দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নামবে ৯ শতাংশে! প্রজাতন্ত্র দিবসে ধাক্কা আইএমএফের পূর্বাভাসে
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নামবে ৯ শতাংশে! প্রজাতন্ত্র দিবসে ধাক্কা আইএমএফের পূর্বাভাসে
চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৯ শতাংশে নামতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে বলে আশঙ্কার বার্তা এল প্রজাতন্ত্র দিবসে। করোনাভাইরাসের নতুন রূপের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে চলেছে বলে অনুমান।

করোনার কারণে ভারতীয় অর্থনীতি উদ্বেগজনকভাবে হারে কমতে পারে। কেননা ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং গতিশীলতা ধাক্কা খেয়েছে করোনার প্রভাবে। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের সর্বশেষ আপডেটে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান একুশের অক্টোবরে ভারতের জন্য ৯.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির অনুমান করেছিল। পরবর্তী অর্থবছরের অর্থাৎ এপ্রিল ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৩-এর পূর্বাভাস ছিল ৭.১ শতাংশ।
২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭.৩ শতাংশে সংকুচিত হয়েছিল। বর্তমান আর্থিক বছরের জন্য আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে ৯.২ শতাংশের কম হতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যা কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যানের থেকে কম। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনুমান করেছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৯.৫ শতাংশ।
আইএমএফের ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে পূর্বাভাস এস অ্যান্ড পি-র ৯.৫ শতাংশ এবং মুডি'স-এর ৯.৩ শতাংশের থেকে কম কিন্তু বিশ্বব্যাংকের ৮.৩ শতাংশ এবং ফিচের ৮.৪ শতাংশের থেকে বেশি৷ আইএমএফে-এর মতে, ২০২৩-এ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উন্নতির সম্ভাবনা প্রত্যাশিত। পরবর্তীকালে, বিনিয়োগ ও খরচ, আর্থিক খাতের প্রত্যাশিত কর্মক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তা উন্নীত হবে বলাই যায়।
আইএমএফ জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালে ৫.৯ থেকে ২০২২ সালে ৪.৪ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অক্টোবরে ডব্লুইও-র তুলনায় ২০২২-এ অর্ধ শতাংশ পয়েন্ট কম হবে প্রবৃদ্ধি, যা মূলত দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের পূর্বাভাস মার্কডাউনকে প্রতিফলিত করে।
একটি সংশোধিত অনুমান রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। আর্থিক আবাসন প্রত্যাহার এবং ক্রমাগত সরবরাহের ঘাটতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নমুখী করেছে প্রবৃদ্ধিকে। তবে আইএমএফ যা অনুমান করচে তার থেকে ১.২ শতাংশ-পয়েন্ট সংশোধিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চিনে জিরো-টলারেন্স কোভিড নীতি আরোপিত থাকলেও মহামারী সম্পর্কিত বাধা এবং সম্পত্তি বিকাশকারীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক চাপে ০.৮ শতাংশ-পয়েন্ট ডাউনগ্রেড প্ররোচিত করেছে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.৮ শতাংশে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের তুলনায় ০,২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রবৃদ্ধি বেশিরভাগ দেশে নিম্নস্তরে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ২০২২-এর শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনেশনের হারের উন্নতি হবে এবং থেরাপিগুলি আরও কার্যকর হবে বলে ধরে নিয়েই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। একটি ব্লগ পোস্টে আইেমএফে প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ লিখেছেন যে, মহামারীটি তৃতীয় বছরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications