ICC CWC 2023: ম্যাক্সওয়েল যেন 'মৃত ব্যক্তি', মাঠ ছাড়তে চাইছিলেন! ফিজিও নিকের বুদ্ধিতে কীভাবে অতিমানবীয় ইনিংস?
ICC World Cup 2023: গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অপরাজিত দ্বিশতরান হারের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে। এটি বিশ্বকাপের সেরা ইনিংস কিনা তা নিয়ে তর্ক চলছে।
১৯৮৩ সালে কপিল দেব একইভাবে দলের ব্য়াটিং বিপর্যয় রুখে যে স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন, তার তুলনাও করা হচ্ছে ম্যাক্সওয়েলের শতরানের সঙ্গে।

৯১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও অজিরা ২৯২ রানের টার্গেটে গতকাল পৌঁছেছে আর কোনও উইকেট না হারিয়ে। ম্যাক্সওয়েলের বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় প্যাট কামিন্সের ৬৮ বলে অপরাজিত ১২ রানের ইনিংস। প্রবল চাপের মুখে রান তাড়া করতে নেমে ম্যাক্সওয়েলের এই দ্বিশতরান অমর হয়ে থাকবে।
১৯৮৩ সালে জিম্বাবোয়ে ম্যাচে ভারত অবশ্য প্রথমে ব্যাট করেছিল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। ১৭ রানে পড়ে গিয়েছিল ৫ উইকেট। ৭৭ রানে ষষ্ঠ, ৭৮ রানে পড়েছিল সপ্তম উইকেট। কপিল ১৬টি চার ও ৬টি ছয়ের সাহায্যে ১৩৮ বলে ১৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারত ৮ উইকেটে ২৬৬ তোলে। ম্যাচ জেতে ৩১ রানে।
তবে ম্যাক্সওয়েলের লড়াইটা ছিল অন্যরকম। আফগানিস্তানের মতো দলের কাছে হারলে মনোবলে বড় আঘাত লাগতো। উল্টে এই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে নিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম দেশ। তবে একটা সময় এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল যে ম্যাক্সওয়েল মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সকলেই দেখেছেন কীভাবে তিনি মাটিতে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্র্যাম্প। তারপরও অভাবনীয়, অতিমানবীয় ইনিংস সম্ভব হলো নিক জোন্সের জন্য। না, তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোনও ক্রিকেটার নন। বছর দুয়েক ধরে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে যুক্ত ফিজিও। ম্যাক্সওয়েল যখন যন্ত্রণাকাতর হয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন, তখন আপত্তি করেননি প্যাট কামিন্স। কিন্তু সেটা হলে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবেই হারতো।
নিক জোন্স ম্যাক্সওয়েলকে মাঠ ছাড়তে বারণ করেন। তিনি মাঠে ঢুকে ম্যাক্সওয়েলকে শান্ত রাখায় জোর দেন। ফ্লুইড দেওয়া হয়। হার্ট রেট পরীক্ষা করা হয়। সবচেয়ে বড় যেটা করেছিলেন তা হলো মনোবল বাড়ানো। ম্যাক্সওয়েল যে পারবেন সেই আত্মবিশ্বাসটাও তাঁকে বারবার জুগিয়েছিলেন জোন্স।
অস্ট্রেলিয়া তখন জয় থেকে ৫৫ রান দূরে। ফের ডাক পড়েছিল নিকের। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিক জানান, মাঠে গিয়ে দেখি ম্যাক্সওয়েল পড়ে রয়েছেন এমনভাবে যেন কেউ তাঁকে গুলি করেছে। যেন একজন মৃত মানুষ মাটিতে লুটিয়ে রয়েছেন। শরীরের বিভিন্ন অংশে তখন ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা দিয়েছে একইসঙ্গে।
ম্যাক্সওয়েল তখন নিককে বলেন, আমি আর পারছি না। আমি আর খেলতে পারব না। এবার বেরিয়ে যেতে হবে। প্যাট কামিন্স চাইছিলেন ম্যাক্সওয়েল মাঠের বাইরে গিয়ে শুশ্রূষার পর ফের সময়মতো মাঠে নামুন। কিন্তু নিক তখন উপলব্ধি করেন, মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে শুশ্রূষার পর, কুল ডাউন করার পর আর তাঁর পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না এই ম্যাচে।
কেন না, তাতে পুরো শরীরে ক্র্যাম্প ধরার সম্ভাবনা থাকতো। তখন নিক ম্যাক্সওয়েলকে বলেন, তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ব্যাট করতে পারবেন। তবে দৌড়ানোর দরকার নেই। বড় শট যাতে খেলতে পারেন, সেই শারীরিক পরিস্থিতিতে তাঁকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দৌড়ানো কমালেই ব্যাট করতে সমস্যা হবে না। নিক যে ভুল বলেননি তা দেখা গিয়েছে ম্যাচ চলাকালীনই।
মাঠে থাকলেই যে ম্যাক্সওয়েল সঠিক কাজ করবেন তা তাঁকে ও প্যাট কামিন্সকে বোঝান নিক। বাকিটা ইতিহাস। দাঁড়িয়ে থেকে যে সব শট ম্যাক্সওয়েল খেলেছেন তা দেখে মনে হতেই পারে ঈশ্বরের দান। দিনের শেষে নিক তৃপ্ত, সঠিক সময়ে তিনি সঠিক পরামর্শই দিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications