স্বরূপনগরের এই কালীপুজোয় জড়িয়ে মোঘল আমলের ইতিহাস, এসেছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণও
স্বরূপনগরের এই কালীপুজোয় জড়িয়ে মোঘল আমলের ইতিহাস, এসেছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণও
আকবর থেকে শুরু করে রানি রাসমণি, প্রাচীন ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে, বসিরহাট মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্বরূপনগর ব্লকের বিথারী গ্রামের চক্রবর্তী পরিবারের খয়রা কালীপুজো বহু যুগ ধরে প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলছে।

পুজোর ইতিহাস ঘেঁটে জানা গিয়েছে, মোঘল সম্রাট আকবরের সভার হিন্দুশাস্ত্রের পন্ডিত ছিলেন গোপাল সার্বভৌম। তিনি ছিলেন একজন তান্ত্রিক মতে দীক্ষিত। তার পুজোপাঠও ছিল তান্ত্রিকমতে। মোঘল সম্রাটের নির্দেশে অবিভক্ত বাংলাদেশের চাঁদড়া গ্রামের জমিদার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বর্তমান মন্দিরের পশ্চাতে বাঁওড়ের পাশে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের জোড়া মৃম্ময়ী প্রতিমা তৈরি করে তান্ত্রিক মতে পুজো সম্পন্ন করার পর পুনরায় স্বপ্নাদেশ পান। তাতে এই দৈবাদেশ হয় যেন একটি মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয় ও আর একটি মূর্তির স্থায়ীভাবে নিত্যমপুজো শুরু হয়।
এরপর আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা তথা জানবাজারের রাণি রাসমণির তৃতীয় জামাতা মথুরামোহন বিশ্বাস ছিলেন বিথারী গ্রামের বাসিন্দা। তারই উদ্যোাগে একবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এসে এই মন্দিরে পুজোপাঠ করেন। তারপর কলকাতায় ফিরে গিয়ে ঠাকুর রানিমাকে সব জানাতেই ধর্মপ্রাণা রানিমার উদ্যোগে সেখানে শুরু হয় পাকা মন্দির তৈরির কাজ, মায়ের প্রস্তর মূর্তি নির্মাণ হয়। সেই শুরু, এখনও চলছে নিত্যপুজো।

রানিমার নির্দেশে এই মন্দিরের চারপাশে বারোজীবি মানুষের বাস, কুম্ভকার, কর্মকার, স্বর্ণকার, কাহার থেকে শুরু করে মুসলমান সম্প্রদায়ের বাজনদার বাস করে মন্দিরকে ঘিরে। এখনও পর্যন্ত পুরনো রীতি মেনে কাহার সম্প্রদায়ের মানুষরা মন্দির পরিষ্কারের দায়ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

এই মন্দিরের পাশের জেলেপোতা এলাকায় মুসলমান সম্প্রদায়ের জেলেদের থেকে প্রাপ্ত খয়রা ইলিশ দিয়ে মায়ের ভোগ রন্ধন হয়, তাই মায়ের নাম খয়রাকালী, এখানেই মায়ের নামের সার্থকতা। এখনও পর্যন্ত এই ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সাক্ষী করে জাগ্রত খয়রা কালী তার জাগৃতি প্রকাশ করছে।












Click it and Unblock the Notifications