বিহার নির্বাচন যেন রাজনৈতিক জগাখিচুড়ি, নীতীশ-তেজস্বীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জোটের ছড়াছড়ি
আসন্ন বিহার নির্বাচনে সব বিশেষজ্ঞের মতেই মূল লড়াই নীতীশ কুমার বনাম তেজস্বী যাদব। তবে এই হেভিওয়েটদের লড়াইয়ের মাঝেও রয়েছে একাধিক ডার্ক হর্স এবং জোট। সাধারণত যেকোনও বড় রাজনৈতিক লড়াইতে দুটি জোটকেই আমরা দেখে অভ্যস্ত। তবে বিহার তার ব্যতিক্রমণ। আসন্ন নির্বাচনে এনডিএ এবং তেজস্বীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ ছাড়াও রয়েছে আরও অন্তত দুটি বড় জোট। তাছাড়া রয়েছেন চিরাগ পাসোয়ান, শরদ যাদবদের মতো সিঙ্গল খেলোয়াড়।

সব থেকে চ্যালেঞ্জার হাইপ্রোফাইল হলেন তেজস্বী যাদব
ক্ষমতায় থাকা এনডিএ জোটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ময়দানে নামা খেলোয়াড়দের মধ্যে সব থেকে হাইপ্রোফাইল হলেন তেজস্বী যাদব। তাঁরই নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বিরোধী মহাজোট। এই জোটে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন আরজেডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ১৪৪ টিতে। তাঁদের জোটশরিক কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে ৭০ টি আসন। বাম দলগুলি লড়বে ২৯ আসনে। আরজেডির ১৪৪টি আসনের মধ্যে কয়েকটি ছেড়ে দেওয়া হবে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাকে।

হাত মিলিয়েছেন ওয়েইসি-মায়াবতী
এধিকে বিহার নির্বাচনে দলিত এবং মুসলিম ভোট কেন্দ্রীভূত করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং মায়াবতী। এই জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদের মুখ করা হয়েছে এই জোটের বৃহত্তম শরিক আরএলএসপি সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশওয়াহাকে। আরএলএসপি, বিএসপি, এআইএমআইএম ছাড়াও এই জোটে থাকছে দেবেন্দ্র প্রসাদ যাদবের সমাজবাদী জনতা দল, সন্তোষ পাণ্ডের এসবিএসপি-সহ কয়েকটি ছোট এলাকাভিত্তিক দল।

কোন সমীকরণে এগিয়ে মায়াবতী-ওয়েইসির জোট
দলিতদের রাজনৈতিক দল হিসাবে ঘোষিত বিএসপি। তাছাড়া গত বছর সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে মুসলিমদের মুখ হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন ওয়েইসি। এছাড়া বিহারের মহাদলিত, কুরমি, মল্লা জাতিদের নেতারাও এই জোটে রয়েছে। বর্তমানে বিহারের সীমাঞ্চল অঞ্চলে সব থেকে বেশি শক্তি সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছে ওয়েইসির দল। এই এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোট ৩০টি বিধানসভা আসনের গতিবিধি-ফলাফল সব বদলে দিতে পারে। প্রথমবারের মতো, ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে এই অঞ্চলেই একটি আসন জিতেছিল এআইএমআইএম।

পাপ্পু যাদবের নেতৃত্বে ৯টি দলের জোট
এছাড়া বিহার বিধানসভা ভোটে, ন'টি আলাদা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ফ্রন্ট তৈরি করেছেন পাপ্পু যাদব, যার নাম দেন প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। এই জোটে রয়েছে চন্দ্রশেখর আজাদ রাবণের আজাদ সমাজ পার্টিও। এই জোটের তরফে বিহারের ২৪৩টি আসনেই প্রার্থী দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই পাপ্পুকেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এককালে রাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় 'ভোটকাটুয়া' বলে অভিহিত করেছেন।

এরা লড়বেন শরদ যাদব
এছাড়া বিহার নির্বাচনের আগে কংগ্রেস-আরজেডি জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল শরদ যাদবের লোকতান্ত্রিক জনতা দল। আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আরজেডি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা করতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন জেডিইউ সভাপতি শরদ যাদব। তবে ফল না মেলায় একা লড়াই করার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ৫১টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণাও করেছিলেন শরদ যাদব।

একা লড়বেন চিরাগ পাসোয়ানও
এদিকে বিহারের ৪২টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেন চিরাগ পাসোয়ান। তাতে দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকটি আশনেই বিজেপি এবং জেডিইউর বিক্ষুব্ধদের আসন দিয়েছেন চিরাগ পাসোয়ান। বিজেপি থেকে অন্তত পাঁচজন বিদ্রোহী চিরাগের শরণাপন্ন হয়েছেন। যদিও চিরাগ বলছেন তিনি বিজেপিকে সমর্থন করা বন্ধ করবেন না। কিন্তু নীতীশের বিরোধিতায় সরব চিরাগকে দলে টানতে সাহস পাচ্ছে না পদ্ম শিবির নিজেও। এই আবহে একাই লড়াই করছে চিরাগেল এলজেপি।












Click it and Unblock the Notifications