অমসে CAA বিরোধী বিক্ষোভে হিংসার ঘটনার তদন্তের জন্য এসআইটি গঠনের নির্দেশ সর্বানন্দের
অসমে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভে হিংসার ঘটনার তদন্ত করতে এসআইটি গঠনের নির্দেশ দিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ বেশ কয়েকদিন অগ্নিগর্ভ ছিল অসম। আপাতত সেই রাজ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে মোবাইল ইন্টার্নেট পরিষেবা। এদিকে এই অশান্ত পরিস্থিতির জন্য বিরোধীদের গুজব রটানোকে দায়ি করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। হিংসার জেরে অসমে অন্তত ৪ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর এসেছিল। এরপর অসমের বিভিন্ন জায়গায় কার্ফু জারি ছিল বেশ কয়েকদিন। ধাপে ধাপে সেই শিথিলতা উঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সর্বানন্দের বক্তব্য
তিনি বলেন, 'আমি লক্ষ্য করেছি যে এই নয়া আইন সম্পর্কে কিছু জন জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছে। আর এই অগ্নিগর্ভ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য তারাই একমাত্র দায়ী। অপপ্রচার চালিয়ে বলা হচ্ছে যে এই আইনের ফলে কয়েক কোটি বাংলাদেশি অসমে আসবে এবং তার ফলে অসমীয়ারা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে অসম থেকে। এই ধরণের গুজবে জনগণকে কান না দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি। গোটা অসমকে এই ধরণের মানুষেরা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এরাই জনগণকে মিথ্যা প্ররোচনায় উজ্জীবিত করছে। এদের কিছু জনকে গ্রেফতার ও করা হয়েছে।'
|
অসম পুলিশের টুইট
এদিকে টুইটে অসম পুলিশ জানিয়ে দেয়, রাজ্যে পুনরায় ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে। জনগণের প্রতি আমাদের অনুরোধ সোশাল মিডিয়ায় তারা যেন কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিয়ো বা তথ্য শেয়ার না করেন। রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি আনতে আপনাদের সহায়তা একান্ত কাম্য। ১১ ডিসেম্বর রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১৬ ডিসেম্বর তিনসুকিয়া, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, জোরহাট, গোলাঘাট, কামরূপ সহ ১০টি জেলায় আরও ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে অসমের পরিস্থিতি।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন
২০১৬ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের থেকে সামান্য বদল রয়েছে ২০১৯-এর পাশ হওয়া আইনে। নতুন বিলে শর্ত দেওয়া হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ বা তার আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে যে সমস্ত অমুসলিম শরণার্থীরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, পারসি বা জৈন ধর্মের যেই লোকেরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকে ভারতে বসবাস করেছেন, তারা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন।

আটক হয় ৩০০০ জন
গত ১১ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল ২০১৯ল পাশ হওয়ার পর ১২ তারিখ মধ্যরাতে তাতে শিলমোহর পড়ে যায় রাষ্ট্রপতির। এদিকে, দিল্লিতে যখন এই সরকারি প্রক্রিয়া চলছে, তখন উত্তরপূর্ব জ্বলে উঠতে থাকে। গোটা ঘটনায় আটক হয় ৩০০০ জন। মোট ১৩৬ টি মামলা অসমের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। এদিন এই তথ্য জানানো হয়েছে অসম পুলিশের তরফে। অসম পুলিশ জানিয়েছে মোট ১৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে হিংসায় উস্কানির অভিযোগ রয়েছে।

উত্তর-পূর্বের মানুষের দাবি
এদিকে উত্তর-পূর্বের মানুষের দাবি, এই আইনের কারণে সেখান জনজাতির অবলুপ্তি ঘটতে পারে। সম্প্রতি উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের বিস্তৃর্ণ অংশে আপাতত এনআরসি হবে না। অসম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় ষষ্ঠ তপশিলের অন্তর্ভূক্ত স্বশাসিত এলাকাগুলিতে এনআরসি লাগু করা হবে না।












Click it and Unblock the Notifications