সচিনকে কাঁধে নিয়ে ভিকট্রি ল্যাপই সেরা মুহূর্ত, বিশ্বজয়ের ১০ বছরে স্মৃতিমেদুর রাজা ভেঙ্কট
২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের দশ বছর উদযাপন চলছে আজ। ঠিক ১০ বছর আগে আজকের দিনেই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। সেই সময় ভারতীয় দলের নির্বাচকদের মধ্যে পূর্বাঞ্চল থেকে ছিলেন রাজা ভেঙ্কট। কলকাতায় বসে আজ তিনি কথা বললেন ওয়ান ইন্ডিয়ার সঙ্গে।

বিশাল সম্মান
রাজা ভেঙ্কট বললেন, ভারত যেভাবে এই বিশ্বকাপ জিতেছিল সেটা একটা বিশাল সম্মান। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ছিল গেম চেঞ্জার। ওই বিশ্বকাপ জয়ের পরই বদলে যায় ভারতীয় ক্রিকেট। তারপর ২০১১-র বিশ্বজয় একটা বিশাল ব্যাপার। এই রেকর্ড কেউ আমাদের থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। ১৯৮৩ আর ২০১১ বিশ্বকাপ জয় ভারতকে ইতিহাসে ঠাঁই দিয়েছে। তবে আমাদের সামনে তাকাতে হবে। সামনে তাকানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপ অধরা
২০১১-র পর আর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি ভারত। যদিও রাজা ভেঙ্কট মনে করেন, ২০১৯ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জেতা উচিত ছিল। তাঁর কথায়, শেষ যে বিশ্বকাপ হয়েছে তাতে আমাদের দলই সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল অন্যদের চেয়ে। বিশ্বকাপ অধরা থেকে গিয়েছে ক্রিকেটার বাছাইয়ে দু-একটা ভুল থাকায়। চারে বিজয় শঙ্করকে নেওয়া উচিত হয়নি। ৫০ ওভার ক্রিকেটে একজন সলিড ব্যাটসম্যান প্রয়োজন হয়, যিনি মিডল অর্ডারে দলকে ভরসা দিতে পারেন। বিজয় শঙ্কর ততটা সক্ষম নয় বলেই আমার ধারণা। বরং মহেন্দ্র সিং ধোনি তখন ফিনিশার ছিলেন না। তিনি যদি চারে নামতেন তাহলে ইনিংস বিল্ড করতে পারতেন। অনেকটাই মজবুত হতো ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ।

এগারোর সেরা
২০১১ বিশ্বকাপ ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এতটাই গেঁথে রয়েছে যে মনে হয় এই তো সেদিনের ঘটনা! বহু সোনালি স্মৃতির ভিড়। তবে রাজা ভেঙ্কটের কাছে সেরা মুহূর্ত সচিনকে কাঁধে তুলে বিরাটদের সেই ভিকট্রি ল্যাপ। রাজা ভেঙ্কটের কথায়, এই দলে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা সদস্য ছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। এটা ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। বিরাটরা বলল, সচিন এতদিন নিজের কাঁধে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আজ তাঁকে আমরা কাঁধে নিয়ে ঘুরছি। এটা এক অনন্য সম্মান, শ্রদ্ধা প্রদর্শন। কারণ, সচিনকে তো আমরা অল টাইম গ্রেটদের মধ্যেই ফেলি। তাই সচিনকে কাঁধে নিয়ে সতীর্থদের ভিকট্রি ল্যাপই আমার কাছে সেরা মুহূর্ত।

