ভয়াবহ তাপের সঙ্গী হতে পারে বিপর্যয়! আগামী মরসুমে উত্তরপ্রদেশ-বিহার-ঝাড়খণ্ডের জন্য বড় সতর্কতা
আপাতত এল নিনো দুর্বল হলেও, আগামী তিন মাসের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পারদ চড়বে। সেই তালিকা থেকে বাদ যাবে না ভারতও। যা এবারের বৃষ্টিকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এল নিনোর প্রভাব ৬০ শতাংশের মতো থাকবে।
এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে যা সামান্য থাকবে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে এল নিনো থাকবে। তবে লা নিনা থাকবে না। এল নিনোর প্রভাব বোঝা যাবে। এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। গত বছরের এল নিনো এখনও পর্যন্ত পাঁচটি শক্তিশালী এল নিনোর মধ্যে একটি ছিল। তবে এটি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, বছরের শেষের দিকে লা নিনা গঠিত হতে পারে। তবে এব্যাপারে এখনই কিছু বলা মুশকিল। এল নিনো গড়ে প্রতি দুই থেকে সাত বছরে একবার ঘটে থাকে। এর প্রভাব নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এল নিনো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি জলবায়ু প্যাটার্ন। এল প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষুবরেখার চারপাশে প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমান এল নিনো এবছরের এপ্রিলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। জুলাই মাসে লা নিনা প্রভাব ফেললেও, তা অল্প সময়ের জন্য হতে পারে। আর সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরে লা নিনার গঠনের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি।
এর প্রভাবে ভারতের বৃষ্টিপাতের ওপরে প্রভাব পড়তে পারে। ভারতে আবহাওয়া ও ঝড়ের ধরণে পরিবর্তন হতে পারে। উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্যগুলিতে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। প্রসঙ্গত লা নিনা তিনবছর স্থায়ী হওয়ার পরে ২০২৩-এর মার্চে শেষ হয়। যে কারণে ওই বছরে ভালো বর্ষা হয়েছিল। অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি চলেছিল। সেখানে অবশ্য আকষ্মিক বন্যা ও ভূমিধস লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ২০২৩ ছিল উষ্ণতম বছর।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, এল নিনোর কারণে ক্রবর্ধমান তাপমাত্রা আরও বেড়েছে। বেড়েছে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন। বিষুবরেখার চারপাসে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এর প্রভাব দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রাও গত ১০ মাস ধরে ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। তবে এর জন্য শুরু এল নিনো দায়ী নয়।
আবহাওয়ার এই প্যাটার্নের কারণে বিপর্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী তিন মাস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে বলেও মনে করছেন আবহবিদরা। পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications