গরুর পায়ে পিষ্ট হলে তবেই নাকি ফিরবে ভাগ্য! ভারতে প্রচলিত এমনই এক আজব রীতির কথা শুনলে চমকে উঠবেন
অন্ধভাবে মানুষ বিশ্বাস করে যে সেই রীতি না মানলে হতে পারে বিপদ। তেমনই এক উৎসব হল মধ্যপ্রদেশের গোবর্ধন পূজা। দিওয়ালির সময় এই পূজা হয় মধ্যপ্রদেশের দুই গ্রামে।
ভারতীয়দের অনেক প্রচলিত রীতি আছে। সে সব প্রাচীন রীতি ভারতীয়দের কাছে গর্বের। তবে আজও অনেক রীতিতে মিশে আছে অন্ধবিশ্বাস। সে সব রীতি নিয়ে অনেক ভয়ও রয়েছে মানুষের মনে।
অন্ধভাবে মানুষ বিশ্বাস করে যে সেই রীতি না মানলে হতে পারে বিপদ। তেমনই এক উৎসব হল মধ্যপ্রদেশের গোবর্ধন পূজা। দিওয়ালির সময় এই পূজা হয় মধ্যপ্রদেশের দুই গ্রামে।
এই উৎসবের রীতি হল মাটিতে শুয়ে থাকবে মানুষ, আর তার গায়ের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে গোরু। অর্থাৎ গরুর পায়ে পিষ্ট হতে হবে মানুষকে, এটাই নাকি প্রথা!

অঞ্চলের মানুষ এই রীতিতে বিশ্বাস করে
শুধু হেঁটে যাওয়া বললে ভুল হয়, পুরোদমে ছুটবে গোরু। উজ্জ্বয়িনে বড়নগর তেহসিলের ভিড়াওয়াড় গ্রাম ও তার আশেপাশের অঞ্চলের মানুষ এই রীতিতে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে এই প্রথা মেনে চললে তাদের ভাগ্য ফিরবে, পূরণ হবে সব ইচ্ছে। স্থানীয়রা রঙ দিয়ে সাজিয়ে দেন গোরুগুলিকে। তাদের গলায় পরানো ঘয় ঘণ্টা। এই প্রথাকে বলা হয় 'গাই গৌহরি'। গোরুগুলির গলায় মালা পরিয়ে তাদের ছোটানো হয়। পূজার সময় পুরুষ ও মহিলারা ড্রামের তালে নাচেন।

পুত্র সন্তান কামনা করে এই প্রথা পালন করেছিলেন
গ্রামবাসীদের মধ্যে কথিত আছে, একসময় এক ব্যক্তি পুত্র সন্তান কামনা করে এই প্রথা পালন করেছিলেন। তাতে সফল হন তিনি। এরপর থেকেই বিশ্বাস করা হয়, এই প্রথা মানলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই প্রতি বছর নিয়ম করে এই প্রথা পালন করা হয়। গ্রামবাসীরা বলেন যে সময় রাজারা রাজত্ব করতে সেই সময় থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। তাঁরা আরও বিশ্বাস করেন যে সারা বছর গোরুরা যে কষ্ট করে, তার জন্য এভাবেই ক্ষমা চান মানুষ। এই পূজায় গোবর্ধনের মূর্তি বানানো হয় গোবর দিয়ে।

কিশোরদেরও গোবরের ওপর শুইয়ে দেওয়া হয়
উজ্জ্বয়িনের মতোই ঝাবুয়াতেও একইভাবে পালিত হয় এই উৎসব। সেখানকার গ্রামবাসীরাও মনে করে এই প্রথায় কোনও নষ্ট নেই, কোনও আঘাত করা হয় না। ঝাবুয়াতে তো বটেই, তার আশেপাশের অঞ্চলের মানুষও একই ভাবে এই রীতিতে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে এই প্রথা মেনে চললে তাদের ভাগ্য ফিরবে, পূরণ হবে সব ইচ্ছে।
শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নয়, কিশোরদেরও গোবরের ওপর শুইয়ে দেওয়া হয়। ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোরদের শুইয়ে দেওয়া হয় গোবরের ওপর। এতে তাদের রোগ সেরে যাবে ও তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে বলেও বিশ্বাস করা হয়।

অন্নকূট পূজা নামে পরিচিত
এই গোবর্ধন পূজাই আবার অন্নকূট পূজা নামে পরিচিত। এই পূজায় মূলত কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করা হয়। বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্র যখন প্রবল বৃষ্টি দিয়েছিলেন, তখন মানুষকে সেই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য গোবর্ধন পাহাড় মাথায় তুলেছিলেন কৃষ্ণ। যদিও চিকিৎসকেরা বলেন, গোবরে এমন অনেক ব্যাকটিরিয়া থাকে, যা থেকে চামড়ার ক্ষতি হতে পারে, তাই এই ধরনের রীতি থেকে দূরে থাকা উচিৎ।












Click it and Unblock the Notifications