরকম কোনও দেশ যদি ভারতীয় সরকারি কোনও প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চায় বা সেখানে কাজ করতে চায় সে ক্ষেত্রে তারা যতক্ষণ না বাণিজ্য দফলতে নিজেদেরকে নথিভুক্ত করছে, ততক্ষণ টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এই নয়া আইনে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে চিন।

হাইওয়ের প্রকল্প থেকে বাদ চিন
প্রসঙ্গত, এর আগে লাদাখ নিয়ে চলমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি সাফ বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভারতে আর কোনও হাইওয়ে নির্মাণের জন্য প্রোজেক্টে চিনা সংস্থাকে বরাত দেওয়া হবে না। তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে এভাবে কোনও একটি দেশকে বাদ রাখা যায় না। তার জন্যে একটি আইন লাগে। ঘুরিয়ে সেই আইনটি এমন ভাবে ভআরত আনল যে এবার বেজিংয়ের তরফে এ নিয়ে কোনও কান্নাকাটির সুযোগ নেই।

দুটি বড় প্রজোক্ট আগেই হাতছাড়া হয়েছে বেজিংয়ের
লাদাখের অশান্ত পিরিস্থিতির মাঝে দেশের দুটি বড় প্রোজেক্ট থেকে আগেই বাদ দেওয়া হয় চিনা সংস্থাকে। অর্থমন্ত্রক ও বাণিজ্যমন্ত্রক উভয়ই চিনা পণ্যের রমরমার উপর পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে৷ কারণ তা দেশীয় শিল্পগুলির ক্ষতি করছে৷ চিনের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ভারতীয় রেলের ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড।

মহারাষ্ট্রে ৫ হাজার কোটি প্রকল্প হাতছাড়া হয় চিনের
ম্যাগনেটিক মহারাষ্ট্র ২.০ আওতায় ৩টি চিনা সংস্থার সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করেছিল মহারাষ্ট্রের সরকার। এই চিনা সংস্থাগুলির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু গালওয়ান উপত্যকায় অতর্কিতে চিনা বাহিনীর ভারতীয় জোয়ানদের প্রতি হামলার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।

বিহারেও ক্ষতির মুখে পড়ে চিন
এছাড়া বিহারে মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গার উপর দিয়ে একটা মেগা ব্রিজ তৈরির পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার ভার পড়েছিল দুটি ভারতীয় কম্পানির উপর। যার অংশীদার একটি চিনা নির্মাণ কোম্পানি৷ লাদাখ ইস্যুর পর কেন্দ্র বাতিল করে দেয় ওই ভারতীয় কোম্পানির টেন্ডার৷

চিনকে অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ভারত
লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষের পরই চিনকে অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ভারত৷ অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যাকশনের দিকে তাকিয়ে কমপক্ষে ১০০টি চিনা পণ্য৷ ৫জি বাজারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চিনা সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ-সহ ভবিষ্যতে চিনের বিনিয়োগকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে৷ এছাড়া লাদাখ নিয়ে চিনের সঙ্গে সংঘাতের মাঝে সোমবার রাতেই টিকটক ও ইউসি ব্রাউজার-সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছিল ভারত সরকার।

এফডিআই নীতিতে বদল এনে চিনকে ধাক্কা দিয়েছিল ভারত
এর আগে এফডিআই নীতিতে বদল এনেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রক। পড়শি দেশের জন্য এফডিআই নতুন নীতি এনে কেন্দ্র জানিয়ে দেয় পড়শি দেশের কোনও সংস্থা ভারতে বিনিয়োগ করতে চাইলে আগে সরকারকে অবগত করতে হবে। এর আগে স্বয়ংক্রিয় পথে সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারত বিদেশের সংস্থাগুলি। তবে নতুন এই নীতির ফলে বিদেশিদের এদেশে বিনিয়োগ করতে গেলে আগে সরকারকে জানিয়ে তার অনুমতি নিতে হবে। ভারত লাগোয়া দেশগুলির জন্য এই সংশোধিত এফডিআই নীতি। এতোও জোর ধাক্কা খেয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল বেজিং।












Click it and Unblock the Notifications