সিন্ধিয়া বিদায়ে কংগ্রেসে বার্ধক্যের ছাপ! ওয়ার্কিং কমিটির গড় বয়সে পরিষ্কার দলের জরাজীর্ণ রূপ
শতাব্দী প্রাচীণ দল কংগ্রেস। সেই দলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকগুলিতেই। সেই ওয়ারিকং কমিটির সদস্যদের গড় বয়স কত জানেন? প্রায় ৭০! এই গড় বয়স দুই দিন আগে পর্যন্ত কিছুটা কম ছিল। সৌজন্য জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তবে তিনি দল ছাড়তেই ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের গড় বয়স এখন ৬৯.৯ বছর।

বিজেপির বিকল্প কংগ্রেসে যুব মুখ নেই!
বিজেপির বিকল্প হিসাবে কংগ্রেস যখন নিজেকে তুলে ধরতে মরিয়া কংগ্রেস, ঠিক সেই সময় দল থেকে পরবর্তী প্রজন্মের এক বড় নেতার বিদায় ঘটল। দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন যুব সমাজকে নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া কংগ্রেস তখন তাদের দলেই দেখা দিযেছে যুব নেতার অভাব। ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা বঢড়ার বয়সই শুধু ৫০-এর নিচে। এরপর সব থেকে 'তরুণ' নেতার নাম কেসি বেণুগোপাল। যার বয়স ৫৭ বছর।

সিন্ধিয়ার বিদায়ে আরও বার্ধক্যর ছাপ কংগ্রেসে!
একদা গান্ধী পরিবারে ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত হলেও সৌজন্যহীন ভাবে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। পরপর চারবারের এই সাংসদ মধ্যপ্রদেশ তথা জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের বড় মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে তাল কাটে ২০১৮ সালের মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই। কঠোর পরিশ্রম করে কংগ্রেসকে আশাতীত জয় এনে দিয়েও মেলেনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদটিও রয়ে যায় অধরা। এরপর রাজ্যসভায় যেতে চেয়ে হাইকমান্ডের দ্বারস্থ হলেও কোনও জবাব মেলেনি তাতে। পেয়েছেন শুধু উপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত এতেই শেষ সুতোটি কাটে। দল ছাড়েন তিনি।

কংগ্রেসের অন্দরে প্রবীণ বনাম তরুণ দ্বন্দ্ব
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, জ্যোতিরাদিত্যের দলত্যাগ কংগ্রেসের অন্দরে প্রবীণ বনাম তরুণ দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দিল। পাশাপাশি অনেকেই একধাপ এগিয়ে বলছেন, বর্তমানে কংগ্রেসে থাকতে হলে গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হতে হবে, নয়ত কংগ্রেসে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে। কংগ্রেসের অন্দরে হতাশায় উঠে এসেছে হাইকমান্ডের দায়সারা মনভাবের কথাটিও। আক্ষেপ, দ্বন্দ্বের ফায়দা তুলেই জ্যোতিরাদিত্যকে গেরুয়া শিবিরে টানতে সমর্থ হলেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের তালিকা
- মনমোহন সিং, বয়স ৮৭
- রাহুল গান্ধী, বয়স ৪৯
- অধীর রঞ্জন চৌধুরী, বয়স ৬৩
- আহমেদ প্যাটেল, বয়স ৭০
- একে অ্যান্টনি, বয়স ৭৯
- অম্বিকা সোনি, বয়স ৭৭
- আনন্দ শর্মা, বয়স ৬৭
- অবিনাশ পান্ডে, বয়স ৬২
- দীপক বাবরিয়া, বয়স ৬১
- গাই খানগাম, বয়স ৬৯
- গোলাম নবী আজাদ, বয়স ৭১
- হরিশ রাওয়াত, বয়স ৭১
- কেসি বেণুগোপাল, বয়স ৫৭
- লুইজিনহো ফালেইরো, বয়স ৬৮
- মোতিলাল ভোরা, বয়স ৯২
- মল্লিকার্জুন খার্গে, বয়স ৭৭
- মুকুল ওয়াসনিক, বয়স ৬১
- ওমন চণ্ডী, বয়স ৭৬
- প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, বয়স ৪৮
- রঘুভীর সিং মীনা, বয়স ৬১
- তাম্রধ্বজ সাহু, বয়স ৭০
- তরুণ গগৈ, বয়স ৮৫

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে সিন্ধিয়া
বিজেপির পথে পা যে বাড়িয়ে দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় হোলির দিন সকালেই। মঙ্গলবার সকাল সকাল প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যা। সিন্ধিয়া যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোদীর বাসভবনে ঢোকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। জল্পনা ছিল আগেই। তবে এই ছবি সামনে আসতেই আর সব সন্দেহ চলে যায়। এর পরপরই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক। পরে ইস্তফা দেন আরও বেশ কয়েকজন। মোট ২২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে দেন।












Click it and Unblock the Notifications