টি ২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ফাইনালে দুই বন্ধুর দ্বৈরথ, চাবিকাঠি কেন ল্যাঙ্গারের হাতে?
দুই বন্ধু। সেই স্কুলজীবন থেকে। দুজনেই টি ২০ বিশ্বকাপে নিজেদের দলকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছন। একজন নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল। অপরজন মার্কাস স্টইনিস। কাল দুবাইয়ে এই দুই বন্ধুর কোনও একজন প্রথমবার টি ২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাবেন। ফলে তাঁদের দ্বৈরথের দিকে তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

২০০৯ সালে স্কারবরোকে প্রিমিয়ারশিপ খেতাব জেতানোর পিছনে বড় অবদান ছিল স্টইনিস ও মিচেলের। সেমিফাইনালে স্টইনিস ১৮৯ রান করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। আর ফাইনালে মিচেল ২৬ রানে ৪ উইকেট নেওয়ায় স্কারবরো বেজওয়াটার-মরলেকে হারিয়ে প্রিমিয়ারশিপ খেতাব জয় করেছিল। ওয়াকায় স্কারবরোর সেই ড্রেসিংরুমেই উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার, যিনি চলতি টি ২০ বিশ্বকাপে স্টইনিসদের কোচ। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ওপেনার সেই ম্যাচে স্টইনিস, মিচেলদের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে সাক্ষাতকারে বলেছেন, বেজওয়াটার-মরলে ২৬৫ রান তাড়া করতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান তুলে ফেলেছিল। ল্যাঙ্গারের সঙ্গে কথা বল মিচেলকে বল দিয়েছিলাম, তিনিই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম স্পেলের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিয়েছিলেন মিচেল।

এই ম্যাচের বছর তিনেক আগে মিচেল নিউজিল্যান্ড থেকে পারথে এসেছিলেন। সুপার ১৪ রাগবি প্রতিযোগিতায় ড্যারিলের বাবা জন মিচেল ওয়েস্টার্ন ফোর্সের কোচ হয়ে এসেছিলেন। সেখানকারই হেল স্কুলে স্টইনিসের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় ড্যারিলের। সেই বন্ধুত্ব আজও অটুট, যদিও এখন তাঁরা খেলেন দুই দেশের হয়ে। স্টইনিস মিচেলের চেয়ে বছর দুয়েকের বড়, তবে স্টইনিস ও অস্ট্রেলিয়ার রাগবি ইউনিয়নের প্রতিনিধি ডেন হেলেট-পেটির সঙ্গে স্কুল দলের হয়ে খেলেছেন। স্টইনিস ও মিচেল একসঙ্গে বছর পাঁচেক অনুশীলন করেছেন। কখনও স্কারবরোতে হেরন ও ল্যাঙ্গারের তত্ত্বাবধানে, কখনও আবার ল্যাঙ্গারের মেন্টর নিল নডি হোল্ডারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে। পারথের রেভলিউশন স্পোর্টস ইনডোর সেন্টারে একসঙ্গে নেট ও জিমে বহু সময় কাটিয়েছেন স্টইনিস ও মিচেল। ড্যারিল মিচেল টি ২০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে সাক্ষাতকারে তাঁর কেরিয়ারে হোল্ডার ও ল্যাঙ্গার কত বড় ভূমিকা রেখেছেন সে কথা স্বীকারও করেছেন নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার, যিনি এবারের বিশ্বকাপেই প্রথম ওপেন করছেন। ফিনিশার হিসেবেও যথেষ্ট দক্ষ। স্কুল থেকে বেরিয়েই ক্লাব ক্রিকেটে ল্যাঙ্গারের মতো ক্রিকেটার, যাঁকে দেখে বড় হয়েছেন, তাঁর সঙ্গে স্কারবরোতে ড্রেসিংরুম শেয়ারের অভিজ্ঞতা তাঁর ক্রিকেট প্রতিভার বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক বলে জানিয়েছেন মিচেল।

পরে অবশ্য মিচেল ও স্টইনিস দুজনেই কেরিয়ারের স্বার্থেই পারথ ছাড়েন। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় স্টইনিস চলে যান মেলবোর্নে, ভিক্টোরিয়ার হয়ে খেলার লক্ষ্য নিয়ে। ২০১১ সালে মিচেল চলে যান নিউজিল্যান্ডে, নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে খেলার জন্য। তবে পুরানো সতীর্থদের সঙ্গে ফোনে বা দেখা হলে ব্যাটিং নিয়ে নানা পরামর্শ নিয়ে থাকেন। স্টইনিস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যতটা বেশি সুযোগ পেয়েছেন, ততটা কিউয়িদের হয়ে পাননি মিচেল। যদিও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর বিস্ফোরক ইনিংস নিঃসন্দেহে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। ফাইনালে স্টইনিসদের হারাতে পারলে ক্রিকেট কেরিয়ার আরও উত্তরণের দিকেই এগিয়ে যাবে মিচেলের। টি ২০ বিশ্বকাপে অজিদের বিরুদ্ধে কাল ২-০ করার লক্ষ্য নিয়েই নামবে নিউজিল্যান্ড। দুই বন্ধুর দ্বৈরথ যার বাড়তি আকর্ষণ হতে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications