Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

IPL 2021: কেকেআরের বিরাট-জয়ে অবদান রজনী-ভক্ত ভেঙ্কটেশের, উচ্চশিক্ষিত নাইটের উত্থান অনবদ্য

ভেঙ্কটেশ আইয়ার একাধারে মেধাবী ছাত্র, আবার রজনীকান্তের বড় ভক্ত। দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারে সচরাচর দেখা যায় সন্তানদের উচ্চশিক্ষার প্রতিই উৎসাহিত করে থাকেন অভিভাবকরা। কিন্তু ভেঙ্কটেশের ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক তার উল্টোটাই। উচ্চশিক্ষা লাভের পর মায়ের উৎসাহেই নামি সংস্থার চাকরি ছেড়ে ক্রিকেটে মনোনিবেশ। মধ্যপ্রদেশের হয়ে ধামাকাদার ব্যাটিং। আর তারপর আইপিএলের আসরে। আবু ধাবিতে সোমবার বিরাট কোহলির আরসিবিকে কেকেআর যাঁদের পারফরম্যান্সের নিরিখে চূর্ণ করল তাঁর মধ্যে অন্যতম ভেঙ্কটেশ, এদিনই যিনি নেমেছিলেন আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে।

মধ্য়প্রদেশের ভেঙ্কটেশ

মধ্য়প্রদেশের ভেঙ্কটেশ

মধ্যপ্রদেশে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যাটিং অলরাউন্ডারকে এবারের নিলামে ২০ লক্ষ টাকায় নিয়েছিল কেকেআর। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ২০১৮ সালে। তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয় ২০১৫ সালে। এই ফরম্যাটেই তাঁর দুটি শতরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ ৫০ ওভারে তিন উইকেটে ৪০২ রান তুলেছিল। জিতেছিল ১০৫ রানে। সেই ম্যাচেই ২০টি চার ও সাতটি ছক্কার সাহায্যে ১৪৬ বলে ১৯৮ রান করেন ভেঙ্কটেশ। আইপিএলের নিলামের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নজর কেড়েছিল এই ইনিংসটিই। ওপেন করতে নেমে ইনিংসের ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে তিনি রান আউট হয়েছিলেন দ্বিশতরান থেকে মাত্র দুই রান দূরে থেকে। বল হাতেও ২৪ রানে তুলে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। টি ২০ ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৩৮-এর উপরে। দুটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৮।

মায়ের কথায়

একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁকে ঘরে বসে বইয়ে মুখ গুঁজে বেশি বসে না থেকে বাইরে গিয়ে খেলাধুলো করতে বলতেন মা। তার জেরেই ক্রিকেট খেলা। তবে সিরিয়াসলি ক্রিকেটকেই কেরিয়ার হিসেবে বেছে নেন ১৯ বছর বয়সে। আইয়ারের বি. কম ডিগ্রির সঙ্গেই রয়েছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির ডিগ্রি। ২০১৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় টপারদের মধ্যে একজন ছিলেন ভেঙ্কটেশ। ক্রিকেট না পড়াশোনা, কোনটাকে বেছে নেবেন তা ঠিক করতে গিয়ে ভেঙ্কটেশ উভয় সঙ্কটে পড়েছিলেন সিএ ফাইনালের আগে।

মেধাবীর ক্রিকেটে মনোনিবেশ

মধ্যপ্রদেশের অনূর্ধ্ব ২৩ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ইতিমধ্যেই তখন টি ২০ ও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশ সিনিয়র দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন ভেঙ্কটেশ। সিএ ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে গেলে হয় ক্রিকেট ছাড়তে হতো, নাহলে সাময়িক ক্রিকেট কেরিয়ার থামিয়ে রাখতে হতোই। তখনই ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার কথা ভেবে সিএ থেকে সরে দাঁড়িয়ে এমবিএ পড়ার সিদ্ধান্ত নেন ভেঙ্কটেশ। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ভালো নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ভালো কলেজেও ভর্তি হন। ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, সেখানকার ফ্যাকাল্টি তাঁর ক্রিকেট প্রতিভা দেখে কলেজে উপস্থিতি, নোট তৈরি করা, সুবিধামতো পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাতেই ক্রিকেট কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। মেধাবী, আর সেই কারণেই ক্রিকেট ও পড়াশুনোয় ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে অসুবিধাই হয়নি ভেঙ্কটেশের। নিজের মেধার প্রতি আস্থা ভেঙ্কটেশের বরাবরই। তিনি মজা করে বলেছেন, ক্রিকেটে না এগোলে আমি নিশ্চিতভাবেই আইআইএম বা আইআইটিতে থাকতাম।

চাকরি ছেড়ে রঞ্জি অভিষেক

ইন্দোরে বর্ষাকালে যখন ক্রিকেটের অফ-সিজন, তখন সারা সপ্তাহ পড়াশোনা চালিয়ে চেন্নাইয়ে উইকেন্ড লিগে খেলেছেন ভেঙ্কটেশ। ২০১৮ সালে বেঙ্গালুরুতে বিগ ফোর-এর অন্যতম অ্যাকাউন্টিং ফার্ম ডেলয়েটের ভারতের সদর দফতরে চাকরি পান তিনি। কিন্তু সেই চাকরিও প্রত্যাখ্যান করেন ক্রিকেটের জন্যই। এ জন্য আক্ষেপ নেই। কারণ সেই বছরই তাঁর মধ্যপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি অভিষেক হয়। ভেঙ্কটেশের কথায়, ওই চাকরি নিলে আমাকে অন্য শহরে যেতে হতো। যার প্রভাব পড়ত ক্রিকেটে। আমার বাবা মানবসম্পদের কনসালট্যান্ট। মা হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে অনেক বছর কর্মরত ছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন আমার কমপ্লিট একটা বেসিক ডিগ্রি থাক। সে কারণেই এমবিএ পড়া। ফ্যাকাল্টিদের সহযোগিতায় ক্রিকেট চালিয়েও এমবিএ ডিগ্রি লাভ করতে পেরেছি।

খেলতে খেলতে এমবিএ

চাকরি ছাড়লেও যে ইনিংস তাঁকে রঞ্জি অভিষেকের সুযোগ করে দেয় তা কম নাটকীয় নয়। একদিনের ক্রিকেট মরশুম ভালো গেলেও শতরান পাননি। এরই মধ্যে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে দুটো তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ আসে। প্রথমটিতে রান পাননি। দ্বিতীয়টির মধ্যে আবার ছিল এমবিএ ইন্টারনাল পরীক্ষা। কলেজ গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে কয়েকটি সিগনাল ভেঙে মাঠে গিয়ে ভেঙ্কটেশ দেখেন দলের রান ৬ উইকেটে ৬০। মাঠে নেমে যখন গার্ড নিচ্ছেন তখনও তাঁর মাথায় ঘুরছে পরীক্ষায় কোনটা মিস করেছেন, কোনটা আরও ভালো লেখা যেত। সেই পরিস্থিতিতে দিনের শেষে ৯৬ রানে অপরাজিত থেকে পরের দিন শতরান পূর্ণ করেন। ১৩০-এর মতো রান করেছিলেন। তারপর ফের পরদিন কলেজে গিয়ে পরীক্ষা দেন। আর এই ম্যাচের শেষেই রঞ্জি অভিষেক হয় ভেঙ্কটেশের।

স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক

স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক

বিজয় হাজারে ট্রফির ১৯৮ রানের ইনিংস খেলার আগে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি ২০-তে ৫ ম্যাচে ২২৭ রান করেন, যা মধ্যপ্রদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বাধিক। গড় ৭৫.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৪৯.৩৪। আইপিএলের প্রথমার্ধে সুযোগ না পেলেও ড্রেসিংরুমে কাটিয়ে অনেক কিছু শিখে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। খেলার বাইরে ভেঙ্কটেশ বই পড়তে ভালোবাসেন। রান্নার শো আর মুভি দেখাও তাঁর পছন্দের। নিজেকে থালাইভার রজনীকান্তের ভক্ত বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন ২৬ বছরের অলরাউন্ডার। তামিল ব্লকবাস্টার পাড়ায়াপ্পায় রজনীকান্তের বিখ্যাত পাঞ্চলাইন ইয়েন ভাঝি, থানি ভাঝি, যার অর্থ আমার পথ ইউনিক, সেটাই নিজের জীবনের পাঞ্চলাইন হিসেবে মনে করেন ভেঙ্কটেশ। আইপিএলের অভিষেকেই দলকে জেতানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়ে আইয়ার বুঝিয়ে দিলেন তিনি লম্বা রেসেরই ঘোড়া। তাঁর সাহসী রিভার্স স্যুইপ যেমন মনে গেঁথে রইল, তেমনই একই ওভারে যুজবেন্দ্র চাহালকে তিনবার বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৬০ বল বাকি থাকতেই নাইটদের কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিলেন ভেঙ্কটেশ।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+