Chandrayaan 3: আর্যভট্ট থেকে চন্দ্রযান-৩, এক নজরে ভারতের মহাকাশে সাফল্যের ইতিহাস
বিগত কয়েক বছরে ভারতের মহাকাশ গবেষণাতে আশাতীত সাফল্য এসেছে। প্রথম বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলির মতোই মহাকাশ গবেষণাতে এগি্য়ে চলেছে ভারত। বুধবার ভারতের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দিন। চাঁদের মাটি স্পর্শ করতে চলেছে চন্দ্রযান ৩। আর্যভট্ট থেকে চন্দ্রযান-৩ নতুন মাইলস্টোন তৈরি করেছে ইসরো।
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি দেশের গর্বের একটি প্রধান উৎস। এই বিষয়টিকে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।শুধু তাই নয় এই কর্মসূচি গুলিকে ভারতের অর্থনীতির উন্নতি এবং এর বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সূচক হহিসেবেও দেখা হয়। ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে ধরা হল ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন।

১৯৭৫ সালে ভারত মহাকাশে প্রথম স্যালেটাইট পাঠায়। যার নাম ছিল আর্যভট্ট। ৩৫৮ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটটি বৈজ্ঞাণিক নানা যন্ত্রপাতি ছিল, এই স্যাটেলাইটে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং বিকিরণ বেল্ট অধ্যয়ন করার জন্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন করে। ১৯৮৩ সালে দ্বিতীয় স্যালেটাইট উৎক্ষেপণ করে ভারত।এই স্যাটেলাইটগুলি টেলিযোগাযোগ, সম্প্রচার, আবহাওয়াবিদ্যা, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
১৯৯০ সাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় এক উল্লেখয়োগ্য বছর। পিএসএলভি লঞ্চ করে ভারত। এক দশক পর ফের সাফল্য পায় ভারত। ২০০০ সালে আরও উন্নত ভার্সান জিএসএলভিকে মহাকাশে পাঠায় ভারত।
স্যাটেলাইট অধ্যায়ে সাফল্যের পর ভারতের মিশন হয় চন্দ্রযান। সাল ২০০৮, কেন্দ্রের ক্ষমতায় ইউপিএ ১ সরকার। ভারতের প্রথম চাঁদের পাহাড় অভিযান। চন্দ্রযান ১- পাড়ি দিল চাঁদের দেশে। ২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিল চন্দ্রযান। ভারত যে পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে মহাকাশযান পাঠাতে প্রস্তুত, এই অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বকে সেই বার্তাই দিয়েছিল ইসরো। ভারতের সেই অভিযান ছিল বিশ্বের কাছে ক্ষমতা প্রদর্শন।

তখনও পর্যন্ত, আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান এবং ইউরোপ চন্দ্রালোকে অভিযান করতে সক্ষম হয়েছিল। পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নেয় ভারত।চাঁদ সংক্রান্ত বহু তথ্য পৃথিবীর বুকে পাঠিয়েছিল চন্দ্রযান-১। ভারতের এই মহাকাশযানই চাঁদে জলের অস্তিত্ব প্রথম খুঁজে পেয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল।
চাঁদের পর ভারতের মিশন ছিল মঙ্গল। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর মঙ্গলযান অভিযানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ৩০০ দিন ধরে তা মহাকাশের যাত্রা করে। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মহাকাশযানটিকে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল। গতবছর মঙ্গলের মাটিতেই শেষ হয় তাঁর অভিযান। জ্বালানি শেষ হওয়ায় ইতি ঘটে মঙ্গলযানের।

বিবৃতি ইসরো দিয়ে বলে, ''এই আট বছরে (ওই যানের মাধ্যমে) মঙ্গল গ্রহের মৃত্তিকার নানা বৈশিষ্ট্য এবং সেখানকার পরিবেশ-সহ এক্সোস্ফিয়ারের সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণা হয়েছে।''
এর আগে ২০১৯ সালেও চন্দ্রালোকে অভিযানের আয়োজন করেছিল ভারত। চাঁদে পাড়ি দিতে পাঠানো হয়েছিল চন্দ্রযান-২। কিন্তু সে বার 'চাঁদ হাতে পাওয়া'র স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। চাঁদের মাটিতে সফল অবতরণ করতে পারেনি ভারতের চন্দ্রযান।
এবার চন্দ্রযান ৩। গোটা দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। চাঁদের মাটিতে ভারতীয় দূতের পর্দাপণের। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত যে মহাকাশ মিশন হাতে নিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম চন্দ্রযান-৩৷ মহাকাশ অনুসন্ধানে ভারত স্পষ্টতই একটি ক্রমবর্ধমান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications