বিশ্ব-ক্রিকেটের ১৫ অনন্য রেকর্ড! যা অবাক করে দেয় ডাই-হার্ড ফ্যানদেরও
বিশ্ব-ক্রিকেটের ১৫ অনন্য রেকর্ড! যা অবাক করে দেয় ডাই-হার্ড ফ্যানদেরও
ভারতের মতো অনেক দেশেই ক্রিকেট আকর্ষণীয় খেলা হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটারদের দক্ষতা আর ক্রিকেটের থ্রিলারে মাত হয়ে গুণমুগ্ধের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেইসব ডাই-হার্ড ফ্যানরা অবাক হবেন, যদি দেখেন আপনাদের প্রিয় ক্রিকেটাররা অতিমানবীয় হয়ে উঠে কী সব অনন্য নজির গড়েছেন। সেইসব নজদির ক্রিকেট-ইতিহাসে খোদাই করা থাকবে যুগ যুগ।
আকর্ষণীয় ক্রিকেটের রেকর্ডগুলি দেখে নেওয়া যাক একঝলক

শেন ওয়ার্ন ও সনৎ জয়সুর্য
শেন ওয়ার্ন একজন কিংবদন্তি স্পিনার। তিনি ২৯৩ ওয়ানডে উইকেট নিয়েছেন। আর সনৎ জয়সুর্য তিনি আসলে একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান। কিন্তু তিনি ৩২৩ ওয়ানডে উইকেট নিয়েছেন! অবাক হলেন, না!

৮ নম্বরে নেমে ২৫৭ অপরাজিত
আপনি একজন আট নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে কেমন পারফর্ম আশা করেন? কখনও ভেবেছেন কি আট নম্বরে নামা কোনও ব্যাটসম্যান ২৫৭ রানে অপরাজিত থাকতে পারেন। জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ওয়াসিম আক্রাম ক্রিকেট বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিলেন ওই কীর্তি গড়ে। উল্লেখ্য, শচীন, সৌরভ এবং ক্যালিসের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর যথাক্রমে ১৪৮, ২৩৯ এবং ২২৪।

জীবনের শেষ ম্যাচে অনন্য রেকর্ড
জীবনের শেষ ম্যাচ ব্র্যাডম্যানও স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। পেরেছিলেন জেসন গিলেসপি। অস্ট্রেলিয়ান এই ফাস্ট বোলার টেল-এন্ডারদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ টেস্ট ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি (২০১*) করেছিলেন। মজার ঘটনা, এটি ছিল তাঁর ক্রিকেট জীবনের প্রথম ডাবল।

ভারতীয় হিসেবে দ্রুততম ওয়ান ডে ৫০
৯০-এর দশকের বিখ্যাত অলরাউন্ডার অজিত আগরকার এখন পর্যন্ত একজন ভারতীয় হিসেবে দ্রুততম ওয়ানডে ৫০ রানের রেকর্ড করেছেন! তিনি ২১ বলে নিজের অর্ধশতকে পৌঁছেছিলেন।

কেরিয়ারে কখনই ১০০ বলের বেশি ক্রিজে ছিলেন না!
পাকিস্তানি ক্রিকেট হার্টথ্রব অলরাউন্ডার শাহিদ আফ্রিদি বিখ্যাত ছিলেন তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য। তাঁকে এ জন্য 'বুম বুম আফ্রিদি' বলা হয়। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো বিষয়, তিনি কখনই ১০০ বলের বেশি ক্রিজে ছিলেন না!

ব্র্যাডম্যান কেরিয়ারে মাত্র ৬টি ৬ মেরেছিলেন!
বিশ্ব ক্রিকেট যাঁকে স্যালুট করে, সেই ডন ব্র্যাডম্যান তাঁর পুরো টেস্ট কেরিয়ারে মাত্র ৬টি ছক্কা মারতে সফল হয়েছিলেন। ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে মানা হয়। ৯৯.৯৪ করে যাঁর ব্যাটিং গড়, মাত্র ৫২টি টেস্ট কেলে ৬৯৯৬ রান করছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছক্কার খরা। দুর্ভাগ্যক্রমে এই ৬টি ছক্কার একটি ভারতের বিরুদ্ধে এসেছিল।

সবথেকে বেশিবার টেস্ট ক্রিকেটে নট আউট
কোর্টনি ওয়ালশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফার্স্ট বোলার। তিনি এমন এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন যা ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য হয়ে রয়ে যাবে। তিনি সবথেকে বেশিবার টেস্ট ক্রিকেটে নট আউট ছিলেন।

‘ব্যাটসম্যান’ ইনজির প্রথম বলেই লারা আউট
ব্যাটিংই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। তবু বল হাতে তিনি বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন একবার। আন্তর্জাতিক ম্যাচে বোলিং অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। তবু মাত্র ২১ বছর বয়সে ইনজামাম উল হক প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন। বাম আর্ম স্পিনের ব্যাটসম্যানের রক্ষণ ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি। ব্যাটসম্যানটি কে ছিলেন, তা জানলে আরও অবাক হবেন। ইনজির বোলিংয়ের সামনে ব্যাট করছিলেন ব্রায়ান লারা!

বিশ্বকাপে লোগো মোহান্তির বোলিং অ্যাকশন
অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন ছিল ওড়িশার সুইং বোলার দেবাশিস মোহান্তির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কেরিয়ার বড় করে তুলতে না পারলেও, ক্রিকেট বিশ্বকাপের সপ্তম সংস্করণে লোগো করা হয়েছিল তাঁর বোলিং অ্যাকশনকে।

একদিনের ক্রিকেটে সবথেকে বেশি ব্যাটিং গড়
রায়ান টেন দুশখাতে একজন দুর্বল দেশের ক্রিকেটার। নেদারল্যান্ডের এই ক্রিকেটারের একদিনের ক্রিকেটে সবথেকে বেশি ব্যাটিং গড়। তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৭.০০। এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন ২০টি ইনিংস খেলা যে কোনও ব্যাটসম্যানের পক্ষে সর্বোচ্চ। এবং তারপরে রয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৯.৯৭।

কেরিয়ারে মোট রানের থেকে উইকেট বেশি
নিউজিল্যান্ডের মিডিয়াম পেস বোলার ক্রিস মার্টিন এবং ভারতের লেগ স্পিনার ভাগবৎ সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখর মোট রানের থেকে বেশি উইকেট নিয়েছিলেন। মার্টিন তাঁক কেরিয়ারে ২৩৩ উইকেট নিয়েছিলেন। রান করেছিলেন মোট ১২৩। আর চন্দ্রশেখর তাঁর কেরিয়ারে ২৪২ উইকেট নিয়েছেন এবং মোট ১৬৭ রান করেছেন।

শচীনের থেকে বেশি গড় হারিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারের
ক্রিকেটে যে সম্ভাব্য প্রতিভাগুলি নষ্ট হয়ে গেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিনোদ কাম্বলি। ভালো শুরু করেও শেষ করতে পারেননি। হারিয়ে গিয়েছেন অন্ধকারে। টেস্টে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়ের রেকর্ড এখনও সেই বিনোদ কম্বলির নামে। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৪.২০, যা শচীন তেন্ডুলকারের ৫৩.৭৮-এর থেকে বেশি।

‘ব্যাটসম্যান’ আগরকরের কীর্তি যা শচীনেরও নেই
ভারতের অলরাউন্ডার অজিত আগরকর আরও একটি কীর্তি গড়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটে। যে কীর্তি ভারতীয় ক্রিকেটের ঈশ্বর বলে যাঁকে মানা হয়, সেই শচীন তেন্ডুলকারও পারেননি। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে আগরকর লর্ডস-এর ময়দানে ১৯০ বলে ১০৯ রান করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি।

চোটের কারণে কোনও ম্যাচ মিস করেননি
কপিল দেব একমাত্র ফার্স্ট বোলার, যিনি কোনওদিন চোটের কারণে কোনও টেস্ট ম্যাচ মিস করেননি। কপিল দেব তাঁর ১৬ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাত্র একটি টেস্ট মিস করেছেন। তিনি ১৩১ টি ম্যাচ খেলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের টেস্টের পঞ্চম দিনে খেলে র্যাশ স্ট্রোকের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ভারত শেষ পর্যন্ত ওই টেস্ট হেরেছিল। এই ঘটনার আগে তিনি টানা ৬৬টি ম্যাচ খেলেছিলেন এবং তারপর ৬৫টি টেস্ট খেলেছিলেন টানা।












Click it and Unblock the Notifications