বালাকোট স্ট্রাইক: ২৬ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে দুর্ধর্ষ মিরাজ ২০০০-র বালাকোট অভিযানের কী ছিল ছক
রাত তখন ১টা। চারিদিকে অন্ধকার। দেশবাসী নিশ্চিন্ত নিন্দ্রায়। দেশের অতন্ত্র প্রহরীরা তখন প্রহর গুণছেন দেশের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় সার্জিকাল স্ট্রাইকের পরিণতি দেওয়ার জন্য।
রাত তখন ১টা। চারিদিকে অন্ধকার। দেশবাসী নিশ্চিন্ত নিন্দ্রায়। দেশের অতন্ত্র প্রহরীরা তখন প্রহর গুণছেন দেশের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় সার্জিকাল স্ট্রাইকের পরিণতি দেওয়ার জন্য। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রাত একটা ১৫ মিনিয়ে কাশ্মীরের আকাশের বুক চিড়ে উড়ে গিয়েছিলন দুর্ধর্ষ যুদ্ধ বিমান মারাজ ২০০০। গোয়ালিয়রয়ের বায়ুসেনা ঘাঁটির রানওয়েতে তখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা। একে একে কানফাটানো আওয়াজ করে উড়ে যাচ্ছে সশস্ত্র ২০ টি বিধ্বংসী মিরাজ যুদ্ধ বিমান। বরেলির আকাশে পৌঁছে মধ্যগগনেই তেলের ট্যাঙ্ক ভরেছিল তারা। তারপর ঝড়ে গতিয়ে কাশ্মীরের আকাশ চিড়ে উড়ে গিয়েছিল সীমান্তের ওপারে বালাকোটে। কেমন ছিল সেই দুর্ধর্ষ অভিযান বালাকোট স্ট্রাইকের এক বছর পূর্তিতে তা প্রকাশ করলেন মূল পরিকল্পক বায়ুসেনা পাইলট হরি কুমার।

সন্তর্পণে সিঁধ কেটেছিল মিরাজ
২০টি মিরাজ ২০০০। রাত একটা পনেরো মিনিটে গোয়ালিয়র থেকে পাড়ি দিয়ে ভোর তিনটে ৪৫ মিনিটে তাঁরা পাকসীমান্ত অতিক্রম করে। পাহাড়কে ঢাল করে শত্রুপক্ষের র্যাডার এড়িয়ে প্রায় ৩০,০০০ ফুট উচ্চতা দিয়ে সন্তর্পণে পিওকেটে ঢুকে পড়ে ১৬টি মিরাজ। শত্রুপক্ষের উপর নজরদারির জন্য ২টি বিমানকে রাখা হয় নজরদারিতে। আর বাকি চারটি বিমান সীমান্তে থেকে যায় আপতকালীন পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ করার জন্য।

জইশের ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ
পিওকে-র ১৫ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে জইশের ঘাটিতে প্রথম বোমা বর্ষণ শুরু করে ইজরায়েলের তৈরি ১৫টি মিরাজ ২০০০। প্রথম বোমা বর্ষণের পরেই ১২টি বিমান ফিরে আসে। তারা ফিরে আসার পর আরও চারটি মিরাজ ২০০০ জইশের ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ শুরু করে। তাদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক মিকা আর এফ। আই আর এয়ার টু এয়ার মিসাইল। পুরো অপারেশনটি শেষ করে বায়ুসেনার সময় লেগেছিল ২১ মিনিট। গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পরেই পুরো পরিকল্পনাটি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বায়ুসেনার বালাকোট অভিযানের মূল পরিকল্পক পাইলট হরি কুমার।

পুলওয়ামা হামলার ৩ ঘণ্টার মধ্যে বায়ুসেনাকে ফোন
পুলওয়া হয়েছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টে ১৫ মিনিটে। তার ঠিক তিন ঘণ্টার মধ্যে বায়ুসেনা প্রধান প্রস্তুত হওয়ার কথা বলেছিলেন। বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধনোয়া ক্যান্টমেন্টে ওয়েস্টার্ন এয়ার কামান্ডের বাড়িতে গিয়ে বালাকোট অভিযান নিয়ে কথা বলেছিলেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি এই নিয়ে ক্যাবিনেট মিটিং ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরেই বালাকোট অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

র'এর সঙ্গে বৈঠক ডোভালের
১৮ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দা সংস্থা র এবং অন্যান্য গোয়েন্দাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বায়ুসেনা, নৌসেনা এবং বাহিনীর প্রধানরা। সেখানেই বালাকোটে পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি জইশের ঘাঁটিকে টার্গেট করা হয়। কারণ সেখানে কেবল নাশকতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। আশপাশে কোনও লোকবসতি ছিল না। তারপরেই বায়ুসেনাকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া। ১৯৭১ সালের পর এটাই ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা প্রথম দেশের বাইরে কোনও অভিযান। অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল পুরো পরিকল্পনা।

চার জন বায়ুসেনা আধিকারিক জানতেন ছক
মাত্র চারজন বায়ুসেনা আধিকারিককে বালাকোট অভিযানের ছক সাজানোতে সামিল করা হয়েছিল। তার সঙ্গে ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান। যাতে কেউ জানতে না পারেন সেকারণে অত্যন্ত সন্তর্পণে গোয়ালিয়র এয়ার বেসে পাইলটদের প্রস্তুত করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications