অধিনায়ক হলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোন তিন পেসারকে খেলাতেন, জানালেন হরভজন
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলতে নামবে। খেলা শুরু ১৮ জুন থেকে। ইংল্যান্ড সফরে ইতিমধ্যেই দাপট দেখাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রথম একাদশ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে চলছে জল্পনা। এ ব্যাপারে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং।

সিরাজের পক্ষে সওয়াল
জিওফ্রে বয়কট-সহ অনেকেই বলছেন সাউদাম্পটনে ভারতের চার পেসারেই নামা উচিত। কিন্তু ভারত তিন পেসার দুই স্পিনারে নামলে কাকে ছেড়ে কাকে খেলাবে তা নিয়েই চলছে জল্পনা। হরভজন সিং বললেন, পিওর ফাস্ট বোলারদেরই খেলানো উচিত। জশপ্রীত বুমরাহ ও মহম্মদ শামি প্রথম একাদশে নিশ্চিত। আমি অধিনায়ক হলে ইশান্ত শর্মা নয়, খেলাতাম মহম্মদ সিরাজকে। নিঃসন্দেহে ইশান্ত একজন অসাধারণ বোলার। কিন্তু এই ম্যাচটার জন্য আমার পছন্দ সিরাজই। গত দুই বছরে তাঁর বোলিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। বর্তমান ফর্মকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সিরাজের ফর্ম, পেস আর আত্মবিশ্বাসই ফাইনালে তাঁকে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। গত ছয় মাসে তিনি যেভাবে বোলিং করছেন, তাতে উইকেটের জন্য তাঁর খিদেটা তা বোঝা যাচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেটে ইশান্তের অবদান অনস্বীকার্য। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে সম্প্রতি চোট সারিয়ে তিনি দলে ফিরেছেন।

আত্মবিশ্বাসে ক্ষুরধার
হরভজন আইপিএলেও সিরাজের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করেছেন। তাঁর কথায়, ২০১৯ সালে আন্দ্রে রাসেলের কাছে বেধড়ক মার খেতে হয়েছিল সিরাজকে। অথচ এবারের আইপিএলে দেখা গেল উল্টো ছবি। তাঁর বলে গতি বেড়েছে। সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল রাখার পাশাপাশি ভালো ইয়র্কার দিয়েছেন। বেশ কয়েকবার রাসেলকে পেসে অস্বস্তিতে ফেলেছেন সিরাজ। ভারতীয় দলের হয়ে খেলাতেই সিরাজের এই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস আগামী তিন মাস ইংল্যান্ড সফরে আমরা দেখতে পারব বলে আশা রাখি। হরভজন আরও বলেন, সাউদাম্পটনের উইকেটে ঘাস থাকলে সিরাজ ভালোভাবে বল মুভ করাতে পারবে। সেই সঙ্গে তাঁর পেস সামলানো নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে একেবারেই সহজ হবে না। সিরাজ যে অ্যাঙ্গেলে বল করেন তা ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলতে যথেষ্ট। ব্যাটসম্যানদের চোখে চোখ রেখে তাঁদের ব্যাকফুটে ঠেলতে পারবেন আত্মবিশ্বাসী সিরাজ।

গিলে আস্থা
ভারতের প্রথম একাদশে শুভমান গিলকেও দেখতে চাইছেন হরভজন। তাঁর কথায়, প্রথম ইনিংসে ৩৭৫ থেকে ৪০০ তুলতে পারলেই বোলারদের পক্ষে তা যথেষ্ট। নিজের খামতিগুলি মেরামত করে নিয়ে গিলকে ভালো ব্যাট করতে হবে। বিশ্বকাপের সময় রোহিত শর্মা ইংল্যান্ডে সাদা বলে দারুণ খেলেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতাও আছে। ফলে ওপেনারদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন ১৫ রানে ২ উইকেট পড়ে যেতে বিরাট কোহলি ও চেতেশ্বর পূজারাকে হাল না ধরতে হয়। বরং বড় রানের ভিত গড়তে হবে ওপেনারদেরই।

বোলিং কম্বিনেশন
দুই স্পিনারে যাওয়া উচিত কিনা সে প্রসঙ্গে হরভজন সিং বলেন, এটা নির্ভর করবে ম্যাচের দিনের পরিস্থিতির উপর। এমনিতে ইংল্যান্ডে ঠাণ্ডা থাকবে। সাউদাম্পটনে স্পিনাররা কতটা সাহায্য পাবেন উইকেট থেকে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। একটু গরমভাব থাকলে পিচে ফাটল দেখা যেতে পারে, তাতে স্পিনারদের সুবিধা হবে। তবে কালো মাটির উইকেট হলে এবং ঠাণ্ডা থাকলে উইকেট ভাঙার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে টসের দিন এবং পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ীই বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে আমার মনে হয় না হার্দিক যেখানে নেই সেখানে ভারত চার পেসারে যাবে। যদি আউটফিল্ড আর উইকেট কোনটা তা বুঝতে না পারার মতো ঘাস থাকে তাহলে চার পেসার খেলানো উচিত।

জাদেজা থাকছেনই
হরভজন সিংয়ের মতে, রবীন্দ্র জাদেজা ভারতীয় টেস্ট দলের সাত নম্বরে অটোমেটিক চয়েস। তাঁর কথায়, ইংল্যান্ডে জাদেজার ব্যাটিং পারফরম্যান্সও অনেকের চেয়ে ভালো। বেশ কয়েকটা হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে, সবচেয়ে বল হাতে দারুণ কার্যকরী জাড্ডু। হার্দিকের অনুপস্থিতিতে দলে ভারসাম্য রাখতে জাদেজা তাই অটোমেটিক চয়েস। দুই স্পিনার থাকলে পেসারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আনতেও সুবিধা হবে কোহলির। তবে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থাকলে এবং পিচ কেমন হবে তার উপর নির্ভর করবে কী কম্বিনেশনে খেলানো উচিত এবং কাকে কতটা বোলিং করা উচিত। তবে চার পেসারে গেলে নিশ্চিতভাবেই একজনকে তুলনায় কম বল করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications