কীভাবে ফেরত আসবে নাগরিকত্ব! নাগরিকপঞ্জী বিতর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই জানতে হবে আপনাকে
এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী মোতাবেক এই মুহূর্তে অসমের বৈধ নাগরিক বা বলতে গেলে অসমে বসবাসকারী ভারতের বৈধ নাগরিক ২.৮৯ কোটি।
এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী মোতাবেক এই মুহূর্তে অসমের বৈধ নাগরিক বা বলতে গেলে অসমে বসবাসকারী ভারতের বৈধ নাগরিক ২.৮৯ কোটি। মোট ৩.২৯ কোটি মানুষের মধ্যে থেকে ৪০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ১৯৫১ সালে অসমে প্রথমবার এনআরসি করা হয়। সারা দেশে অসমই একমাত্র রাজ্য যেখানে এভাবে এনআরসি করা হয়েছে। সেই তালিকাই আপডেট করার পর নতুন করে গোল বেঁধেছে। কীভাবে বৈধতা হারানো আসল নাগরিকরা নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন, সেই নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে।

নাম বাদ যাওয়া ৪০ লক্ষ মানুষ কী নাগরিক নন?
অবশ্যই নয়। এটা শুধু খসড়া তালিকা। নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। এই তালিকার উপরে ভিত্তি করে কাউকে বন্দি শিবিরে পাঠানো হবে না বলেও অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন।

কতদিন সময় পাওয়া যাবে আবেদনের?
৩০ অগাস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাদ যাওয়া নামের মানুষরা এনআরসি সেবা কেন্দ্রে আবেদন করতে পারবেন। ৭ অগাস্ট থেকে ফর্ম পাওয়া যাবে। শেষ অবধি ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।

কী করতে হবে?
যাদের তালিকায় নাম নেই তাঁরা বা তাঁদের পূর্বপুরুষ ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে অসমে এসেছেন তা প্রমাণ করতে হবে। ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তি অনুযায়ী এটাই কাট-অফ ডেট। অসম ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ আলোচনার পর এই সময় ঠিক হয়েছিল।

কীভাবে প্রমাণ করা যাবে?
১৯৫১ সালের এনআরসি অনুযায়ী নাগরিকরা নিশ্চিতভাবে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করিয়ে থাকবেন। ফলে তালিকায় নাম থাকলে তাঁরা অবশ্যই ভারতের নাগরিক। তাঁদের উত্করপুরুষও ভারতের নাগরিক। জন্মের শংসাপত্র, জমির দলিলের মতো তথ্যও প্রমাণ হিসাবে দেখানো যাবে।

বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের কি ফেরানো হবে?
অসমে আন্দোলন হয়েছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিজের দেশে ফেরানোর লক্ষ্য়েই। তবে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশ কোনওদিনই স্বীকার করেনি, অসমে অনুপ্রবেশকারীরা সেদেশের বাসিন্দা। অসমে আগে ৬টি বন্দি শিবির ছিল। আরও একটি বানানো হচ্ছে। সেখানে ৩ হাজার জনের জায়গা হবে। এদিকে চূড়ান্ত তালিকার পরে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম নিশ্চিতভাবে বাদ পড়বে। তখন কি হবে সেটাই দেখার।

এই পরিবারগুলির কী ভবিষ্যৎ?
সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ ভারত সরকারের রাষ্ট্রহীন নাগরিকদের জন্য কোনও নীতি নেই। তবে যেটা স্পষ্ট জানা গিয়েছে, তা হল রাষ্ট্রহীনদের কোনও ভোটাধিকার থাকবে না। মানবিকতার খাতিরে তাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। কেন্দ্র এই মানুষদের জন্য আলাদা করে নিয়ম তৈরি করবে। তবে কাজ, আশ্রয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষার আবশ্যিক অধিকার তাঁরা পাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।












Click it and Unblock the Notifications