বাস্তব ‘হাবজি গাবজি’ দেখা গেল লখনউতে, মাকে খুন করে মোবাইল গেম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মত্ত কিশোর
বাস্তব ‘হাবজি গাবজি’ দেখা গেল লখনউতে, মাকে খুন করে মোবাইল গেম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মত্ত কিশোর
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত 'হাবজি গাবজি'। যেখানে দেখানো হয়েছে যে মোবাইল গেম শিশুমনে কতটা প্রভাব ফেলে। সর্বনাশা এই মোবাইল গেম কতটা সাংঘাতিক হয়ে উঠতে পারে তারই উদাহরণ দেখা গেল লখনউতে। লখনউয়ের ১৬ বছরের এক কিশোরকে মোবাইল গেম খেলার জন্য তার মা বকা দেওয়ায়, মাকে খুন করে বসল কিশোর। শুধু তাই নয়, মায়ের দেহ অন্য ঘরে রেখে বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইল গেমে মত্ত হয়ে যায় অভিযুক্ত কিশোর।

এই খুনের পর অভিযুক্ত পিজিআই এলাকায় তার বাড়িতে দুই বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানায়, ডিমের কারি অর্ডার দেয় অনলাইনে এবং ফুকরে সিনেমা দেখে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে। তার বন্ধুরা যখন কিশোরের মা কোথায় জিজ্ঞাসা করে তখন অভিযুক্ত জানায় যে তার মা মাসির বাড়ি গিয়েছে। পুলিশের কাছে কিশোর তার মাকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে। জেরার সময়ই পুলিশের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে কিশোর।
কিশোর পুলিশি জেরায় জানিয়েছে যে তাকে তার মা পাবজি খেলতে না দেওয়ায় মায়ের ওপর রেগে যায় সে এবং রবিবার মধ্যরাতে তার বাবার লাইসেন্স বন্দুক দিয়ে মাকে গুলি করে খুন করে। মায়ের মৃত্যুর পর কিশোর মায়ের দেহটিকে অন্য ঘরে টানতে টানতে নিয়ে যায় এবং তার ছোট বোনকে অন্য ঘরে আটকে রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর দু'দিন ধরে তার মায়ের দেহর সঙ্গে একই বাড়িতে ছিল। এরপর দেহ থেকে যখন দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে এবং দেহে পচন ধরলে কিশোর রুম ফ্রেশনার ছড়িয়ে দিত। যদিও মৃতদেহের দুর্গন্ধ কোনওভাবে চাপা পড়ে যায়নি বরং তা প্রতিবেশীদের নাকে যাওয়ার পর তারা পুলিশকে জানায়।
মা এবং তার ১০ বছরের বোনের সঙ্গে ওই কিশোর থাকত। সেনাবাহিনীতে কর্মরত তার বাবা পশ্চিমবঙ্গে বদলি রয়েছেন। তিনি বাড়িতেই তাঁর লাইসেন্স বন্দুকটি রেখে দিয়ে গিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, দিনভর মা-বাবাদের কাজের ব্যস্ততা, তাঁদের মোবাইল ফোনে সময় কাটানো, সন্তানদের সময় না দেওয়া এগুলি শিশু-কিশোরদের ভার্চুয়াল জগতের প্রতি আকর্ষণকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোভিড-লকডাউনে ঘরবন্দি হয়ে আরও বেশি করে মোবাইল গেমের নেশায় ডুবে ছোটরাও। সেই বাস্তব সমস্যাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন রাজ চক্রবর্তী। তাঁর পরিচালিত ছবি 'হাবজি গাবজি' মোবাইল গেমের কুফলটিকে তুলে ধরেছে। তাই শিশুদের হাতে মোবাইল ফোনের বদলে, তাদের হাত ধরে মাঠে খেলতে নিয়ে যান, বাইরের জগতের সঙ্গে পরিচয় করান, ওদের সময় দিন, এই ধরনের ঘটনা আর হবে না বলেই মনে করেন রাজ চক্রবর্তী।












Click it and Unblock the Notifications