দিল্লিতে প্রথমবার হতে চলেছে কৃত্রিম বৃষ্টি! কীভাবে হবে? এতে কোন উপকার হবে জানেন?
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে, আবহাওয়া ভালো থাকলে ২৯শে অক্টোবর প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সাক্ষী হতে চলেছে দিল্লি শহর। দিল্লির বহু প্রতীক্ষিত কৃত্রিম বৃষ্টি পরীক্ষা যা মূলত জুলাই মাসে নির্ধারিত ছিল তা বর্ষা, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে দেরি হয়েছিল।

দিল্লি সরকারের মতে, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুসারে যদি ২৯ বা ৩০ অক্টোবর আকাশ মেঘলা থাকে, তাহলে শহরের বেশ কয়েকটি অংশে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার মধ্যে দূষণের মাত্রা কমাতে একাধিক এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, এটি শহরের বায়ু দূষণ মোকাবেলায় বৈজ্ঞানিক সমাধান প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় কৃত্রিম মেঘ তৈরি করে বৃষ্টি নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই প্রথমবার দিল্লিতে ক্লাউড সিডিং পদ্ধতিতে দূষণ রুখতে কৃত্রিম বৃষ্টি করানো হতে পারে। রেখা গুপ্ত আরও বলেন, "সরকারের লক্ষ্য হল দিল্লির বায়ুকে আরও পরিষ্কার করা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা।" তিনি তার মন্ত্রিসভার সহকর্মী মনজিন্দর সিং সিরসা এবং প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানান।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা বলেছেন যে আজ, আইআইটি কানপুর থেকে মীরাট, খেকরা, বুরারি, সাদকপুর, ভোজপুর, আলিগড় হয়ে দিল্লি অঞ্চলে একটি পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ট্রায়াল সিডিং ফ্লাইট ওড়ানো হয়েছে। মিরট, খেকরা, বুরারি, সদকপুর, আলিগড় হয়ে তা আবার আইআইটি কানপুরে ফিরে গিয়েছে। খেকরা এবং বুরারির ক্লাউড সিডিং করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের জন্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষা প্রায় চার ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল। এর মধ্যে সেসনা বিমানটি আইআইটি কানপুর থেকে উড্ডয়ন এবং ফিরে আসতে যে সময় নিয়েছিল তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিমানটি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট দিল্লির আকাশসীমায় ছিল। মূলত উত্তর দিল্লির বুরারি এলাকায় পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছিল।
ক্লাউড সিডিং হল একটি বৈজ্ঞানিক কৌশল যা বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। জলীয় বাষ্প পূর্ণ মেঘের উপরে সিলভার আয়োডিনের ন্যানোপার্টিকেল, আয়োডাইজড নুন ও রক সল্টের মিশ্রণ ছড়িয়ে দেওয়া হয় যার ফলে মেঘে জলীয় বাষ্প সম্পৃক্ত হয় এবং বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াটি প্রায়শই খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা, দূষণ হ্রাস করে বায়ুর মান উন্নত করতে বা জলাধারগুলিতে জলের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করতে পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, দিল্লির মতো প্রধান শহরগুলিতে তীব্র বায়ু দূষণ এবং জলের ঘাটতি মোকাবেলায় একটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা হিসাবে ভারতে ক্লাউড সিডিং সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
দীপাবলির পরই দিল্লিতে বাতাসের মান খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছে। দীপাবলিতে আতশবাজি পোড়ানোর পরই পুরো দিল্লি ও দিল্লি সংলগ্ন এলাকা জুড়ে ধোঁয়া ও ধুলোর চাদরে ঢেকে গিয়েছে শহর। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরলেই শুরু হচ্ছে চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট। গাড়ির ধোঁয়ায় সেই দূষণ আরও বেড়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications