IPL 2025: খেতাব জেতা দল ধরে রাখতে না পারার কতটা মাশুল দিচ্ছে কেকেআর? শ্রেয়স-স্টার্কদের সাফল্য দেখে আক্ষেপ
IPL 2025: আইপিএলে গত বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এবার তিনটি ম্যাচ খেলার পর নাইটরা চলে গিয়েছে পয়েন্ট তালিতার একেবারে শেষে।
রামনদীপ সিংয়ের কথাতেই গতকাল স্পষ্ট হচ্ছে, এখনও উইনিং কম্বিনেশন চূড়ান্ত হয়নি। সেই সঙ্গে আক্ষেপ হচ্ছে খেতাবজয়ী দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারকে নিলাম থেতে নিতে না পারার জন্য।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে ৪৩ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে হারের পর রামনদীপ সিং বলেন, এটা খুবই হৃদয়বিদারক, যে কম্বিনেশন গড়ে তোলা হয় সেটাই তিন বছর অন্তর মেগা নিলামের কারণে ভেঙে যায়। দল বদলাতে থাকে। কিন্তু এটাই আইপিএলের অঙ্গ।
অন্য দলগুলির মতো কেকেআরও দ্রুত উইনিং কম্বিনেশন ঠিক করতে বদ্ধপরিকর, স্পষ্ট হয়েছে রামনদীপের কথায়। আজ বিকেলে মুম্বই থেকে শহরে ফিরছে কেকেআর। বৃহস্পতিবার ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচ। তারপর ৮ এপ্রিল লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে খেলবে নাইটরা।
The #KnightsArmy in Mumbai Nagariya 💜🤩 pic.twitter.com/qtmUkpbuzh
— KolkataKnightRiders (@KKRiders) March 31, 2025
আইপিএল নিলাম থেকে ২৩.৭৫ কোটি টাকায় বেঙ্কটেশ আইয়ারকে কিনেছে কেকেআর। তিনটি ম্যাচে দুটি ইনিংসে একবারও দুই অঙ্কের রান পাননি তিনি। আরসিবি ম্যাচে ৬ ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে তিন রানে আউট হয়েছিলেন।
রিঙ্কু সিং, আন্দ্রে রাসেল, হর্ষিত রানা ও রামনদীপ সিংকে নিলামের আগে ধরে রেখেছিল কেকেআর। তাঁরাও দাগ কাটতে ব্যর্থ। সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে উইকেট পাননি। নারিন রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচে খেলেননি। গতকাল ব্যাট হাতে শূন্য রান করার পর ৩ ওভারে দেন ৩২। বরুণ ৩ ওভারে দেন ১২। আইপিএলে তিন ম্যাচে তিনি তিনটি উইকেট পেয়েছেন।
কেকেআর ফিল সল্টের বিকল্প হিসেবে নেয় কুইন্টন ডি কককে। শ্রেয়স আইয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর অজিঙ্ক রাহানেকে নিয়ে অধিনায়ক করা হয়। মিচেল স্টার্কের বিকল্প হিসেবে নেওয়া হয় স্পেনসার জনসনকে। ডি কক আরসিবি ম্যাচে ৪ ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে ১ রান করেন। রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচে ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
অজিঙ্ক রাহানে আরসিবি ম্যাচে করেছিলেন ৫৬। রাজস্থান রয়্যালস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে করেন যথাক্রমে ১৮ ও ১১। স্পেনসার জনসন তিনটি ম্যাচ খেলে ঝুলিতে পুরেছেন মাত্র এক উইকেট। আরসিবি ম্যাচে ২.২ ওভারে ৩১ রান দেন। রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচে ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে পান ১ উইকেট। গতকাল ২ ওভারে দেন ১৪।
হর্ষিত রানা তিন ম্যাচে দুটি উইকেট পেয়েছেন, দুটিই রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে, ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে। আরসিবি ম্যাচে ৩ ওভারে ৩২ ও গতকাল মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ২ ওভারে ২৮ রান দিয়ে উইকেট পাননি।
আন্দ্রে রাসেল গতকাল ২.৫ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। আরসিবি ম্যাচে ৪ ও মুম্বই ম্যাচে ৫ রান করেন। রামনদীপ সিং গতকাল ২২ রান করেন। আরসিবি ম্যাচে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। রিঙ্কু সিং আরসিবি ম্যাচে ১২ ও মুম্বই ম্যাচে ১৭ রান করেছিলেন। এই খারাপ ফর্মের ফল ভুগতে শুরু করেছে কেকেআর।
এবার দেখা যাক কেকেআর যাঁদের ছেড়ে দিয়েছে তাঁদের পারফরম্যান্স। আরসিবির হয়ে খেলছেন ফিল সল্ট। ইডেনে কেকেআরের বিরুদ্ধে ৯টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে করেন ৩১বলে ৫৬। চেন্নাইয়ের চিপকে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ১৬ বলে ৩২, পাঁচটি চার ও ১টি ছয়ের সৌজন্যে।
শ্রেয়স আইয়ার আজ ফের নামবেন। গত ২৫ মার্চ আমেদাবাদে পাঞ্জাব কিংস খেলেছিল গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে। শ্রেয়স পাঁচটি চার ও ৯টি ছয়ের সাহায্যে ৪২ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
মিচেল স্টার্ক তো চলতি আইপিএলে সর্বাধিক উইকেটশিকারীদের তালিকায় দুইয়ে রয়েছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের স্পিনার নূর আহমেদের (৩ ম্যাচে ৯ উইকেট) পরেই। স্টার্ক ২ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং ৩৫ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট।
নীতীশ রানা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কেকেআরের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ৮ রান করেছিলেন। বল করলেও উইকেট পাননি। যদিও চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে তিনি ১০টি চার ও পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে ৩৬ বলে ৮১ রান করেছিলেন। ম্যাচের সেরাও হন। আর এগুলিই কেকেআরের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে!
কলকাতা নাইট রাইডার্সের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। নতুন যাঁরা এসেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডি কক। তিনি ৩ ম্যাচে একটি অর্ধশতরান হাঁকিয়েছেন। শতরানের খুব কাছে গিয়েও অধরাই থেকে গিয়েছে। গতবারের মতো এবারেও বল হাতে ভরসা দিচ্ছেন বৈভব অরোরা।
রাহানে অর্ধশতরান পেলেও তিনি সব ম্যাচে ব্যাট হাতে কার্যকরী হবেন কিনা সেটা বলা যাচ্ছে না। আবার সহ অধিনায়ক বেঙ্কটেশ আইয়ারও ছন্দে নেই। মঈন আলি সুনীল নারিনের জায়গায় রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচে খেলেছিলেন। ২টি উইকেটও পান। যদিও নারিন গতকাল দলে ফেরায় মঈনকে বাইরে রাখা হয়।
ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের আগে গতকাল রাসেলের প্রথমবার বল করতে গিয়ে দুই উইকেট নেওয়াও পজিটিভ দিক। আসন্ন দুটি হোম ম্যাচে কেকেআরের কম্বিনেশনে কী ধরনের বদল হয় সেদিকে নজর থাকবে। দুটি হোম ম্যাচ জিতলে নাইটরা চলে যেতে পারবে ভালো জায়গায়।












Click it and Unblock the Notifications