তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার মাঝেও আশ্বাস দিল কেন্দ্র, জাতীয় স্বার্থেই জ্বালানি নীতি: জয়শঙ্কর
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে। সোমবার রাজ্যসভায় এই আশ্বাস দেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর।
তিনি জানান, তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভারতের নীতি নির্ধারণ হবে মূলত তিনটি বিষয় মাথায় রেখে ব্যয়, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সরবরাহের স্থায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দেশের স্বার্থই সবার আগে রাখা হবে।

রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, "ভারতীয়দের স্বার্থই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকার কখনও আপস করবে না।"
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল উৎপাদন ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পরিবহনপথে প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী যা বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, সেখানে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার বাজার ও সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে যে আপাতত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও সংকট নেই। এর আগে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, ভারতে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভান্ডারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মজুতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টার একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু করা হয়েছে।
ভারত প্রতিদিন প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক করে তুলেছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে গত কয়েক বছরে তেল আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে ভারত। বর্তমানে দেশের মোট তেল সরবরাহের ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা ও রাশিয়ার এশীয় অঞ্চল থেকে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারত এখন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে কোনও একটি অঞ্চল বা দেশের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকেরা।












Click it and Unblock the Notifications