সাহারনপুরের দাঙ্গা : বিশ্লেষণ

সাহারনপুরে দাঙ্গার কারণ: বিতর্কিত জমিতে নির্মাণ
- সাহারনপুরের কুতুবসের এলাকায় মুসলিম ও শিখ পরিবারের মধ্য বিতর্কিত জমিই এই বিবাদের মূলে। গত কয়েক বছর ধরে দুই পরিবারই রেলওয়ে স্টেশনের কাছে গুরুদ্বার সংলগ্ন জমিটির একটি ক্ষুদ্র অংশ তাদের বলে দাবি করে আসছিল।
- শুক্রবার রাতে কয়েকজন শিখ ব্যক্তি এই বিতর্কিত জমির উপর নির্মাণ স্থাপন করতে শুরু করেন। তার জেরেই শনিবার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে সাহারণপুর। দুইপক্ষকে ইঁট পাথর ছুঁড়ে একে আপরকে আক্রমণ করে। অগ্নিসংযোগও ঘটানো হয় এদিন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২ জনের।
সাহারনপুর দাঙ্গা নিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বক্তব্য
- শিখ পরিবারের দাবি, ১৫ বছর আগে ওই জমিটি তারা কেনেন। তার পর থেকে এই জমির দেখভাল করছিলেন তাঁরাই। তাঁদের বক্তব্য জমিটি গুরুদ্বার সংলগ্ন তাই ওই জমিতে সম্পূর্ণ অধিকার তাঁদেরই।
- সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিখেদের দাবি এই দাঙ্গা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন যেখানে শুধু ইঁট-পাথর দিয়ে হামলা করেছিলেন সেখানে মুসলিম ছেলেদের হাতে বন্দুক, পিস্তল,তলোয়ার ছিল লড়াইয়ের সময়।
সাহারনপুর দাঙ্গা নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি
- মুসলিম পরিবারের দাবি, এই জমিটি ওয়াকঅফ বোর্ডের অধীন। সেখানে তাঁদের অনুমতি ছাড়া কেউ কোনও নির্মাণ গড়ে তুলতে পারেন না।
- সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাহারনপুরের সিভিল কোর্টে মহরম আলি পাপ্পুর নামে পিটিশন দায়ের করা আছে ১০ বছর আগে। সেই পিটিশনে বলা আছে বিতর্কিত জমিতে মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে। গুরুদ্বার এই জমি ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু ২০১৩ সালের মে মাসে অতিরিক্ত জেলা জজ একটি নির্দেশিকা জারি করেন যাতে বলা হয় জমিটি গুরুদ্বারের অংশ।
সাহারনপুরের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা- এখনও পর্যন্ত কী কী হল?
- দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগ ঘটানোর জেরে ৩৮ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- জেলা প্রশাসক এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। এলাকায় দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশও জারি করেছে পুলিশ।
- অঞ্চলে ১৮ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications