কীভাবে সচিনের পরিবর্তে টিম ইন্ডিয়ার নেতা হন সৌরভ, দুই দশক পর রহস্যমোচন
কীভাবে টিম ইন্ডিয়ার নেতা হন সৌরভ, দুই দশক পরে রহস্যমোচন প্রাক্তন নির্বাচকের
ম্যাচ ফিক্সিংয়ে বিপর্যস্ত ভারতীয় ক্রিকেট যার হাত ধরে অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরেছিল, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় না থাকলে যে কী হত, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। অথচ সেই ব্যক্তির নাকি এত বড় দায়িত্ব নেওয়ার কথাই ছিল না। তবু বাধ্য হয়েই নাকি মহারাজের হাতে টিম ইন্ডিয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই সময়ের জাতীয় নির্বাচকরা। তা কীভাবে সম্ভব হল, সেটাই জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ে প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক চান্দু বোরদে।

অধিনায়ক সৌরভের পরিসংখ্যান
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল। টিম ইন্ডিয়াকে ১৪৬টি ওয়ান ডে-তে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহারাজ। ৭৬টি ম্যাচ জিতেছে ভারত। ৬৫টি ম্যাচে হার হজম করতে হয়েছে। অন্যদিকে সৌরভের নেতৃত্বে ৪৯টি টেস্ট খেলে ২১টি ম্যাচ জিতেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। তার মধ্যে ১১টি জয় এসেছে বিদেশের মাটিতে। মহারাজের নেতৃত্বেই টেস্ট ক্রম তালিকায় আট নম্বর স্থান থেকে দুই নম্বরে উঠে এসেছিল ভারত।

মহারাজের সাফল্য
অধিনায়ক হিসেবে দেশকে ২০০২-র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ঐতিহাসিক ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি উপহার দিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তরুণ টিম ইন্ডিয়াকে ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েও দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হার হজম করতে হয়েছিল। সেই অস্ট্রেলিয়াকেই তাদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ ড্র করিয়েছিল সৌরভ ব্রিগেড। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাটিতে ওয়ান ডে সিরিজ হারানো প্রথম ভারতীয় অধিনায়কও ছিলেন মহারাজ। পাকিস্তানকেও তাদের মাটিতে টেস্ট ও ওয়ান ডে সিরিজ হারানো প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক ছিলেন বিসিসিআই সভাপতি।

অস্বীকার করেছিলেন সচিন
ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্বাসিত হওয়া মহম্মদ আজহারউদ্দিনের পরিবর্তে ভারতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়েছিল সচিন তেন্ডুলকরকে। মাস্টার ব্লাস্টারের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে পর্যুদস্ত হয়েছিল নীল বাহিনী। সেই ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন লিটল মাস্টার। অনেক অনুরোধ করেও সচিনকে রাজি কারানো যায়নি বলে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের সেই সময়ের প্রধান নির্বাচক চান্দু বোরদে। বলেছেন, সচিন তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি শুধু নিজের ব্যাটিং-এর ওপর মনোনিবেশ করতে চান।

অগত্যা সৌরভ
কেন তাঁকেই বারবার ভারতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়, সেই সময় নির্বাচকদের প্রশ্ন করেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। কোনও উপায় না দেখে হাতের পাঁচ তরুণ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চান্দু বোরদে। বলেছেন, এক বাক্যেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন মহারাজ। যা শুনে ক্রিকেট প্রেমীদের বক্তব্য, ভাগ্যিস অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর! না হলে হয়তো ভারতীয় ক্রিকেট দলের নব উত্থান সম্ভব হতো না।












Click it and Unblock the Notifications