অর্জুনের জন্য সুপারিশকৃত তালিকায় বাংলার তিন কন্যা, হার্দিক পাচ্ছেন খেল রত্ন
এবারের মেজর ধ্যানচাঁদ খেল রত্ন পুরস্কারের জন্য এককভাবে সুপারিশ করা হলো ভারতীয় পুরুষ হকি দলের সহ-অধিনায়ক হার্দিক সিংয়ের নাম।
অন্যদিকে, কিশোরী দাবাড়ু দিব্যা দেশমুখ এবং ডেকাথলেট তেজস্বিন শঙ্কর-সহ মোট ২৪ জনকে অর্জুন পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে নির্বাচনী কমিটি। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলার শ্যুটার মেহুলি ঘোষ ও টিটিতে অলিম্পিয়ান সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের নাম। আজ একটি সভার পর নামগুলি ঘোষিত হয়েছে।

২৭ বছর বয়সী হার্দিক ভারতীয় হকি দলের মাঝমাঠের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি ২০২১ সালের টোকিও এবং ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক্সে পদকজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এ বছর তিনি ভারত এশিয়া কাপে স্বর্ণপদক জেতা দলেরও অংশ ছিলেন, যা তাঁর অসামান্য প্রদর্শনকে তুলে ধরে।
প্রথমবারের মতো যোগাসন থেকে কোনও ক্রীড়াবিদ অর্জুন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আর এই বিরল সম্মান পেয়েছেন আরতি পাল। ক্রীড়া মন্ত্রক দ্বারা যোগাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাঁচ বছর পর এই ঘটনা ঘটল। আরতি জাতীয় ও এশিয়ান যোগাসন উভয় ক্ষেত্রেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে যোগাসন একটি প্রদর্শনী খেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
১৯ বছর বয়সী দিব্যা দেশমুখ বিশ্বকাপ জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা দাবাড়ু। সহ-দাবাড়ু বিদিত গুজরাটিও অর্জুন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ডেকাথলেট তেজস্বিন শঙ্কর ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে একটি ঐতিহাসিক রৌপ্য পদক জিতেছিলেন এবং চলতি বছরের শুরুতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
রাইফেল শ্যুটার মেহুলি ঘোষ, যিনি দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একাধিক পদক পেয়েছেন, তাঁকেও অর্জুন পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং ভারতের সেরা মহিলা ব্যাডমিন্টন জুটি তৃষা জলি ও গায়ত্রী গোপীচাঁদও এই তালিকায় রয়েছেন। গায়ত্রী জাতীয় ব্যাডমিন্টন কোচ ও প্রাক্তন অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন পুল্লেলা গোপীচাঁদের মেয়ে।
চলতি বছর এই পুরস্কারের তালিকায় কোনও ক্রিকেটারের নাম নেই। ২০২৩ সালে পেসার মহাম্মদ শামি সর্বশেষ ক্রিকেটার হিসেবে এই সম্মান পেয়েছিলেন। অর্জুন পুরস্কারের জন্য মনোনীত বাকি ২১ জন হলেন: প্রিয়াঙ্কা (অ্যাথলেটিক্স), নরেন্দর (বক্সিং), ধানুশ শ্রীকান্ত (ডেফ শুটিং), রাজকুমার পাল (হকি), সুরজিৎ (কবাডি), নির্মলা ভাটি (খো খো), রুদ্রাংশ খান্ডেলওয়াল (প্যারা-শুটিং), একতা ভিয়ান (প্যারা-অ্যাথলেটিক্স), পদ্মনাভ সিং (পোলো), অরবিন্দ সিং (রোইং), অখিল শেওরণ (শুটিং), সুতীর্থা মুখোপাধ্যায় (টেবল টেনিস), সোনম মালিক (কুস্তি),লালরেমসিয়ামি (হকি), মহম্মদ আফজল (অ্যাথলেটিক্স) এবং পূজা (কবাডি)।
দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান, খেল রত্ন পুরস্কারের বিজয়ী একটি পদক, একটি মানপত্র এবং ২৫ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার পান। অন্যদিকে, অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্তরা ১৫ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার পান। নির্বাচন কমিটির সদস্য হিসেবে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (আইওএ) সহ-সভাপতি গগন নারাং, প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় অপর্ণা পোপাট এবং প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় এম এম সোমায়ার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বছর খেল রত্ন পুরস্কার পেয়েছিলেন চারজন ক্রীড়াবিদ- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দাবাড়ু ডি গুকেশ, পুরুষ হকি দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং, প্যারা-অ্যাথলেটিক্স খেলোয়াড় প্রবীণ কুমার এবং শুটার মনু ভাকের।












Click it and Unblock the Notifications