দলগত সংহতি, গম্ভীরের অবদান
২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ের কথা এলে প্রথমেই আসে ধোনির সেই ম্যাচ জেতানো ছক্কার কথা। যদিও দলগত সংহতিতেই ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল বলে জানিয়ে দিলেন রাজা ভেঙ্কট। ২৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই ০ রানে ফিরেছিলেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগ। ৩১ রানের মাথায় ১৪ বলে ১৮ রান করে মালিঙ্গার দ্বিতীয় শিকার হন সচিন তেন্ডুলকর। এরপর ৮৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন বিরাট কোহলি ও গৌতম গম্ভীর। কোহলি আউট হন ৩৫ রান করে। তারপর গম্ভীর ও ধোনির জুটিতে ওঠে ১০৯ রান। তিন রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করে ফেরেন গম্ভীর। রাজা ভেঙ্কট বলেন, ভারতের ইনিংস গড়েছেন গম্ভীরই। দুই ওপেনারের পর কম রানে গম্ভীর আউট হলে আমাদের সমস্যা বাড়ত। কোহলিও তাঁকে সঙ্গত দিয়েছেন। বিশ্বকাপ জয়ে ধোনির অবদান আছে। কিন্তু একা ধোনির জন্য ভারত জেতেনি, জিতেছে দলগত সংহতিতেই। কারণ, ফাইনালে অপরাজিত ৯১ করার আগে ধোনি বলার মতো রান পাননি। ফলে বাকিদের অবদান না থাকলে তো আমরা ফাইনালেই উঠতাম না। তাই ক্রিকেটাররা গম্ভীরের ইনিংসকে গুরুত্ব দেন। যাঁরা খেলা বোঝেন না, ভাবেন এক ছক্কাতেই ম্যাচে ফারাক তৈরি হয়, তাঁদের কাছে ধোনির ছক্কা বড় ব্যাপার হতে পারে।

ফাইনালের পর অন্য দল
গৌতম গম্ভীর সম্প্রতি আক্ষেপ করেছেন, এমনকী হরভজনও আক্ষেপ করেছেন বিশ্বকাপের সেই একাদশকে আর মাঠে দেখা যায়নি বলে। এ প্রসঙ্গে রাজা ভেঙ্কট জানালেন, বিশ্বকাপের পর আরও বছরখানেক আমরা ছিলাম। তবে এটা জোর করে বা ইচ্ছে করে করা হয়নি। সচিন অবসর ঘোষণা করলেন। দু-একজনের চোটও ছিল। যুবরাজ সিংয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ল। সবমিলিয়ে একট অন্য পরিস্থিতি তৈরি হলো। সে কারণেই ওই দলকে আর মাঠে দেখা যায়নি।

বিশ্বকাপের দল নিয়ে
বিশ্বকাপের অনেক আগেই দল তৈরি করে এগিয়ে যাওয়া উচিত বলেই মনে করেন রাজা ভেঙ্কট। তিনি বললেন, ২০১১ বিশ্বকাপের ২ বছর আগে থেকে আমরা তৈরি করে ফেলেছিলাম দল। ব্যাটিং ঠিকই ছিল। বোলিংয়ে কিছু সমস্যা ছিল। তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিয়ে বোলারদের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রবীণ কুমার দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোট পাওয়ায় মুনাফ প্যাটেলকে খেলাতে হলো। আর রোহিত শর্মাকে আমরা বাদ দিইনি। অধিনায়ক ধোনিই পীযূষ চাওলাকে দলে চেয়েছিলেন।

বিরাটে সৌরভ
অধিনায়ক বিরাট কোহলির মধ্যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের গুণ খুঁজে পান রাজা ভেঙ্কট। তিনি বললেন, বিরাট সব সময় সতীর্থদের পাশে দাঁড়ান। যেটা সৌরভ করতেন, সব সময় ব্যাক করতেন টিম মেম্বারদের। কোহলি অনেকটা সেইরকম। বরং হেরে গেলে ধোনিকে দেখেছি অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে। সামনে টি ২০ ও ৫০ ওভারের বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপ রয়েছে। বিরাটের এই দলকে নিয়ে আশাবাদী রাজা ভেঙ্কট। তিনি বললেন, এখন যে দল রয়েছে তা অনেক শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়ার সেই শক্তি নেই। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড কিছুটা ভালো, নিউজিল্যান্ডও রয়েছে। তবে ভারত অনেক এগিয়ে। ব্যাটিংয়ে ৯ নম্বরে নেমেও ৫০ করার মতো প্লেয়ার আছেন। আগে বোলিংয়ে সমস্যা ছিল। তবে এই দলে ভালো বোলারার থাকায় বোলিং শক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী।












Click it and Unblock the Notifications